কুমিল্লায় লেভেল ক্রসিংয়ে যাত্রীবাহী বাসে ট্রেনের ধাক্কা, নিহত অন্তত ১২

ঢাকা মেইল ট্রেনটি চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা যাচ্ছিল। অন্যদিকে, মামুন স্পেশাল পরিবহন নামের বাসটি চুয়াডাঙ্গা থেকে লক্ষ্মীপুরের দিকে যাচ্ছিল। পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে বাসটি উঠে পড়লে ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। বাসটি দুমড়েমুচড়ে যায়। এ অবস্থায় বাসটিকে হিঁচড়ে আধা কিলোমিটার দূর পর্যন্ত নিয়ে যায় ট্রেনটি।

কুমিল্লায় একটি লেভেল ক্রসিংয়ে যাত্রীবাহী বাসে ট্রেনের ধাক্কায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছেন আরো অন্তত ১০ থেকে ১৫ জন। শনিবার রাত পৌনে ৩টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ার বাজার লেভেল ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনাটি ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা ইপিজেড ফাঁড়ি পুলিশের পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম।

এদিকে দুর্ঘটনার পর কয়েক ঘণ্টা ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। পরে সকালে ওই রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

আহতরা জানান, ঢাকাগামী ওয়ান আপ ট্রেন কুমিল্লা নগরীর পদুয়ার বাজার রেল ক্রসিং এলাকায় পৌঁছালে চট্টগ্রাম অভিমুখী মামুন স্পেশাল পরিবহনের একটি বাসের সাথে সংঘর্ষ ঘটে। বাসটি চুয়াডাঙ্গা থেকে লক্ষীপুরের দিকে যাচ্ছিল।

পুলিশ বলছে, পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে বাসটি উঠে পড়লে ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। বাসটি দুমড়ে-মুচড়ে গিয়ে ট্রেনের ইঞ্জিনের সঙ্গে আটকে যায়। এ অবস্থায় বাসটিকে টেনে-হিঁচড়ে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে নিয়ে যায় ট্রেনটি। খবর পেয়ে পুলিশের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস ও রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। আহতদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জনি বড়ুয়া জানান, দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন ঘটনাস্থলে এবং বাকিরা হাসপাতালে নেয়ার পর মারা যান।

ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মো. ইদ্রিস জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করা হয়। দুর্ঘটনাস্থল থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আর হাসপাতালে নেয়ার পর আরো নয়জনের মৃত্যু হয়।

তিনি আরো জানান, দুর্ঘটনার কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। উদ্ধার কার্যক্রম শেষে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার অজয় ভৌমিক গণমাধ্যমকে জানান, হতাহতদের হাসপাতালে আনা হয় রাত ৪টার দিকে। নিহত ১২ জনের মধ্যে সাতজন পুরুষ, দুজন নারী ও তিনজন শিশু।

কুমিল্লা ইপিজেড ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, রাত তিনটার দিকে আমরা দুর্ঘটনা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে হতাহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছি। মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।

আরও