কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চলছে চিকিৎসা, বাক্সবন্দি আধুনিক এক্স-রে মেশিন

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৬ সালে ৩১ শয্যা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ২০০৫ সালে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। জরুরি, অন্তর্বিভাগ ও বহির্বিভাগ মিলিয়ে প্রতিদিন তিন শতাধিক রোগী সেবা নিতে আসে।

লাখো মানুষের চিকিৎসার একমাত্র ভরসা বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এখন নিজেই নানা সংকটে জর্জরিত। ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত ভবনে চলছে চিকিৎসাসেবা। চিকিৎসকের ২১টি পদ শূন্য। ল্যাব টেকনিশিয়ান না থাকায় আট মাস ধরে বন্ধ সব ধরনের পরীক্ষা। পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ জটিল অস্ত্রোপচার। ১০ মাস আগে কেনা আধুনিক এক্স-রে মেশিন বাক্সবন্দি অবস্থায় রয়েছে। ফলে হাসপাতালের কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না রোগীরা।

সরজমিনে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান ফটকের সামনে সাদা কাগজে বড় অক্ষরে লেখা—‘ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন’। অথচ এ ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চলছে জরুরি বিভাগ। পাশাপাশি রয়েছে স্বাস্থ্য সহকারীদের কার্যালয়, টিকাদান কর্মসূচি, সেবিকা কক্ষ এবং ভর্তি রোগীদের জন্য চারটি শয্যা। ভবনের ছাদ থেকে মাঝে মাঝে পলেস্তারা খসে পড়ছে। দেয়ালে দেখা দিয়েছে বড় বড় ফাটল। ঝুঁকি নিয়েই সেখানে চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যেতে হচ্ছে চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীদের। আতঙ্কে থাকছেন রোগী ও স্বজনরা।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৬ সালে ৩১ শয্যা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ২০০৫ সালে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। জরুরি, অন্তর্বিভাগ ও বহির্বিভাগ মিলিয়ে প্রতিদিন তিন শতাধিক রোগী সেবা নিতে আসে। এর বিপরীতে চিকিৎসকের পদ ৩৪টি হলেও কর্মরত আছেন ১৩ জন। প্রতিষ্ঠাকালীন পুরনো একটি এক্স-রে মেশিন দিয়ে পরীক্ষা চালানো হচ্ছে। ১০ মাস আগে আধুনিক ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন কেনা হলেও সেটি বাক্সবন্দি পড়ে রয়েছে। ল্যাব টেকনিশিয়ান না থাকায় সাত মাস ধরে বন্ধ রয়েছে সব ধরনের পরীক্ষা। হাসপাতালে আধুনিক অপারেশন থিয়েটার থাকলেও পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে কোনো জটিল অস্ত্রোপচার হয়নি।

এক সপ্তাহ আগে ডেঙ্গু আক্রান্ত বাবাকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন হাজরাখালি গ্রামের বাসিন্দা আহম্মেদ আলী। তিনি জানান, হাসপাতালের একটি ভবন পরিত্যক্ত হয়ে যাওয়ায় নারী-পুরুষ রোগীদের একই জায়গায় থাকতে হচ্ছে। শয্যা সংকটে অনেকের জায়গা হয়েছে বারান্দায়। ফ্যান নেই, বাথরুমেরও সংকট। দিন-রাত একই জায়গায় নারী-পুরুষ রোগীদের থাকাতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

সরকারি অ্যাম্বুলেন্সচালক শেখ আসাদুজ্জামান জানান, তিনি দীর্ঘদিন সরকারি কোয়ার্টারে ছিলেন। কিন্তু ভবনটি বসবাসের অনুপযোগী হওয়ায় এখন ভাড়া বাসায় থাকছেন। অথচ এখনো সেখানে কর্মচারীরা বসবাস করছেন। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত ভবনে বসেই সেবা দেয়ার কথা জানালেন কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মুশফিকুর রহমান তরফদার। তিনি বলেন, ‘ভবনের কয়েকটি জায়গায় বড় বড় ফাটল রয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই সেবা দিতে হচ্ছে। ভূমিকম্প বা অন্য কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় ঝুঁকি আরো বেড়ে যায়।’

কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হাসান মাহমুদ বলেন, ‘নতুন যে ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন দেয়া হয়েছে, সেটি চালাতে ৮০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন। অথচ পুরো হাসপাতাল চলছে ২০ কিলোওয়াট বিদ্যুতে। এছাড়া মেশিনটির জন্য আলাদা একটি কক্ষও প্রয়োজন। এসব বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ ও স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে চিঠি দেয়া হলেও এখনো কোনো কাজ হয়নি।’

বাক্সবন্দি নতুন এক্স-রে মেশিনের বিষয়ে জানতে চাইলে বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. আ স ম মাহাবুবুল আলম বলেন, ‘ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন চালাতে সাব-স্টেশন প্রয়োজন, যা এ মুহূর্তে করা সম্ভব নয়। তাই মেশিনটি অন্যত্র পাঠিয়ে দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। হাসপাতালের পুরনো ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ। পরিত্যক্ত ভবনসহ হাসপাতালের অন্যান্য সংকটের বিষয়ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’

আরও