ফ্যাসিবাদী শাসনামলে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সমস্যাগুলোকে সরকার অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে সময়ক্ষেপণ করতে চায় না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, গ্যাস, বিদ্যুৎ, শিল্প-কারখানা, শিক্ষা ও ব্যাংকিং ব্যবস্থাসহ প্রতিটি খাতে দুর্নীতি ও অনিয়মের পাহাড় তৈরি হয়েছিল। এসব সমস্যার কথা নতুন করে বলে সংসদের মূল্যবান সময় নষ্ট করতে চাই না। বরং সমস্যা মোকাবেলা করে জনজীবনে শান্তি, স্বস্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার এরই মধ্যে কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে বক্তব্য দেয়ার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।
গ্যাস ও বিদ্যুৎ নিয়ে জনগণের সাময়িক ভোগান্তির বিষয়ে সরকার সচেতন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ সমস্যা হঠাৎ সৃষ্টি হয়নি। ফ্যাসিবাদী শাসনামলে দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস উত্তোলনের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। বরং দেশকে পুরোপুরি আমদানিনির্ভর করে ফেলা হয়েছিল। মধ্যপ্রাচ্যই ছিল গ্যাস আমদানির প্রধান উৎস।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ সরকার দায়িত্ব নেয়ার ১০ থেকে ১২ দিনের মাথায় মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সেখান থেকে গ্যাস ও তেল আমদানিতে বাধা সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের দুটি এলএনজি টার্মিনালের একটি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সংকট আরো বেড়েছে। এ কারণে বর্তমানে গ্যাস ও বিদ্যুতের জন্য জনগণকে সাময়িক ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।
এ সমস্যা মোকাবেলায় বিরোধী দলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করলেও তা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সহযোগিতা তো দূরের কথা, বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা বিশাল গাড়িবহর নিয়ে ‘লং মার্চ’ করেছেন। জনগণকে অযথা উত্তেজিত করে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার পথ বেছে নেয়া হয়েছে। গাড়িবহর নিয়ে লং মার্চ করলেই যদি গ্যাস-বিদ্যুতের সমস্যা সমাধান করা যেত, তাহলে আমরাও তাতে অংশ নিতাম।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময়কার পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২২ সালের আগস্টে বিদ্যুৎ সংকট মোকাবেলায় তখন অফিসের সময়সূচি পরিবর্তন করে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৩টা করা হয়েছিল। স্কুলের ছুটি একদিন থেকে বাড়িয়ে দুদিন করা হয়েছিল। ব্যাংকের লেনদেনের সময়সূচিও পরিবর্তন করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, কোনো অজুহাত তুলে সরকার জনগণের দুর্ভোগ এড়িয়ে যেতে চায় না। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, যারা ২০০৯ সাল থেকে বছরের পর বছর ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রেখেছিল, তাদেরও বিদ্যুৎ সমস্যা মোকাবেলায় বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হয়েছিল। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের নামে কুইক রেন্টাল স্থাপন করে রাষ্ট্রের শত শত কোটি টাকা খরচ করেও তারা এ সমস্যার সমাধান করতে পারেনি।
জাতীয় সংসদের কার্যক্রম প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ সংসদে জাতীয় জীবনের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে প্রাণবন্ত আলোচনা হয়েছে। প্রতিটি আলোচনা কার্যকর ও অর্থবহ হয়েছে এমন দাবি করব না। তবে জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সংসদকেই সব আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু বানাতে চাই। এ সময় সংসদকে কার্যকর ও প্রাণবন্ত রাখায় সব সংসদ সদস্যকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
সংসদের প্রতি দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের প্রত্যাশা অনেক উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যদি মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারি তাহলে আমাদেরকে জনগণের আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। এ জন্যই আমি এবং আমার সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেয়ার প্রথম দিন থেকেই জনজীবনে সমৃদ্ধি, শান্তি এবং নিরাপত্তা বিধানের লক্ষ্যে নিরলস কাজ করে চলছি।
জনগণের সামনে বিদ্যমান পরিস্থিতি তুলে ধরার দায়িত্ব বিরোধী দলেরও রয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিরোধী দল এ দায়িত্ব পালন না করে উসকানিমূলক আচরণ করলে তা সরকার কিংবা বিরোধী দল কারো জন্যই লাভজনক হবে না। বরং এতে পতিত, পরাজিত ও বিতাড়িত ফ্যাসিবাদী চক্রই লাভবান হবে।