পর্যটন নগরী কক্সবাজার

সড়কে ট্রেনে সৈকতে রিসোর্টে কোথাও নিরাপদ নন পর্যটক

২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সৈকতে ডুবে ৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেনে ৫০টি পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় শতাধিক যাত্রী আহত হয়েছেন। ট্রেনে কাটা পড়ে মারা গেছেন ১০৪ জন। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে গত বছর ১৩৪ জন এবং চলতি বছর (সেপ্টেম্বর পর্যন্ত) আরো ৭৪ জনের মৃত্যু হয়েছে

দেশের প্রধান পর্যটন কেন্দ্র কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত। বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকতকে ঘিরে সারা বছরই পর্যটকের সমাগম থাকে। প্রধান ধর্মীয় উৎসবের পাশাপাশি দীর্ঘ ছুটিতে লক্ষাধিক পর্যটক কক্সবাজারে আসেন। কয়েক বছর ধরে রেলসংযোগ চালু হওয়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকের আগমন আরো বেড়েছে। কিন্তু পর্যটকের সংখ্যা বাড়লেও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা সে অনুপাতে জোরদার হয়নি। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে দুর্ঘটনা, চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ, সৈকতে ডুবে মৃত্যু, এমনকি রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে পর্যটকের প্রাণহানির মতো ঘটনা যেন নিয়মিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

২০২৩ সালের ডিসেম্বরে রেলসেবা চালুর পর কক্সবাজারে পর্যটকদের আগ্রহ আরো বেড়েছে। বর্তমানে ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে প্রতিদিন চার জোড়া ট্রেন চলাচল করছে। ২৬ অক্টোবর ঢাকা থেকে পাঁচ জেলা ও বিভিন্ন উপজেলায় যাত্রাবিরতি দিয়ে আরো একটি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল শুরু করবে। তবে রেলসেবা চালুর পর থেকেই কক্সবাজার রুটের ট্রেনগুলোতে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা বেড়েছে। বিভিন্ন লেভেল ক্রসিংয়ে প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় ট্রেনে কাটা পড়ে দুর্ঘটনা এবং দুর্ঘটনার পর ট্রেন আটকে বিক্ষোভের ঘটনাও ঘটছে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক দুই লেন থেকে চার বা ছয় লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা দীর্ঘদিনের হলেও তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। সরু ও আঁকাবাঁকা এ মহাসড়কে নিয়মিত দুর্ঘটনার কারণে সড়কপথেও কক্সবাজার যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে ২০২৫ সালে ১০৬টি দুর্ঘটনায় ১৩৪ জনের মৃত্যু ও কয়েকশ যাত্রী আহত হয়েছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৬১টি দুর্ঘটনায় ৭৪ জনের মৃত্যু ও শতাধিক যাত্রী আহত হয়েছে। অন্যদিকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটের ট্রেনে ৫০টি পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছে শতাধিক যাত্রী। এছাড়া ছোট-বড় মিলিয়ে এ পর্যন্ত ২২টি ট্রেন দুর্ঘটনাকবলিত হয়েছে। ক্রসিং অব্যবস্থাপনাসহ ট্রেনে কাটা পড়ে মারা গেছে ১০৪ জন।

গত কয়েক বছরে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে গোসলে নেমে জোয়ারের পানিতে ভেসে যাওয়ার ঘটনাও বেড়েছে। দীর্ঘ এ সৈকতের কয়েকটি পয়েন্টে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার মাধ্যমে ২৭ জন লাইফগার্ড দায়িত্ব পালন করলেও পর্যটকের সংখ্যার তুলনায় এ জনবল খুবই অপ্রতুল। বিদেশী সংস্থার অনুদান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রায় প্রতি বছরই লাইফগার্ডদের বেতন-ভাতা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয় এবং কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। প্রধান কয়েকটি সৈকত পয়েন্টের বাইরে ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ উপকূলের নতুন পর্যটনস্থলগুলোতেও পর্যাপ্ত লাইফগার্ড নেই। ফলে প্রতি বছরই সমুদ্রে ডুবে পর্যটকদের মৃত্যুর ঘটনাও বাড়ছে।

