সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে মসলাজাত পণ্য আদার আমদানি বেড়েছে। গত অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে পণ্যটি আমদানি বেড়েছে তিনগুনেরও বেশি। বন্দরটি দিয়ে ১১ মাসে অন্তত এক লাখ ১৫ হাজার টন আদা আমদানি হয়েছে। যার মূল্য এক হাজার ৩৭৫ কোটি টাকার বেশি বলে জানান বন্দর সংশ্লিষ্টরা।
আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী বলছেন, ভারতের বাজারে দাম কম হওয়ার পাশাপাশি দেশীয় বাজারে ভালো চাহিদা থাকায় পণ্যটির আমদানি বেড়েছে।
তবে ভোমরা বন্দর দিয়ে বিপুল পরিমাণ আমদানি হলেও সাতক্ষীরার মসলা বাজারগুলোয় আদার দামে তেমন প্রভাব পড়েনি, বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে বেড়েছে।
ভোমরা শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব শাখা থেকে জানা গেছে, চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাস অর্থাৎ জুলাই থেকে মে মাস পর্যন্ত এ বন্দর দিয়ে এক লাখ ১৫ হাজার ১০৩ টন আদা আমদানি হয়েছে। যার আমদানি মূল্য এক হাজার ৩৭৫ কোটি ৮১ লাখ টাকা। অন্যদিকে গত ২০২৩-২৪ অর্থবছরের একই সময় এ বন্দর দিয়ে আতা আমদানি হয় ৩৭ হাজার ২৪৫ টন। যার আমদানি মূল্য ৪০৭ কোটি ২৮ লাখ টাকা।
আমদানি বাড়ার কারণ হিসেবে ভোমরা বন্দরের মসলাজাত পণ্য আমদানিরক প্রতিষ্ঠান মেসার্স রাফসান এন্টারপ্রাইজের স্বত্তাধিকারী মো. আবু হাসান বলেন, ‘ভারতে দাম কম থাকার পাশাপাশি দেশীয় মসলার বাজারে ভালো চাহিদা থাকায় আদার আমদানি বেড়েছে। তাছাড়া কোরবানির ঈদে চাহিদার কারণেও পন্যটি আমদানি বেড়েছে।’
সাতক্ষীরার সুলতানপুর বড় বাজারের মেসার্স শাওন এন্টারপ্রাইজে গতকাল আদা বিক্রি হয়েছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা দরে। দুই থেকে তিন সপ্তাহ আগেও এ প্রতিষ্ঠানে আদা বিক্রি হয়েছে ৯০ থেকে ৯৫ টাকা টাকা দরে। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্তাধিকারী ফজর আলী জানান, কোরবানি ঈদ পরবর্তী সময়ে চাহিদা বেশি থাকায় পাইকারিতে দাম বেড়েছে। যার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারগুলোতে।
সাতক্ষীরা জেলার দায়িত্ব প্রাপ্ত কৃষি বিপণন কর্মকর্তা এসএম আব্দুল্লাহ জানান, ঈদ পরবর্তী সময়ে কিছু মসলাজাত পণ্যের দাম বেড়েছে। তবে সেটি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।