এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৪ হাজার ৫৩৬ কোটি ১০ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ২ হাজার ৪৬৭ কোটি ২৬ লাখ টাকা। গতকাল একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত চলতি অর্থবছরের ১৩তম একনেক সভায় এ অনুমোদন দেয়া হয়।
একনেক সভায় চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চলে সবুজ ও টেকসই অবকাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা চালু এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির বাধ্যতামূলক ব্যবহার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সভায় পরিবেশগত সমস্যা সমাধান এবং প্রকল্পের নকশায় টেকসই জ্বালানি সমাধান অন্তর্ভুক্ত করার শর্তে ‘চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চলের জন্য সহায়ক অবকাঠামো প্রকল্প’ অনুমোদন করা হয়। সভা শেষে রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি এ তথ্য জানান।
শিল্পায়নের গতি ত্বরান্বিত করা ও বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে প্রায় ৪ হাজার ১৮৯ কোটি ৪৫ লাখ ৯৭ হাজার টাকা ব্যয়ে ‘সাপোর্টিং ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রজেক্ট ফর চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন’ প্রকল্পটি অনুমোদন দিয়েছে একনেক। মোট প্রকল্প ব্যয় ৪ হাজার ১৮৯ কোটি ৪৫ লাখ ৯৭ হাজার টাকার মধ্যে সরকার দেবে ১ হাজার ৭২২ কোটি ১৯ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। বাকি ২ হাজার ৪৬৭ কোটি ২৬ লাখ ১২ হাজার টাকা প্রকল্প ঋণ ও অনুদান থেকে আসবে।
প্রকল্প প্রস্তাব পর্যালোচনার সময় প্রধানমন্ত্রী পরিবেশ সুরক্ষা ব্যবস্থা আরো জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোকে প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেন। তিনি আধুনিক পরিবেশগত মান ও প্রটোকল অনুসরণ করে শিল্পবর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা গড়ে তোলার নির্দেশ দেন।
এদিকে গতকালের একনেক সভায় অনুমোদিত পাঁচ প্রকল্পের মধ্যে নতুন তিনটি এবং সংশোধিত প্রকল্প রয়েছে দুটি। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তিনটি প্রকল্প হলো ‘ফেনী জেলাধীন মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’; ‘করতোয়া নদী সিস্টেম উন্নয়ন’ ও ‘পদ্মা নদীর ভাঙন হতে কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলাধীন তালবাড়িয়া এবং কুমারখালী উপজেলাধীন শিলাইদহ ইউনিয়নের কোমরকান্দি এলাকা রক্ষা (প্রথম সংশোধন)’ প্রকল্প।
এছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন ‘১০০ উপজেলায় একটি করে টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপন (তৃতীয় সংশোধিত)’ প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
সভায় পরিকল্পনা মন্ত্রীর এরই মধ্যে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়সংবলিত চারটি প্রকল্প সম্পর্কে একনেক সভায় অবহিত করা হয়। সেগুলো হলো বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ঘাঁটি কক্সবাজারে বিমানসেনা ব্যারাক কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্প; সাভারে নৌ-বাহিনী স্কুল অ্যান্ড কলেজ স্থাপন প্রকল্প; বাংলাদেশ বিমানবাহিনী স্টেশন শমসেরনগরে বিদ্যমান বিএএফ শাহীন কলেজের শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষাদান সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প এবং প্যাগোডাভিত্তিক প্রাক-প্রাথমিক ও ত্রিপিটক শিক্ষা কার্যক্রম চতুর্থ পর্যায় প্রকল্প।
সভায় অংশ নেন অর্থ এবং পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ. ন. ম. এহছানুল হক মিলন, পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা।