বোরো ধান কাটা শুরু হওয়ার পর বগুড়ায় কয়েক ধাপে ঝড়-বৃষ্টি হয়েছে। গত রোববার রাতে বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হয়েছে। সোমবার এবং গতকাল মঙ্গলবার হালকা বৃষ্টি হয়েছে। এখন পর্যন্ত জেলায় ৪৫ শতাংশ জমির ধান কাটা হয়েছে। তবে কয়েক দিনের ঝড় ও বৃষ্টির পর মেঘলা আকাশ ভাবিয়ে তুলেছে কৃষককে।
কৃষকরা বলছেন, ধানের ফলন বেশি হলেও ঝড়-বৃষ্টি নিয়ে শঙ্কিত তারা। দুর্যোগের আগে ধান কেটে ঘরে তুলতে না পারলে লোকসানে পড়তে হবে। এছাড়া ঝড়-বৃষ্টির কারণে ফলন বিপর্যয়ও হতে পারে।
সাধারণত এপ্রিলের শেষে বগুড়ায় আগাম জাতের বোরো ধান কাটা শুরু হয়। গতকাল পর্যন্ত ৪৫ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। কাটার পর মাড়াই করে সেগুলো শুকানোর কাজ চলছে। মধ্য জুন পর্যন্ত জেলায় ধান কাটার কাজ চলবে।
বগুড়ার কাহালু উপজেলার মো. আব্দুল বাছেদ জানান, বৃষ্টির আগে ছয় বিঘার মধ্যে তিন বিঘা জমির ধান কাটা হয়েছে। সেগুলো শুকিয়ে বিক্রিও করা হচ্ছে। বাজারে এবার চিকন ধান ১ হাজার ২২০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। আর মোটা ধান ১ হাজার ৫০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা। দুদিন হালকা ঝড় ও বৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে ধান কাটা যায়নি। তবে ঝড়-বৃষ্টি বেশি হলে ধানের ফলন কমে যাবে। ঝড়-বৃষ্টির সঙ্গে কারেন্ট পোকা দেখা যাচ্ছে, যা ধানের দানায় বসে চুষে খেয়ে ফেলছে। পরে এসব ধান চিটা যাচ্ছে।
বগুড়া সদর উপজেলার বাঘোপাড়ার মো. ফিরোজ জানান, ধান কাটার পর পরই গত রোববার বৃষ্টি শুরু হয়। শ্রমিক দিয়ে ভেজা ধান ঘরে তুলে রাখা হয়। মাড়াই করতে গিয়ে বেশ দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। বৃষ্টির পর জমিতে কিছু পানিও জমে ছিল। পরে অবশ্য পানি নেমে যায়। কিন্তু বড় ঝড়-বৃষ্টি হলে ধানের ফলন বিপর্যয় হতে পারে। ঝড়ের কবলে যেন না পড়তে হয়, এজন্য অনেকেই ধান কেটে নিচ্ছে।
বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলার ১২টি উপজেলায় ১ লাখ ৮৭ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ লাখ ৮৯ হাজার ৪৩২ টন। এখন পর্যন্ত ৪৫ শতাংশের বেশি ধান কাটা হয়েছে।
অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মতলুবর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বগুড়ায় বোরো ধান কাটা চলছে। এখন পর্যন্ত ধানের ফলন ভালো পাওয়া যাচ্ছে। উচ্চ ফলনশীল জাতের কারণে চাষীরা ভালো ফলন পাচ্ছেন। ধানখেতে বৃষ্টির পানি থাকলে কোনো ক্ষতি হবে না। তার পরও মাঠের খবর রাখা হচ্ছে।’