ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ আমদানির ঘোষণা দিয়ে আনা চার খণ্ডে কাটা চারটি বিলাসবহুল গাড়ি আটক করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। জালিয়াতির মাধ্যমে বিপুল রাজস্ব ফাঁকির এই অভিনব কৌশল উন্মোচন করা হয়েছে মোংলা বন্দরে।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ কাস্টমস গোয়েন্দা জানায়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং বিআরটিএ ও কুয়েটের বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় পরীক্ষা চালিয়ে রেঞ্জ রোভার, বিএমডব্লিউ, লেক্সাস ও টয়োটা ব্র্যান্ডের এসব গাড়ি শনাক্ত করা হয়। উদ্ধার করা গাড়িগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য ৪ কোটি ৫০ লাখ থেকে ৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা।
কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, জাপানের মাহি কার পোর্ট থেকে চালানটি আমদানি করে রাজধানীর গেন্ডারিয়ার ক্রাউন অটো মোবাইল। খুলনার সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এস টি ইন্টারন্যাশনাল খালাসের দায়িত্বে ছিল। গত ২০ এপ্রিল দাখিল করা বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে চালানটি আনা হয়। যার পণ্যবাহী জাহাজ ছিল এমভি এমসিসি টোকিও এবং ঋণপত্র খোলা হয়েছিল ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে।
আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানটি ১৪টি আইটেমে ১০ হাজার ২২০ কেজি ব্যবহৃত গাড়ির দরজা, ইঞ্জিন, গিয়ার, বাম্পার ও স্টিয়ারিংসহ নানা যন্ত্রাংশ আমদানির ঘোষণা দিয়েছিল। ঘোষিত ইনভয়েস মূল্য ছিল প্রায় ৭ হাজার ৯৩৫ ডলার বা বাংলাদেশী মুদ্রায় ৯ লাখ ৯৩ হাজার ৫৪৭ টাকা। এই শুল্কায়নযোগ্য মূল্যের ওপর ভিত্তি করে তারা মাত্র ৬ লাখ ১০ হাজার ৩০ টাকা শুল্ক-কর পরিশোধের হিসাব দেখায়।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের খুলনা ও মোংলা কার্যালয় পণ্য খালাস স্থগিত করে। গত ১৯ জুলাই চালানটির শতভাগ কায়িক পরীক্ষা চালানো হয়। পরীক্ষায় দেখা যায়, সাধারণ খুচরা যন্ত্রাংশের বদলে ওয়্যারিং হারনেস ও সেন্সরসহ আস্ত গাড়িগুলোকে মাত্র ৩-৪টি বড় অংশে কেটে আনা হয়েছে। এসব অংশ জোড়া দিলেই গাড়িগুলো আবার আগের পূর্ণাঙ্গ রূপ ফিরে পাবে।
উদ্ধার করা গাড়ির তালিকায় রয়েছে— ২০১৭ সালের একটি রেঞ্জ রোভার ভোগ, ২০১০ সালের একটি বিএমডব্লিউ ৬৫০আই, ২০১৬ সালের একটি লেক্সাস এলএক্স৫৭০ এবং একটি টয়োটা ক্রাউন অ্যাথলেট জিসিআর২০৪। এগুলোর বাজারমূল্য কোটি কোটি টাকা হলেও নামমাত্র মূল্যে এনে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে।
কাস্টমস গোয়েন্দাদের মতে, সাধারণ যন্ত্রাংশ হিসেবে শুল্কায়ন না করে আন্তর্জাতিক শ্রেণিবিন্যাস বিধি অনুযায়ী গাড়িগুলোকে আংশিক খণ্ডিত বা এসকেডি মোটরযান হিসেবে গণ্য করতে হবে। সে অনুযায়ী ইঞ্জিন সক্ষমতা, অবচয় ও বাজারমূল্য হিসাব করে চূড়ান্ত রাজস্ব ফাঁকির পরিমাণ নিরূপণ করা হচ্ছে।
আমদানি নীতি আদেশ ও কাস্টমস আইনের নিয়ম লঙ্ঘনের মাধ্যমে এ জালিয়াতি করা হয়েছে। কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর চালানটিকে এসকেডি মোটরযান হিসেবে শুল্কায়নের মতামত দিয়ে মোংলা কাস্টম হাউসে প্রতিবেদন পাঠিয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করেছে।