বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ ও পুলিশি হামলায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ৯ জন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্ষদ (সিন্ডিকেট)। একই অভিযোগে ২৮৯ জন শিক্ষার্থীকেও বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের সবাই ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল।
সোমবার (১৭ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনে (রেজিস্ট্রার বিল্ডিং) সকাল ১১টা থেকে রাত ৩টা পর্যন্ত চলা সিন্ডিকেট সভা শেষে দিবাগত রাত সোয়া ৩টায় সাংবাদিকদের সাথে ব্রিফিং কালে এসব তথ্য জানান উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামরুল আহসান।
সাময়িক বরখাস্ত হওয়া শিক্ষকরা হলেন, সাবেক উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) মোহাম্মদ মোস্তফা ফিরোজ, সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক আলমগীর কবির, সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান, সমাজবিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক বশির আহমেদ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সাবেক প্রাক্টর অধ্যাপক ইস্রাফিল আহমেদ, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মেহেদী ইকবাল, ইতিহাস বিভাগের অধ্যপক হোসনে আরা, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের সাবেক প্রক্টর নাজমুল হাসান তালুকদার এবং পাবলিক হেলথ এন্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ তাজউদ্দীন সিকদার।
প্রাথমিক তদন্তে আরও ১০ শিক্ষকের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলায় মদদ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করতে অনুষদভিত্তিক ছয়টি স্ট্রাকচারাল কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্ত শিক্ষকরা হলেন অধ্যাপক কানন কুমার সেন, পলাশ বাহা, শফি মোহাম্মদ তারেক, জহিরুল ইসলাম খন্দকার, মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, মনির উদ্দিন শিকদার, সাইদুর রহমান, আনোয়ার খসরু পারভেজ, মুহিবুর রউফ শৈবাল, এ এ মামুন। এছাড়াও শিক্ষকদের পাশাপাশি আরও ২ জন অফিসারকে (রাজিব, নাহিদুর) এবং ১ জন কর্মচারীকে (মুজিব হল) সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
সাবেক উপাচার্যের পেনশন বাতিল
হামলার ঘটনায় অভিযুক্তদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক মো. নূরুল আলম এবং রেজিস্ট্রার আবু হাসান অবসরে চলে যাওয়ায় তাদের পেনশন সুবিধা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিন্ডিকেট।
শেখ পরিবারের নামে হল নয়
শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ পরিবারের কয়েকজন সদস্যের নামে থাকা স্থাপনার নাম বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, শেখ হাসিনা হল এবং শেখ রাসেল হলের নাম পরিবর্তন করা হবে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে একটি কমিটি করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
- ইউএনবি