কুয়াকাটা সৈকতে আগত পর্যটকরা কচ্ছপটি দেখতে ভিড় করেন। গতকাল দুপুরের দিকে সৈকতের ডিসি পয়েন্ট সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর এলাকায় জোয়ারের সঙ্গে কচ্ছপটি তীরে ভেসে আসে। ধারণা করা হচ্ছে ডিম পাড়ার উদ্দেশ্যে উপকূলের কাছাকাছি এসেছিল কচ্ছপটি। তবে উদ্ধারকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, স্বাভাবিকের তুলনায় এটি অনেক দুর্বল অবস্থায় ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরে সৈকতের ফটোগ্রাফার সাইফুল ইসলাম প্রথম কচ্ছপটিকে দেখতে পান। পরে তিনি কুয়াকাটা পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের আহ্বায়ক কেএম বাচ্চুকে বিষয়টি জানালে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে কচ্ছপটি উদ্ধার করেন। কেএম বাচ্চু জানান, কচ্ছপটির ওজন আনুমানিক ৩৫ থেকে ৪০ কেজি। প্রাথমিকভাবে এটি অলিভ রিডলি প্রজাতির একটি মা কচ্ছপ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মারুফ বিল্লাহ বলেন, বিষয়টি জানার পরপরই একজন চিকিৎসককে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়। এ বিষয়ে ওয়ার্ল্ড ফিশ বাংলাদেশের ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, ট্রলিং জালে আটকে অনেক কচ্ছপ দীর্ঘ সময় পানির নিচে আটকা থাকে। এতে তারা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং পরে তীরে ভেসে আসে। এছাড়া প্লাস্টিক দূষণ ও পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে তাদের স্বাভাবিক জীবনচক্র ও প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে।
অন্যদিকে মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা আবুল কালাম জানান, বিষয়টি জানার পর কুয়াকাটা বিট কর্মকর্তা রুবেল হোসেনকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে এবং বন বিভাগের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, চলতি মাসেই কুয়াকাটা উপকূলে সাতটি মৃত সামুদ্রিক কচ্ছপ ভেসে এসেছে। এর মধ্যে একটি সবুজ সামুদ্রিক কচ্ছপ এবং পাঁচটি অলিভ রিডলি প্রজাতির। মৃত কচ্ছপগুলোর শরীরে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতচিহ্ন পাওয়া গেছে, যা নিয়ে পরিবেশবিদদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।