নেত্রকোনার ডিঙাপোতা হাওর

খাল খননে কৃষিতে সম্ভাবনা রক্ষা পাবে জীববৈচিত্র্য

নেত্রকোনা জেলার হাওর উপজেলা মোহনগঞ্জের ডিঙাপোতা হাওর বছরের প্রায় ছয় মাস পানিতে ডুবে থাকে। শুষ্ক মৌসুমে বাকি ছয় মাস থাকে পানিশূন্য। তখন গভীর নলকূপের ওপর নির্ভর করতে হয় হাওরপারের নলজুরী, মাঘান, গাগলাজুর, হাটনাইয়া, নারাইচ, মল্লিকপুর, আদর্শনগর, পালগাঁও, রানাহিজল, গাগলাজুর, পাবই, ভাটিয়াসহ আশপাশের ১৫ থেকে ২০টি গ্রামের কৃষকদের। শুষ্ক মৌসুমে হাওরে পানিশূন্য ফসলি মাঠ ফেটে চৌচির হয়ে যায়। ব্যাহত হয় দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রজনন।

নেত্রকোনা জেলার হাওর উপজেলা মোহনগঞ্জের ডিঙাপোতা হাওর বছরের প্রায় ছয় মাস পানিতে ডুবে থাকে শুষ্ক মৌসুমে বাকি ছয় মাস থাকে পানিশূন্য তখন গভীর নলকূপের ওপর নির্ভর করতে হয় হাওরপারের নলজুরী, মাঘান, গাগলাজুর, হাটনাইয়া, নারাইচ, মল্লিকপুর, আদর্শনগর, পালগাঁও, রানাহিজল, গাগলাজুর, পাবই, ভাটিয়াসহ আশপাশের ১৫ থেকে ২০টি গ্রামের কৃষকদের শুষ্ক মৌসুমে হাওরে পানিশূন্য ফসলি মাঠ ফেটে চৌচির হয়ে যায় ব্যাহত হয় দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রজনন

এলাকাবাসী জানায়, হাওরপাড়ের মানুষকে শুষ্ক মৌসুমে ধান আবাদে পানি সংকটে পড়তে হয় ফসল উৎপাদনে এলাকার কৃষকদের অনেক কষ্ট এবং অর্থ ব্যয় করতে হয় হাওরে মাছের প্রজনন বৃদ্ধি, ফসল উৎপাদনে সারা বছর পানি ধরে রাখার জন্য খাল খননের দাবি ছিল দীর্ঘদিন এরই পরিপ্রেক্ষিতে পূরণ হতে যাচ্ছে হাওরপাড়ের মানুষের দাবির বাস্তবায়ন হাওরে সারা বছর পানি ধরে রাখার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে ৫৪ দশমিক কিলোমিটার খাল খনন করা হচ্ছে এতে ডিঙাপোতা হাওরে মাছের প্রজনন বৃদ্ধি, নৌপথে ফসল পরিবহন ফসল আবাদে সারা বছর পানি ধরে রাখা সম্ভব হবে রক্ষা পাবে হাওর এলাকার জীববৈচিত্র্যও চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে খনন কার্যক্রম আগামী বছরের জুনে খননকাজ শেষ হবে প্রকল্পটি সঠিকভাবে বাস্তবায়নে সম্প্রতি জেলা প্রশাসক কাজি মো. আবদুর রহমান খাল খনন এলাকা পরিদর্শন করেছেন

সরেজমিন ডিঙাপোতা হাওরে মাঘান, সিয়াদার, নলজুরী এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, এক্সক্যাভেটর মেশিন দিয়ে খাল খননের কাজ চলছে কোথাও শ্রমিকরা মাটি কাটার কাজ করছেন আবার কোথাও চলছে মাটি সমান করার কাজ খনন করা খালের পাশে এলাকার হাঁস পালকরা খামার স্থাপন করেছেন খালের পানিতে হাঁসের পাল ঘুরে বেড়াচ্ছে

মোহনগঞ্জ সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ফেরীরচর গ্রামের বাসিন্দা অধ্যাপক এবিএম রফিকুল হক বলেন, আমাদের এলাকায় খাল হওয়ায় আমরা খুবই খুশি কারণ খাল খনন হলে সারা বছর খালে পানি থাকবে চলবে ফসলের জন্য পানি সেচ তবে আমাদের দাবি থাকবে খালটি যেন উন্মুক্ত থাকে, ওই খাল ইজারা দেয়া না হয় উপজেলার নলজুরী গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, খাল খনন হওয়ায় আমাদের অনেক উপকার হবে হাওরে উৎপাদিত ফসল আমরা নৌকায় করে বাড়িতে নিয়ে যেতে পারব মাছের বংশ বৃদ্ধি হবে সারা বছর আমরা খালের পানি ব্যবহার করতে পারব

নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, জেলার মোহনগঞ্জের ডিঙাপোতা হাওরে ২৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ৫৪ দশমিক কিলোমিটার খনন করা খালের গভীরতা থেকে ১০ ফুট এবং প্রস্ত উপরে ৪০ ফুট থেকে ৭০ ফুট খালের তীর দিয়ে চলাচল উৎপাদিত ফসল পরিবহনের জন্য ১৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে দশমিক ৬৯ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে খাল খননের আওতায় উপজেলার মল্লিকপুর খাল, গোড়াউত্রা, সাপমা, ধলাই, ভাটিপাড়া, নলভাঙা, বেড়াখালী, বৈঠাখালী রয়েছে ওই খালের পানিপ্রবাহ উপজেলার মাঘান থেকে শুরু হয়ে ধনু নদীতে মিশবে সারা বছর ওই খালে পানিপ্রবাহ থাকবে

নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহন লাল সৈকত বলেন, হাওরে সারা বছর পানির ব্যবস্থা রাখার জন্য নয়টি খাল খনন করা হচ্ছে প্রকল্প কাজ শেষ হলে এলাকার কৃষকদের খুবই উপকার হবে মাছের প্রজনন বৃদ্ধি পাবে এলাকার মানুষকে আর গভীর নলকূপের ওপর নির্ভরশীল হতে হবে না নৌকায় করে হাওরে উৎপাদিত ফসল সহজে বাজারে বাড়িতে নিয়ে যেতে পারবে

নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক কাজি মো. আবদুর রহমান বলেন, হাওর এলাকার নয়টি খাল খনন করা হচ্ছে সরকার সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করছে ডিঙাপোতা হাওরে খাল খনন করায় এলাকার সাধারণ কৃষকরা খুবই উপকৃত হবে কৃষিনির্ভর হাওর এলাকার মানুষ ওই খালের পানি ফসল উৎপাদনে সেচের কাজে ব্যবহার করতে পারবে মাছের অভয়ারণ্য তৈরি হবে, পাশাপাশি হাওরের জীববৈচিত্র্যও রক্ষা পাবে

আরও