এলজিআরডি মন্ত্রীর সঙ্গে সারাহ কুকের সাক্ষাৎ

বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য সহযোগিতা আরো বিস্তৃত করার প্রত্যাশা

সাক্ষাতে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা, পিপল-টু-পিপল যোগাযোগ জোরদার, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ, উচ্চ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরো বিস্তৃত করে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরির প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।

গতকাল সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। এ সময় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাতে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা, পিপল-টু-পিপল যোগাযোগ জোরদার, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ, উচ্চ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘গণতন্ত্রকে আরো শক্তিশালী করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।’ তিনি বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, ‘নগর উন্নয়নের পাশাপাশি গ্রামীণ উন্নয়নেও সমান গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করা সম্ভব।’

দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতাকে আরো বিস্তৃত করার মাধ্যমে বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রমে নতুন গতি আনা যেতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এ সময় ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক বলেন, ‘বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক অংশীদারত্ব রয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার সম্পর্ক রয়েছে। ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ও সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন কার্যক্রমে সহযোগিতা করে আসছে। এ সময়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মসূচিতে যুক্তরাজ্য ১০০ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি বিনিয়োগ করেছে। জাতীয় নগর উন্নয়ন কর্মসূচি এবং নতুন জাতীয় নগর উন্নয়ন নীতি প্রণয়নে যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করেছে। দীর্ঘদিনের এ অংশীদারত্ব থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা ও শিক্ষাগুলো ভবিষ্যতে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, বৈঠকে সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ক্ষেত্রে টেকসই উন্নয়ন বিশেষ গুরুত্ব পাবে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে যুক্তরাজ্য আগ্রহী। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট ঝুঁকি মোকাবেলা এবং মানুষের সহনশীলতা বাড়াতে যুক্তরাজ্য কাজ করছে।’

সুন্দরবন এলাকায় যুক্তরাজ্যের চলমান বিভিন্ন কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে সারাহ কুক বলেন, ‘গ্রামীণ উন্নয়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তব প্রভাব মোকাবেলায় সেখানে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’

বৈঠক শেষে এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ‘বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকদের সঙ্গে সরকারের ধারাবাহিক সৌজন্য সাক্ষাতের অংশ হিসেবেই ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সঙ্গে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের অন্যতম পুরনো উন্নয়ন সহযোগী। অতীতে যেমন তারা বাংলাদেশের পাশে ছিল, বর্তমানে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলে ব্রিটিশ হাইকমিশনার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।’

বৈঠকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিশেষ করে মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা করতে যুক্তরাজ্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সিটি করপোরেশনগুলোয় মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে তারা কাজ করতে চায়।

বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও