বাংলাদেশে পানির অন্যতম বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি আর্সেনিক দূষণ। এটি মোকাবেলায় নতুন অ্যাপস নিয়ে এসেছেন একদল গবেষক। ‘আই-আর্সেনিক’ নামের অ্যাপটি গত এক দশকের ভূগর্ভস্থ পানির গবেষণা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সমন্বয়ে তৈরি। এটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এবং যে কেউ ব্যবহার করতে পারছেন। মাঠ পর্যায়ে কোনো খরচ বা কিট ছাড়াই রাসায়নিক পরীক্ষার সহায়ক বিকল্প হিসেবে কাজ করছে ‘আই-আর্সেনিক’।
গত ১ জুলাই রাজধানীর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর অডিটরিয়ামে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব রেজাউল মাকসুদ জাহেদী আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যাপটি উদ্বোধন করেন।
যৌথভাবে অ্যাপটির উন্নয়ন করেছে ইউনিভার্সিটি অব পোর্টসমাউথ, কার্টিন ইউনিভার্সিটি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ইম্পিরিয়াল কলেজ লন্ডন। সার্বিক সহযোগিতা করেছে বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (ডিপিএইচই)। গবেষক দলে রয়েছেন ড. মোহাম্মদ হক, কেন সোয়ার্টজ, ড. আশরাফ দেওয়ান, প্রফেসর অ্যাড্রিয়ান বাটলার ও প্রফেসর কাজী মাতিন আহমেদ।
গবেষকরা জানান, ‘আই-আর্সেনিক’ প্রথম বাংলা আর্সেনিক ঝুঁকি নির্ধারণ অ্যাপ। এটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ব্যবহার করতে পারবেন। ব্যবহারকারীর কাছ থেকে তিনটি তথ্য নিয়ে এটি কাজ করে। অবস্থান, নলকূপের গভীরতা ও প্লাটফর্মে দাগের রঙ—এ তিন তথ্য একসঙ্গে করে ক্লাউড-ভিত্তিক একটি এআই মডেলের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করে আর্সেনিক ঝুঁকি পূর্বাভাস দেয় অ্যাপটি। ফল হিসেবে ট্রাফিক-লাইট রঙ (সবুজ, কমলা, লাল) দিয়ে সহজভাবে পূর্বাভাস দেখানো হয়। স্বল্প পড়ালেখা জানা মানুষও সহজেই এটির ব্যবহার বুঝতে পারেন। এটি ১০০টি নলকূপের মধ্যে প্রায় ৮৪টি উচ্চ ঝুঁকির নলকূপ সঠিকভাবে শনাক্ত করতে সক্ষম বলেও গবেষকরা জানান।
প্রকল্প পরিচালক ড. মোহাম্মদ হক বলেন, ‘দেশের দুই কোটি মানুষ এখনো আর্সেনিক-দূষিত পানি পান করছে। এত মানুষকে ঝুঁকিতে রাখা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। এ বিষয়ে আমাদের এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘এটি ল্যাব পরীক্ষার বিকল্প নয়, তবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক উপায়। বিশেষ করে যেসব নলকূপ নতুন খনন হয়েছে বা পুরনো পরীক্ষার ফল মানুষ ভুলে গেছে—সেখানে এই অ্যাপ তাৎক্ষণিক সচেতনতা তৈরি করতে পারবে। নাগরিকরা নিজেরাই ঝুঁকি সম্পর্কে জানতে পারবেন এবং বিকল্প নিরাপদ উৎস ব্যবহারে উৎসাহিত হবেন। গবেষক দল উপযুক্ত সমর্থন ও সহযোগিতা পেলে অ্যাপটি আরো ব্যবহারবান্ধব ও কার্যকরে কাজ করবে। এই অ্যাপ জাতীয় আর্সেনিক মোকাবেলা ব্যবস্থার মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করতে পারে, যা আগামী পাঁচ থেকে সাত বছরের মধ্যে আর্সেনিকের ঝুঁকি প্রায় ২০ শতাংশ পর্যায়ে নামিয়ে আনার মতো সক্ষমতা অর্জন করতে পারবে।’