২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সৈকতে ৭০ জন পানিতে ডুবে মারা গেছেন। এর মধ্যে ২০২৪ সাল থেকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সমুদ্রে ডুবে মৃত্যু হয়েছে ৪০ জনের। ২০১৬ সাল থেকে ১ হাজার ৭৭ জনকে উদ্ধার করেছে সেফগার্ড।

গতকাল সকালে মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটক মারা যান। এ ঘটনায় আরো কয়েকজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। রিসোর্টটির কোনো অগ্নিনিরাপত্তা সনদ ছিল না। কয়েক মাস আগেই অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়েছিল। তবে সে সতর্কতা আমলে নেয়নি রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কক্সবাজার শহরের হোটেল-মোটেলের বাইরে ভিন্নধর্মী ও প্রাকৃতিক পরিবেশে থাকার আগ্রহ বাড়ায় মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন রিসোর্টগুলোর প্রতি পর্যটকদের ঝোঁক দিন দিন বাড়ছে। এ সুযোগে নিয়মকানুন না মেনেই মেরিন ড্রাইভকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠছে একের পর এক পর্যটন স্থাপনা। তদারকি সংস্থাগুলো বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে সতর্ক করলেও কঠোর ব্যবস্থা না নেয়ায় ঝুঁকিও বাড়ছে।

কক্সবাজার হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম শিকদার বণিক বার্তাকে বলেন, ‘যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের ফলে পর্যটক আগমন বাড়লেও কোনো সংস্থাই প্রকৃত অর্থে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে পারছে না। মালিক সমিতির পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে দাবি জানানো হলেও সেগুলো বৈঠকেই সীমাবদ্ধ থাকে। তাছাড়া কক্সবাজারের পর্যটন খাতকে ঘিরে সাত-আটটি মালিক সমিতি থাকায় প্রকৃত দাবি তুলে ধরা এবং তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও বড় বাধা তৈরি হয়েছে।’ তার মতে, সরকার উদ্যোগ নিলেই কক্সবাজারের পর্যটন ও পর্যটনসেবার মান ধরে রাখার পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তা জোরদারে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব।

জেলা প্রশাসনের কার্যালয়, হোটেল-মোটেল মালিক সমিতি ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, কক্সবাজারকে কেন্দ্র করে ৫০০-৬০০টি হোটেল-মোটেল-রিসোর্টের তথ্য থাকলেও বাস্তবে এ সংখ্যা আরো বেশি। পর্যটনকেন্দ্রিক অবকাঠামো নির্মাণ ও পরিচালনার ক্ষেত্রে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, স্থানীয় সরকারি দপ্তরের ট্রেড লাইসেন্স এবং ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেয়ার কথা। তবে অনেক প্রতিষ্ঠান অনুমোদন ছাড়াই সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

বিশেষ করে মেরিন ড্রাইভকে কেন্দ্র করে ইনানী, হিমছড়ি ও পাটুয়ারটেক ছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয়ভাবে রিসোর্টকেন্দ্রিক পর্যটন ব্যবসা এখন জমজমাট। পর্যটকের সমাগম ও চাহিদা বাড়ায় এসব পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠলেও এগুলোর ওপর নির্দিষ্ট কোনো সংস্থার একক নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি নেই। ফলে নিয়মিত নানা ধরনের দুর্ঘটনার পাশাপাশি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাও ঘটছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ হোটেল-মোটেলসহ পর্যটন অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে কক্সবাজারকে ঘিরে একটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরির কাজ করছে। আগামীতে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার মধ্যে সমন্বয় করে ব্যবস্থাপনা কমিটির মাধ্যমে তদারকি কার্যক্রম বাড়ানো হবে। এর লক্ষ্য হবে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সেবার মান উন্নত করা।’

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস কার্যালয়ে মোট জনবল মাত্র ৩৫ জন। এর মধ্যে চালক পাঁচজন ও ফায়ার ফাইটার ২২ জন। অন্যদিকে চকরিয়ায় চালক চারজন ও ফায়ার ফাইটার ১৭ জন, পেকুয়ায় চারজন ও ১৬ জন, কুতুবদিয়ায় চারজন ও ১৬ জন, টেকনাফে পাঁচজন ও ১৭ জন, মহেশখালীতে দুজন ও ১০ জন, রামুতে দুজন ও ১২ জন এবং উখিয়ায় দুজন চালক ও ছয়জন ফায়ার ফাইটার রয়েছেন। এছাড়া উখিয়া স্যাটেলাইট ফায়ার সার্ভিস কেন্দ্রেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক চালক ও ফায়ার ফাইটারের পাশাপাশি অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের অন্যতম বৃহৎ পর্যটন নগরী কক্সবাজারে একটিমাত্র স্টেশনে সীমিতসংখ্যক যানবাহন ও ফায়ার ফাইটার দিয়ে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডে মানুষ ও অবকাঠামো রক্ষার কার্যক্রম পরিচালনা করা দুরূহ।

