এরই মধ্যে তার উদ্ভাবিত পদ্ধতিটি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) পরীক্ষিত হয়েছে এবং সেখান থেকে তার প্রযুক্তি অনুমোদন পেয়েছে। এছাড়া শিল্প মন্ত্রণালয়ও স্বীকৃতি দিয়েছে। তিনি পেটেন্টের জন্য আবেদন করেছেন। তবে আরো উচ্চতর গবেষণার জন্য আব্দুল হান্নানের যে অর্থ, যান্ত্রিক সহায়তা, গবেষণাগার, প্রযুক্তিবিদ সহায়তা ও পরিবেশ প্রয়োজন তার কোনোটিই তার নেই। তাই সরকারি অথবা বেসরকারি পর্যায় থেকে উদ্ভাবনটি ছড়িয়ে দেয়ার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তিটি ব্যাপকভাবে প্রয়োগ করা গেলে বছরে হাজার কোটি টাকার জ্বালানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি বিদ্যুৎ খাতে চাপও উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
আব্দুল হান্নান বলেন, ‘আমাদের দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ ছোট-বড় বিভিন্ন মিল ও কারখানায় যে পরিমাণ ডিজেল, ফার্নেস অয়েল ও গ্যাসভিত্তিক জেনারেটর ব্যবহার হয়, এতে যদি তার উদ্ভাবিত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, তাহলে বছরে প্রায় ২৫-৩০ হাজার কোটি টাকার জ্বালানি সাশ্রয় সম্ভব হবে।
প্রযুক্তিটি গত ১৭ ডিসেম্বর বুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগে পরীক্ষার জন্য দিয়েছিলেন। ব্যাপক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বুয়েট যন্ত্রকৌশল বিভাগ তার প্রযুক্তির সত্যতা পেয়েছে।
যন্ত্রকৌশল বিভাগের প্রফেসর ড. মো. ইহসান ও ড. মো. মামুন গত ৬ জানুয়ারি তার বিষয় ‘ফার্নেস কম্পারিজন বিটুইন জেনারেটর ওয়ান অ্যান্ড জেনারেটর টু’ শিরোনামে ছয় পৃষ্ঠার প্রতিবেদন দিয়েছেন। ওই প্রতিবেদনের ৫ নম্বর পৃষ্ঠায় (০৩২৮৯৪) আব্দুল হান্নানের জ্বালানি প্রযুক্তির বিস্তারিত বর্ণনা দেয়া হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রচলিত সিস্টেমে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ হয় দশমিক ৪৮৩ গ্রাম জ্বালানি। অন্যদিকে আব্দুল হান্নানের উদ্ভাবিত প্রযুক্তিতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ হয় দশমিক ৩৫৭ গ্রাম জ্বালানি। ফলে প্রতি ইউনিটে প্রায় ২৬ শতাংশ জ্বালানি সাশ্রয় হয়।
উদ্ভাবক আব্দুল হান্নান জানান, সে হিসেবে দেশে বছরে ২৬-৩০ হাজার কোটি টাকার জ্বালানি সাশ্রয় হবে। তিনি বলেন, ‘এ উদ্ভাবনী কার্যক্রমে আমাকে কেউ পরামর্শ বা উৎসাহ দেয়নি। আমি আমার মুরগির খামার ও দোকানে জেনারেটর সার্ভিসের জন্যই জ্বালানি সাশ্রয়ের পদ্ধতি খুঁজতে খুঁজতে এ পদ্ধতি নিয়ে কাজ করেছি। ইলেকট্রিক, ইলেকট্রনিকস ও ইলেকট্রোম্যাগনেটিকের ওপর অনলাইনে অনেক পড়াশোনা করে এ পদ্ধতি সফলতা পর্যন্ত নিয়ে এসেছি। আত্মবিশ্বাস, নিরলস প্রচেষ্টা ও লেগে থাকার মানসিকতা আমাকে সফল করেছে।’
বর্তমানে প্রকল্পটিকে বড় পরিসরে গবেষণা করার জন্য সরকারি বা বেসরকারি পর্যায় থেকে সহায়তা চান এ উদ্যমী যুবক।
ফেনী জেলা প্রশাসক মনিরা হক বলেন, ‘ফেনীর যুবকের বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী জেনারেটর আবিষ্কারের বিষয়টি শুনেছি। উদ্ভাবনী যেকোনো কার্যক্রমকে আমরা পৃষ্ঠপোষকতা করতে চাই। বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়ে উদ্ভাবনের যৌক্তিকতা ও প্রয়োজনীয়তা নিরূপণ করে এটিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে কাজে লাগানো যায় কিনা তা দেখা হবে।’