চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূমি জটিলতা

শিগগিরই মিলছে না স্থায়ী ক্যাম্পাস ভাড়া ভবনে ক্লাস-পরীক্ষা

জাতীয় সংসদে ২০১৯ সালে অনুমোদন পায় চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বিল। ওই বছরই তিন বিভাগে ৯০ শিক্ষার্থী এবং ছয় শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়ে যাত্রা শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়টি। তবে স্থায়ী ক্যাম্পাস না থাকায় শহরের খলিশাডুলীর একটি সাততলা বাড়ি ভাড়া নিয়ে অস্থায়ী ক্যাম্পাস চালু করা হয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় শিগগিরই স্থায়ী ক্যাম্পাসে ফিরতে পারছে না শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি। পরিসর

জাতীয় সংসদে ২০১৯ সালে অনুমোদন পায় চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বিল। ওই বছরই তিন বিভাগে ৯০ শিক্ষার্থী এবং ছয় শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়ে যাত্রা শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়টি। তবে স্থায়ী ক্যাম্পাস না থাকায় শহরের খলিশাডুলীর একটি সাততলা বাড়ি ভাড়া নিয়ে অস্থায়ী ক্যাম্পাস চালু করা হয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় শিগগিরই স্থায়ী ক্যাম্পাসে ফিরতে পারছে না শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি। পরিসর বাড়ায় দেখা দিয়েছে জায়গা সংকটও। এ বাস্তবতায় আরো একটি চারতলা বাড়ি ভাড়া নেয়া হয়েছে। কবে নাগাদ স্থায়ী ক্যাম্পাস হবে, সে বিষয়ে বলতে পারছে না বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের খসড়া আইন মন্ত্রিসভা চূড়ান্তভাবে অনুমোদন দেয় ২০১৯ সালের ২৩ ডিসেম্বর। জমি অধিগ্রহণের জন্য প্রশাসনিক অনুমোদন দেয়া হয় ২০২১ সালের ৬ এপ্রিল। এজন্য চাঁদপুর জেলা প্রশাসন ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রায় ১৯৪ কোটি টাকার প্রাক্কলন প্রস্তুত করে অর্থ ছাড়ের জন্য ওই বছরের ৪ নভেম্বর উপাচার্য বরাবর চিঠি দেয়। ১৪ অক্টোবর জমির মূল্যহার পরীক্ষা ও সংগ্রহের জন্য ১৩ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করে জেলা প্রশাসন।

তবে প্রাক্কলন প্রস্তুত নিয়ে আপত্তি জানিয়ে জেলা প্রশাসনের প্রাক্কলন সংশোধন চেয়ে নভেম্বরে ভূমি মন্ত্রণালয়ে আবেদন দেন চাঁদপুর সদর উপজেলার ১০ নম্বর লক্ষ্মীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সেলিম খান ও অন্যরা। পরে মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের কাছে ব্যাখ্যা জানতে চায়। চাঁদপুর জেলা প্রশাসন ব্যাখ্যা দিয়ে প্রতিবেদন পাঠায়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৌজা দর ধরে জমি অধিগ্রহণের দাম নির্ধারণ করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাড়ে ৬২ একর জমির জন্য (মূল দামের তিন গুণ ধরে) সরকারের ব্যয় হবে প্রায় ১৯৪ কোটি টাকা। কিন্তু হঠাৎ উচ্চ মূল্য দেখিয়ে যেসব দলিল করা হয়েছে, সেটা আমলে নিলে সরকারকে ৫৫৩ কোটি টাকা দিতে হবে। অর্থাৎ সরকারকে অতিরিক্ত দিতে হবে ৩৫৯ কোটি টাকা। এ অবস্থায় চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের মূল্যহার পরীক্ষায় কমিটি গঠন এবং ১৯৪ কোটা টাকা প্রাক্কলন স্মারকের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সেলিম খান ও তার ঘনিষ্ঠ দুই ব্যক্তি হাইকোর্টে পৃথক রিট করেন। এটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থায়ী ক্যাম্পাসে ফিরতে পারছে না বিশ্ববিদ্যালয়টি।

এ বিষয়ে চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. নাছিম আকতার বণিক বার্তাকে বলেন, ‘স্থায়ী ক্যাম্পাস ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিপূর্ণতা হয় না। কবে নাগাদ স্থায়ী ক্যাম্পাস হবে সে বিষয়ে আমি কিছু জানি না।’

ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রস্তাবিত জায়গার বিষয়ে হাইকোর্টের আদেশ বহাল রেখেছেন। আশা করছি সহসাই এ জটিলতা নিরসন হবে। বিশ্ববিদ্যালয় চালুর প্রথম পর্যায়ে আমরা বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি। পরবর্তী সময়ে তা স্বচ্ছতার সঙ্গে মোকাবেলা করেছি। হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে প্রতি বছর অডিট হয়। বাজেটসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের ও ইউজিসির গাইডলাইন মোতাবেক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।’

সরজমিন দেখা গেছে, ভাড়া বাড়ির তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় ক্লাস চলছে। নতুন নেয়া ভবনেও কার্যক্রম চলছে। শহর থেকে তিন কিলোমিটার দূরে খলিশাডুলী হাইওয়ে সড়কের পাশে একটি সাততলা ও আরেকটি চারতলা ভবন ভাড়া নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাস চলছে। ভাড়া বাসার কারণে নিজস্ব ক্যাম্পাস, মাঠ, পর্যাপ্ত ল্যাব, গবেষণা কেন্দ্র, পাঠাগার, ক্যাফেটেরিয়া, শিক্ষক ও ছাত্রদের আবাসনের ব্যবস্থা করা যায়নি এখনো।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছ পদ্ধতির মাধ্যমে ‘এ’ ইউনিটে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ৩০, ‘বি’ ইউনিটে ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি বিভাগে ৩০ এবং ‘সি’ ইউনিটে ব্যাচেলর অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগে ৩০টি আসনে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়েছে। তিন বিভাগে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত কোনো আবাসন ব্যবস্থা নেই। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা নিজ নিজ ব্যবস্থাপনায় আবাসনের ব্যবস্থা করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থী নাইমুর রহমান ও এসএম মুঞ্জুরুল ইসলাম জানান, স্থায়ী ক্যাম্পাস না থাকায় সমস্যা হচ্ছে। আবাসন সমস্যাও প্রকট। খেলার মাঠ নেই, ক্যাফেটেরিয়ার সমস্যাও রয়েছে। দ্রুত স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে চান তারা।

এ বিষয়ে ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের প্রভাষক মো. বায়েজিদ আহমেদ রনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আবাসন ব্যবস্থা থাকলে শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ তৈরি হতো। আবাসন, খাওয়ার ব্যবস্থা, খেলার মাঠ, একটি সুন্দর ক্যাম্পাস ও ক্যাফেটেরিয়াসহ সব সমস্যা দ্রুত সমাধান হোক, সেটা আমরাও চাই।’

আরও