জাতীয় নির্বাচনের দিনে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে এখনো উল্লেখযোগ্য প্রতিবন্ধকতা রয়ে গেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সোসাইটি ফর দ্য চেঞ্জ অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি নেক্সাস (বি-স্ক্যান)। ঢাকা, দিনাজপুর, ফরিদপুর ও মেহেরপুরের ২৮টি ভোটকেন্দ্রে পরিচালিত প্রবেশগম্যতা মূল্যায়নে এ ধরনের নানা সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরে সংগঠনটি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বি-স্ক্যান ভোটকেন্দ্রগুলোর অবকাঠামো, পরিকল্পিত ব্যবস্থা ও সেগুলোর কার্যকারিতা মূল্যায়ন করে এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ডেলিগেশন ও ইউরোপিয়ান পার্টনারশিপ ফর ডেমোক্রেসির সহায়তায় বি-স্ক্যানের নির্বাচনসংক্রান্ত কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বি-স্ক্যানের সমন্বয়ক মাহফুজুর রহমান রাকিব। তিনি বলেন, সাধারণত বিদ্যালয় ভবন ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হলেও এসব ভবনের অধিকাংশই প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রয়োজন অনুযায়ী উপযোগী নয়।
মূল্যায়নে দেখা যায়, অধিকাংশ ভবনে র্যাম্প থাকলেও সেগুলোতে পৌঁছানো ও ব্যবহার করা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য কঠিন। এ ছাড়া নির্মাণাধীন ভবনকে ভোটকেন্দ্র হিসেবে নির্ধারণ করাও প্রতিবন্ধী ভোটারদের জন্য বড় বাধা সৃষ্টি করছে।
নির্বাচনের দিন পরিবহন ব্যবস্থায় বিধিনিষেধ থাকায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভোটকেন্দ্রে পৌঁছানো আরো কঠিন হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় নির্বাচনের দিন প্রয়োজনীয় পরিবহন ব্যবহারের সুযোগ নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বি-স্ক্যান।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশে আনুমানিক ৩৩ লাখের বেশি প্রতিবন্ধী ভোটার থাকলেও তাদের জন্য নির্বাচন কমিশনের গৃহীত কার্যকর ব্যবস্থাসংক্রান্ত কোনো নির্দিষ্ট নির্দেশিকা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। এ পরিস্থিতিতে ভোটকেন্দ্রে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বি-স্ক্যান বেশ কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরে। এর মধ্যে রয়েছে—প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে অন্তত একটি ভোটকক্ষ গ্রাউন্ড ফ্লোরে নির্ধারণ, প্রতিবন্ধী ভোটারদের অগ্রাধিকার সংক্রান্ত তথ্য দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন, ভোটকেন্দ্র নির্বাচন ও সংস্কারে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠনকে সম্পৃক্ত করা, র্যাম্প ও টয়লেট নিশ্চিত করা, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মীদের প্রতিবন্ধিতা সংবেদনশীলতা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং সংস্কার বাজেটের অন্তত ১০ শতাংশ প্রবেশগম্যতা উন্নয়নে বরাদ্দ রাখা।
এ ছাড়া বি-স্ক্যান জানায়, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির দৃষ্টিভঙ্গি থেকে তারা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবে। ফরিদপুর, দিনাজপুর, মেহেরপুর, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মোট আটটি আসনের ১০০টি ভোটকেন্দ্রে ১০০ জন প্রশিক্ষিত প্রতিবন্ধী পর্যবেক্ষক মোতায়েন করা হবে।