দেশে অসংক্রামক রোগের নিরাপদ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, রোগ নির্ণয়, ওষুধ সরবরাহ, নিয়মিত ফলোআপ ও দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসায় প্রাথমিক পর্যায়ে ঘাটতি থাকলে রোগীদের নিরাপদ ও ধারাবাহিক সেবা নিশ্চিত করা কঠিন। একই সঙ্গে কমিউনিটি পর্যায়ে সেবা পৌঁছে দেয়া, রোগী ও পরিবারের সম্পৃক্ততা এবং সরকারি-বেসরকারি খাতের সমন্বয় বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।
গতকাল রাজধানীর মহাখালী ব্র্যাক সেন্টারে বিশ্ব রোগী সুরক্ষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তারা এসব কথা বলেন। ব্র্যাক, ফোরাম ফর ইউএইচসি এবং কোয়ালিটি কেয়ার নেটওয়ার্ক যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান। অনুষ্ঠানের শুরুতে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন কোয়ালিটি কেয়ার নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক ড. মো. আমিনুল হাসান।
এছাড়া এতে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ও বিশিষ্ট চিকিৎসাবিজ্ঞানী অধ্যাপক ডা. এমএ ফায়েজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক এবং আর্ক ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. রুমানা হক, ব্র্যাকের সিনিয়র ডিরেক্টর ডা. মো. আকরামুল ইসলাম, আইএইচআই বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এম রফিকুল ইসলাম (অব.)। এতে আরো ছিলেন এক্সপ্যান্ডিং অ্যাকসেস টু ইন্টিগ্রেটেড হেলথ কেয়ার ফর দ্য আরবান পপুলেশনের প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ডা. সৈয়দ জাকির হোসেন, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. এমএন আসিব নাসিম, আলো ক্লিনিকের পিডি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ডা. মোহাম্মদ সাইদুর রহমান। পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতসংশ্লিষ্ট দেশ-বিদেশের বিশেষজ্ঞরাও এতে বক্তব্য দেন।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ‘স্বাস্থ্য খাতে অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পাইলট হয়েছে। কিন্তু সেগুলো সিস্টেম পর্যায়ের পরিবর্তনে রূপ নেয়নি। তাই শুধু সচেতনতা নয়, বাস্তবে কোথা থেকে পরিবর্তন শুরু করা যায়, সেটি চিহ্নিত করা জরুরি। এক্ষেত্রে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্য কার্যক্রম একটি প্রবেশপথ হতে পারে। পাশাপাশি ভুল থেকে শেখার জন্য জ্ঞান ও গবেষণার ঘাটতিও দেখতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘সলিউশনস আর অল লোকাল, বাট অথরিটি ইজ নট লোকাল।’ অর্থাৎ সমাধান স্থানীয় পর্যায়েই রয়েছে, কিন্তু সেই সমাধান বাস্তবায়নের কর্তৃত্ব স্থানীয় পর্যায়ে নেই। এ কারণে স্থানীয় পর্যায়ের সমাধান বাস্তবায়ন করা কঠিন। রোগী নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও দোষারোপের পরিবর্তে বাস্তব পদক্ষেপ, প্রণোদনা এবং নতুন ধরনের সমন্বয় তৈরির দিকে যেতে হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ডা. ফায়েজ বলেন, ‘অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে রোগ শুরুতেই শনাক্ত করা প্রয়োজন। রোগীর নিরাপত্তা কেবল হাসপাতালে সীমাবদ্ধ না রেখে মাঠ পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে।’
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘চিকিৎসা ও ওষুধ প্রয়োগের প্রতিটি ধাপেই ঝুঁকি থাকে। এসব ঝুঁকি কমাতে দক্ষ জনবল ও মানসম্মত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি।’
অধ্যাপক ডা. আমিনুল হাসান বলেন, ‘অসংক্রামক রোগের নিরাপদ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে রোগীর পুরো যাত্রায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। কমিউনিটি পর্যায়ের স্ক্রিনিং থেকে রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা, ফলোআপ ও পুনর্বাসন—সব পর্যায়েই এর ধারাবাহিকতা থাকতে হবে। ভুল রোগ নির্ণয়, ওষুধের ভুল ব্যবহার, রেফারেল ও ফলোআপের ঘাটতি এবং তথ্য আদান-প্রদানের সমস্যায় রোগীর ক্ষতি হতে পারে।’