নন-ক্যাডার বিধি সংশোধন করে দ্রুত গেজেট প্রকাশের দাবি চাকরিপ্রার্থীদের

নন-ক্যাডার বিধি ২০২৩ সংশোধন করে প্রধান উপদেষ্টার স্বাক্ষর ও অনুমোদনের মাধ্যমে দ্রুত ‘‌সংশোধিত গেজেট’ প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন বিসিএস চাকরি প্রত্যাশীরা। শনিবার (১১ অক্টোবর) বিকাল সাড়ে ৫টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ দাবি জানান।

লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মো. ইলিয়াস নেওয়াজ। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী ও মো. ফারুকুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জালাল আহমদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী মো. মাকসুদুল ইসলাম এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী মঈন উদ্দিনসহ ১৫–২০ জন চাকরিপ্রত্যাশী।

লিখিত বক্তব্যে প্রার্থীরা জানান, বর্তমানে নন-ক্যাডার নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অচল অবস্থায় রয়েছে। এর মূল কারণ ‘নন-ক্যাডার পদে নিয়োগ (বিশেষ) (সংশোধন) বিধিমালা, ২০২৫’ এখনো গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়নি। প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয়ে প্রেরণের পর তিন মাস অতিক্রান্ত হলেও অনুমোদন ও স্বাক্ষর ছাড়াই এটি আটকে আছে। যে বিধি দেশের তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে, সেটিকে পরিকল্পিতভাবে বিলম্বিত করা হচ্ছে।

তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে যোগাযোগ, স্মারকলিপি প্রদান, মানববন্ধন, অবস্থান কর্মসূচি ও আমরণ অনশন সব ধরনের শান্তিপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েও আমরা শুধু আশ্বাসই পেয়েছি, বাস্তব কোনো অগ্রগতি হয়নি। গতকাল (১০ অক্টোবর) প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’ অভিমুখে শান্তিপূর্ণ পদযাত্রা করলে পুলিশি হামলার শিকার হই।

সংবাদ সম্মেলনে তারা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশি নির্যাতনের নিন্দা জানিয়ে বলেন, এ ঘটনায় তরুণ প্রজন্মের আশা ও আস্থার ওপর আঘাত এসেছে। চাকরি প্রত্যাশীরা নন-ক্যাডার প্রক্রিয়ায় পূর্বের মতোই বিপুলসংখ্যক প্রার্থীকে সুপারিশ করার দাবি জানান।

তারা সংবাদ সম্মেলনে তিন দফা দাবি উপস্থাপন করেন

১. ‘‌নন-ক্যাডার পদে নিয়োগ (বিশেষ) (সংশোধন) বিধিমালা, ২০২৫’–এর (২০২৩ সালের বিধির সংশোধিত রূপ) গেজেট অবিলম্বে প্রধান উপদেষ্টার স্বাক্ষর ও অনুমোদনের মাধ্যমে প্রকাশ করতে হবে।

২. ৪৩তম বিসিএস নন-ক্যাডার প্রার্থীদের জন্য অধিযাচিত পদগুলোয় দ্রুততম সময়ে সুপারিশ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।

৩. চলমান (৪৪, ৪৫, ৪৬ ও ৪৭তম) বিসিএস থেকে সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রার্থীকে নন-ক্যাডার পদে সুপারিশের ধারা অব্যাহত রাখতে হবে।

আরও