রংপুরে এলপিজি ট্যাংক বিস্ফোরণে একজনের মৃত্যু, আহত অন্তত ২০

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিও বাজার এলাকার এলপিজি অটো গ্যাস অ্যান্ড কনভার্সন সেন্টারে গত সপ্তাহে গ্যাস লিকেজ দেখা দেয়। ফায়ার সার্ভিস এসে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়। পরে শনিবার সকাল থেকে ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ গ্যাস ট্যাংক মেরামতের কাজ করছিল। দুপুর ১২টার দিকে ওয়েল্ডিংয়ের সময় হঠাৎ ট্যাংক বিস্ফোরণ ঘটে।

রংপুর নগরীর সিও বাজারে এলপিজি ফিলিং স্টেশনে ট্যাংক বিস্ফোরণে সেলিম রেজা (৪৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে অন্তত ২০ জন। শনিবার (১৯ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে ওয়েল্ডিংয়ের সময় গ্যাস ট্যাংক বিস্ফোরণে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিও বাজার এলাকার এলপিজি অটো গ্যাস অ্যান্ড কনভার্সন সেন্টারে গত সপ্তাহে গ্যাস লিকেজ দেখা দেয়। ফায়ার সার্ভিস এসে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়। পরে শনিবার সকাল থেকে ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ গ্যাস ট্যাংক মেরামতের কাজ করছিল। দুপুর ১২টার দিকে ওয়েল্ডিংয়ের সময় হঠাৎ ট্যাংক বিস্ফোরণ ঘটে।

বিস্ফোরণে গ্যাস ট্যাংক ছিন্নভিন্ন হয়ে উড়ে গিয়ে পার্শ্ববর্তী কাউন্টারের ওপর পড়ে। এতে কাউন্টারসহ ফিলিং স্টেশনের ১৩টি কার, একটি অ্যাম্বুলেন্স, চলমান একটি যাত্রীবাহী বাস, পার্শ্ববর্তী বাড়ির টিনের চাল ও একটি বহুতল ভবনের থাই-জানালা ভেঙে যায়। বিস্ফোরণের সময় ট্যাংকের ওপরে থাকা কংক্রিটের ছাদ ধসে পড়ে। আর কিছু লোহার অ্যাঙ্গেল পার্শ্ববর্তী বিজিবি রংপুর রিজিয়ন সদর দপ্তরের গাছে গিয়ে আটকে যায়। বিস্ফোরণের পর আশপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার পর আশপাশের লোকজন ছুটে এসে এলপিজি ফিলিং স্টেশনে পড়ে থাকা আহতদের উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ কাজী মো. আতাউর রহমান জানান, আহতদের মধ্যে রয়েছেন— ছালেক শাহ (৬৫), তারাজুল (৪৫), আলমগীর (২২), সোহেল (৩৭), বিপুল (৫২), রফিক (৩৫), সোহাগ (২৭), বকুল (২৪), মজিবর (৪৫), সাদমান (১৮), রোজী (৫০) সহ আরো দুই অজ্ঞাত কিশোর ও পুরুষ । তাদের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানান তিনি।

এদিকে বিস্ফোরণের পর রংপুর-ঢাকা মহাসড়কে যানজট তৈরি হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা। তাদের তৎপরতায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

এলাকাবাসী মমিনুর রহমান বলেন, তিনি বাসায় ঘুমাচ্ছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দ হলে ঝাঁকুনিতে তার ঘুম ভেঙে যায়। পরিবারের সদস্যরাও আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। তার বাসার টিনের চাল, টিভি, ফ্রিজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পথচারী আমিনুল ইসলাম বলেন, তিনি পাশের দোকানে চা খাচ্ছিলেন। বিকট শব্দে বিস্ফোরণের কারণে তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তিনি জানান, গত ৩ থেকে ৪ দিন ধরে পাম্পটি বন্ধ ছিল।

রংপুর ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক বাদশা মাসউদ আলম বলেন, দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ততক্ষণে আগুন নিভে গিয়েছিল। তিনি বলেন, আন্ডারগ্রাউন্ডে থাকা একটি এলপিজি ট্যাংক মেরামত চলছিল। চাপের কারণে এই বিস্ফোরণ হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, গত সপ্তাহে তারা এই ফিলিং স্টেশনে গ্যাস লিকেজের ঘটনায় এসেছিলেন।

আরও