সরকারের ইচ্ছা ও নীতিমালার কারণে যে বাধা তৈরি হচ্ছে, সেদিকে নজর দেয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন টিকে গ্রুপের গ্রুপ ডিরেক্টর মো. মুস্তাফা হায়দার। তিনি বলেন, এতে আমাদের মতো প্রতিষ্ঠান, যারা কার্বন নিঃসরণ কমাতে এবং ভবিষ্যতে ক্রেতাদের নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণে কাজ করতে চায়, তারা আরো উৎসাহিত হবে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে বণিক বার্তা আয়োজিত ‘গ্রিন ডায়ালগ: জলবায়ু পরিবর্তন ও অর্থনীতির পুনর্বিন্যাস’ শীর্ষক আয়োজনে এসব কথা বলেন তিনি।
মুস্তাফা হায়দার বলেন, মার্চেন্ট পাওয়ারের ক্ষেত্রে রিয়েল টাইম মিটারিংয়ের কথা বলা হচ্ছে। অর্থাৎ, দিনের যে সাড়ে চার ঘণ্টা সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন হয়, মূলত সেই সময়েই আমি আমার ক্রেতাদের বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারব। উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে দিয়ে পরবর্তী সময়ে গ্রিড বা পিডিবির সঙ্গে তা সমন্বয় করতে পারব না। দিনে যদি সাড়ে চার ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়, তাহলে ২৪ ঘণ্টার হিসাবে গাণিতিকভাবে সর্বোচ্চ ১৮ দশমিক ৭৮ শতাংশ চাহিদা সৌরবিদ্যুৎ থেকে পূরণ করা সম্ভব হবে। অর্থাৎ, নীতিমালার কারণেই সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে আটকে যাবে।
তিনি বলেন, আমরা সম্প্রতি আমাদের এনডিসির তৃতীয় সংস্করণ ঘোষণা করেছি। সেখানে আমরা বলেছি, গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ ২০ দশমিক ৩ শতাংশ কমাব। এ লক্ষ্য অর্জনে আমরা কয়েকটি উপলক্ষ্য নির্ধারণ করেছি। এর মধ্যে রয়েছে ২০৩০ সালের মধ্যে মোট চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদন করা এবং জ্বালানি দক্ষতা ১৯ দশমিক ২ শতাংশ বাড়ানো। এসব লক্ষ্য সামনে রেখে এবং অর্থনৈতিক কারণ বিবেচনায় নিয়ে আমরা বিভিন্ন বহুপক্ষীয় অর্থায়ন কাঠামো—যেমন এডিবি, আইএফসি এবং বাংলাদেশের বিশেষ তহবিলের সুযোগ নেওয়ার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছি।
টিকে গ্রুপের কয়েকটি উদ্যোগের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, আমরা আমাদের সব ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রের জ্বালানি দক্ষতা ৭০ থেকে ৮০ শতাংশে উন্নীত করেছি। কোজেনারেশন ও ট্রাইজেনারেশনের মাধ্যমে এ কাজ করা হয়েছে। পাশাপাশি কারখানার ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের সুযোগ সর্বোচ্চ পর্যায়ে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছি। আমরা ইতিমধ্যে ২০ মেগাওয়াট ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করেছি এবং আগামী বছর আরো প্রায় ১৫ মেগাওয়াট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। আমাদের কারখানার কর্মীদের বিভিন্নভাবে সচেতন ও উৎসাহিত করার চেষ্টা করছি, যাতে তারা বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, পানির ব্যবহার কমানো এবং কারখানার বিভিন্ন এলাকায় সবুজায়নের উদ্যোগ নিতে পারেন।
টিকে গ্রুপের গ্রুপ ডিরেক্টর বলেন, এছাড়া আমরা বায়োমাস নিয়েও কাজ করছি। বর্তমানে বায়োমাস থেকে ১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছি এবং প্রতি ঘণ্টায় ৮০ টন বাষ্প উৎপাদন করছি। আগামী বছর আরও ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং প্রতি ঘণ্টায় আরও ৫৫ টন বাষ্প উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী বছর আমাদের ১৫ থেকে ২০ টন সক্ষমতার একটি পুনর্ব্যবহারকেন্দ্র চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। আমরা বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সিনথেটিক পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। দেশের মোট চাহিদার প্রায় ৫০ শতাংশ আমরা পূরণ করি। আমাদের মনে রাখতে হবে, বিশ্ব যেদিকে এগোচ্ছে, আমাদেরও সেই পথ অনুসরণ করতে হবে। নীতিনির্ধারকদের কাছে আমার অনুরোধ, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনের মধ্যে নীতিগত অসামঞ্জস্য দূর করুন।