সৌদি বিমানবন্দরে হামলায় নিহত-আহত বাংলাদেশীদের পরিচয় জানা গেছে

রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের তথ্যানুযায়ী, নিহত দুই বাংলাদেশী হলেন বগুড়ার শাহেদ আহম্মেদ ও কুমিল্লার নাসরুল্লাহ বদরপুরি। শাহেদ সৌদি আরবের সাদ আল ঈসা কন্ট্রাক্টিং কোম্পানির জেদ্দা প্রকল্পে প্লাম্বার হিসেবে কাজ করতেন। ভাইয়ের মৃত্যুর পর ছুটিতে দেশে এসেছিলেন তিনি। ছুটি শেষে রিয়াদ হয়ে জেদ্দায় কর্মস্থলে ফিরছিলেন। অন্যদিকে, নাসরুল্লাহ ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব গিয়েছিলেন। রিয়াদ থেকে জেদ্দায় যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছিলেন তিনি

সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশীর পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২৪ বাংলাদেশি। গত শনিবার স্থানীয় সময় বিকাল সোয়া ৩টার দিকে বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩-এ ঘটনাটি ঘটে। ওই হামলায় মোট ১২ জন নিহত ও ৩০৯ জন আহত হয়েছেন। পরে গতকাল একজন হাসপাতালে মারা যান।

রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের তথ্যানুযায়ী, নিহত দুই বাংলাদেশী হলেন বগুড়ার শাহেদ আহম্মেদ ও কুমিল্লার নাসরুল্লাহ বদরপুরি। শাহেদ সৌদি আরবের সাদ আল ঈসা কন্ট্রাক্টিং কোম্পানির জেদ্দা প্রকল্পে প্লাম্বার হিসেবে কাজ করতেন। ভাইয়ের মৃত্যুর পর ছুটিতে দেশে এসেছিলেন তিনি। ছুটি শেষে রিয়াদ হয়ে জেদ্দায় কর্মস্থলে ফিরছিলেন। অন্যদিকে, নাসরুল্লাহ ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব গিয়েছিলেন। রিয়াদ থেকে জেদ্দায় যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছিলেন তিনি।

দূতাবাসের তথ্যমতে, আহত ২৪ বাংলাদেশির মধ্যে ১১ জন সৌদি আরবে কর্মরত এবং ১৩ জন ওমরাহ ভিসায় দেশটিতে গিয়েছিলেন। তাদের রিয়াদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। আহতদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ এবং সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে দূতাবাস।

আহতদের মধ্যে তিনজন রিয়াদের কিং আব্দুল্লাহ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন। তারা হলেন হাফেজ হাসান, কাজী নুরুল্লাহ ও ওমর ফারুক। তাদের অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।

রিয়াদ ন্যাশনাল গার্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরো দুই বাংলাদেশী। তারা হলেন নওগাঁর সাফফাত রহমান ও কুমিল্লার দাউদুল ইসলাম। সাফফাত রহমান অসচেতন অবস্থায় রয়েছেন বলে দূতাবাসের তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।

রিয়াদ মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ঢাকা জেলার সাইদুল ইসলাম সৌরভ ও আবুল মনসুর মো. রিয়াজ উদ্দীন। প্রিন্স সুলতান মিলিটারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মো. আব্দুল্লাহ।

এছাড়া সুলাইমান আলহাবিব হাসপাতালের তাখাসসুসি শাখায় চিকিৎসাধীন আরমান হোসেন এবং মোহাম্মদ ও ফয়সাল আহমদ আব্দুল হক। কিংডম হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন মো. রফিক মিয়া। কিং ফাহাদ মেডিকেল সিটিতে চিকিৎসাধীন ইসমাইল হোসাইন, মো. মিসবাহ উদ্দীন হীরক ও মো. রায়হানুল ইসলাম।

প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সালমা আক্তার, মো. শাহাদাত হোসেন, মোশাহিদ আহমেদ সৈকত, জাহিদ আহমেদ ও সোবহে সাদেক মো. শাহজাহান সরকার। এস্টার সনদ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন মো. আসাদুল ইসলাম ও মো. জামাল। সুলাইমান ফকিহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নাজমা আক্তার। অন্যদিকে, সুলাইমান আলহাবিব হাসপাতালের আলসাহাফা শাখায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন উমায়ের ও আব্দুল্লাহ কামিল।

হামলার পর রিয়াদ বিমানবন্দরে আটকে পড়া বাংলাদেশী যাত্রীদের সহায়তায়ও কাজ করছে বলে জানিয়েছে দূতাবাস। তাদের তথ্যমতে, বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে যাতায়াতের অপেক্ষায় থাকা প্রায় ৫০০ বাংলাদেশী যাত্রী আটকে পড়েন। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, সৌদি ইমিগ্রেশন ও সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের সহযোগিতায় তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়।

এর মধ্যে ১০০ যাত্রীর জন্য রিয়াদের মেরিয়ট ও রেডিসন হোটেল এবং প্রিন্সেস নূরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডরমিটরিতে থাকা ও খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে ইহরামের পোশাক পরা ৬৭ জনকে বিশেষ বাসে রিয়াদ থেকে জেদ্দায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।

এছাড়া রিয়াদ থেকে ঢাকাগামী সৌদিয়া এয়ারলাইনসের বাতিল হওয়া এসভি৮০৪ ফ্লাইটের প্রায় ৪০০ বাংলাদেশী যাত্রীকে দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে দেশে পাঠানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। রিয়াদ থেকে বাহরাইনগামী সৌদিয়া এয়ারলাইনসের দুই বাংলাদেশী কর্মীকেও আলখোবারের স্থলবন্দর দিয়ে বাহরাইন যেতে সহায়তা করেছে দূতাবাস।

আরও