পর্যটন করপোরেশনের পরিচালনাধীন হোটেল শৈবালের ব্যবস্থাপক ও সৈকত ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব রায়হান উদ্দিন আহমেদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘৫ আগস্টের পর সৈকত ব্যবস্থাপনা কমিটির কার্যক্রম অনেকটা স্তিমিত হয়ে পড়ে। বিশেষ করে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে মনোনীত সদস্যদের কার্যক্রম স্থগিত থাকলেও সরকারি পর্যায়ে বৈঠক ও কার্যক্রম চলেছে।’ তিনি জানান, ট্রেন সার্ভিস চালুর পর কক্সবাজারে পর্যটকের সমাগম বেড়েছে। এ কারণে এখন থেকে বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির কার্যক্রম আরো জোরদার করা হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কক্সবাজারের পর্যটনসংশ্লিষ্ট এক সরকারি কর্মকর্তা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘কক্সবাজারের পর্যটন ব্যবস্থাপনা মূলত জেলা প্রশাসনকেন্দ্রিক। জেলা প্রশাসনের অধীনে একটি কমিটি রয়েছে, যেখানে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার প্রতিনিধি ও কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা সদস্য হিসেবে যুক্ত। কমিটি বছরে কয়েকবার এবং বিভিন্ন উৎসবের আগে বৈঠক করে কিছু সিদ্ধান্ত নেয়।’ তার মতে, কক্সবাজারের মতো একটি বৃহৎ পর্যটন এলাকায় এ ধরনের কমিটির মাধ্যমে কার্যকর পর্যটন ব্যবস্থাপনা কঠিন। পাশাপাশি সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে কক্সবাজারের পর্যটন ও পর্যটনসেবা দিন দিন আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।

কক্সবাজারের পর্যটন খাতের ওপর একক কোনো সংস্থার নিয়ন্ত্রণ না থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের পরিচালক (বিপণন ও পরিকল্পনা) আবু সেলিম মাহমুদ উল হাসান। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দেশের পর্যটন ও পর্যটনকেন্দ্রিক অর্থনীতির ব্র্যান্ড শহর কক্সবাজার হলেও এ সম্ভাবনাময় খাতের জন্য গ্রহণযোগ্য কোনো একক তদারকি সংস্থা নেই। ফলে স্থানীয়ভাবে জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সরকার জেলাভিত্তিক ট্যুরিজম বোর্ডের কার্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনা করছে। সচিব কমিটির অনুমোদন পেলে শিগগিরই এটি চালু করা সম্ভব হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘কক্সবাজারের পর্যটনকে এগিয়ে নিতে ট্যুরিজম বোর্ডের নিজস্ব জনবল কাঠামোর মাধ্যমে সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। শুধু শহরের কয়েকটি পয়েন্ট নয়, সারা দেশের উপকূলীয় পর্যটন এলাকায় সরকারিভাবে লাইফগার্ড নিয়োগ এবং রিসোর্ট, হোটেল-মোটেল নির্মাণে কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করা গেলে দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব হবে।’

তবে কক্সবাজারের ২০১৩ সালের মাস্টারপ্ল্যান সংশোধনের কাজ শুরু হয়েছে, আগামী ডিসম্বের থেকে জুনের মধ্যে এটি সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘মেরিন ড্রাইভের ৮০ কিলোমিটারের মধ্যে ২ হাজার ৫০০ স্থাপনা রয়েছে। আমরা নিয়মিত পরিদর্শনের মাধ্যমে দেড়শ প্রতিষ্ঠানকে চূড়ান্ত নোটিস দিয়েছি। টুপটুপ রিসোর্ট কর্তৃপক্ষকেও চূড়ান্ত নোটিস দেয়া ছিল। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ জিরো টলারেন্স প্রদর্শন করবে।’

আরও