রাজশাহী বিভাগে মোট অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা ১৬ লাখ ৮০ হাজার ৭১৭। এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মে নিয়োজিত আছেন ৩৪ লাখ ৯ হাজার ৩১৬ জন। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর অর্থনৈতিক শুমারি-২০২৪ এর চূড়ান্ত ফলাফলে এ তথ্য উঠে এসেছে।
আজ বৃহস্পতিবার রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক বিভাগীয় কর্মশালায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য জানানো হয়। অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৪-এর চূড়ান্ত ফলাফল অবহিতকরণ এবং স্ট্যাটিসটিক্যাল বিজনেস রেজিস্টার (এসবিআর) বিষয়ে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
কর্মশালায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম, রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক মো. গোলাম সাকলাইন এবং পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের যুগ্মসচিব মো. জাকির হোসেন।
কর্মশালায় জানানো হয়, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে দুটি ধাপে দেশের সব প্রতিষ্ঠান ও খানা তালিকাভুক্ত করা হয়। পরে ১০ থেকে ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত কম্পিউটারের সহায়তায় সরাসরি সাক্ষাৎকার পদ্ধতিতে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এ কাজে ৮৭ হাজার ৪১৯ জন গণনাকারী, ১৬ হাজার ৯৩৪ জন তদারককারী, ২ হাজার ২৭৭ জন জোনাল কর্মকর্তা এবং ২ হাজার ৫৭৭ জন তথ্যপ্রযুক্তি তদারককারী অংশ নেন।
রাজশাহী পরিসংখ্যান বিভাগীয় কার্যালয়ের যুগ্ম পরিচালক মো. আব্দুল হালিম জানান, তথ্য সংগ্রহের পুরো সময় কেন্দ্রীয় তথ্য পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে তথ্য পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। পাশাপাশি শুমারির তথ্যের মান যাচাইয়ে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান পরবর্তী যাচাই কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।
তিনি আরো জানান, চলতি বছরের ৭ এপ্রিল জাতীয় পর্যায়ে অর্থনৈতিক শুমারি-২০২৪-এর চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। সেই ফলাফল সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন, ব্যবসায়ী সংগঠন, গবেষক ও সংশ্লিষ্টদের কাছে তুলে ধরতেই বিভাগীয় পর্যায়ে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে।
পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের যুগ্মসচিব মো. জাকির হোসেন বলেন, এ তথ্য স্থানীয় পর্যায়ে পরিসংখ্যানের ব্যবহার বাড়াতে, বিনিয়োগের সম্ভাবনা চিহ্নিত করতে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উন্নয়নে এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে পরিসংখ্যানভিত্তিক ব্যবসা নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পর্কে সচেতনতা বাড়বে এবং ভবিষ্যতের পরিসংখ্যান কার্যক্রমে অংশীজনদের সহযোগিতা নিশ্চিত করা সহজ হবে।
তিনি জানান, অর্থনৈতিক শুমারি থেকে পাওয়া সব বড় ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে পরিসংখ্যানভিত্তিক ব্যবসা নিবন্ধনের আওতায় আনা হচ্ছে। এজন্য প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সংশ্লিষ্টদের বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক মো. গোলাম সাকলাইন বলেন, রাজশাহীতে বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা খুবই কম। এ অঞ্চলে কীভাবে আরো শিল্পকারখানা গড়ে তোলা যায়, সে বিষয়ে পরিকল্পনা নেয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে তথ্য দিয়ে এ কাজে রাজশাহী চেম্বার সহযোগিতা করবে। একই সঙ্গে অতীতে প্রতিষ্ঠিত অনেক শিল্পকারখানা কেন বন্ধ হয়ে গেছে, তা পর্যালোচনা করে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নেয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
উন্মুক্ত আলোচনায় রাজশাহী ইটভাটা মালিক সমিতির প্রতিনিধি মো. সদরুল ইসলাম বলেন, ব্যবসা পরিচালনায় চাহিদা ও সরবরাহসংক্রান্ত তথ্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় সঠিক তথ্যের অভাবে ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়েন। নিয়মিত জরিপের মাধ্যমে পরিসংখ্যান প্রস্তুত করা হলে তা ব্যবসায়ীদের কাজে আসবে।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের কমিশনার ফয়জুল কবির বলেন, পরিসংখ্যান তথ্য উপস্থাপনের একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। অন্যান্য বিভাগের তুলনায় রাজশাহীতে ব্যবসা-বাণিজ্য কম। এ অঞ্চলে কীভাবে ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য আরও সুযোগ সৃষ্টি করা যায়, সে বিষয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
উন্মুক্ত আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে সভাপতির সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে কর্মশালার কার্যক্রম শেষ হয়।