যেকোনো অস্থিরতার চেষ্টা মোকাবেলা করা হবে -পানিসম্পদমন্ত্রী

চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে মোকাবেলা করা হবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।

আওয়ামী লীগ একটা নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল। তারা বিভিন্ন জায়গায় ঝটিকা মিছিল করে সমাজে একটা অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে মোকাবেলা করা হবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তাদের অরাজক, নৈরাজ্য, সন্ত্রাস করতে দেয়া হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘একদিকে রাজনৈতিকভাবে আমরা মোকাবেলা করব। আরেকদিকে আইনগত যে ব্যবস্থাটুকু নেয়া দরকার, জেলার আইন-শৃঙ্খলার যারা দায়িত্বে রয়েছেন তারা সজাগ থাকবেন, সতর্ক থাকবেন। প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।’

গতকাল দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকের গুরুত্ব তুলে ধরে শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ‘আমাদের এ সভাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কোথায় চুরি, কোথায় রাহাজানি, কোথায় ডাকাতি, কোথায় ছিনতাই, কোথায় অবৈধ অস্ত্র, কোথায় মাদক—সবকিছুকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আমরা প্রশাসন এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি যারা রয়েছেন, সবাইকে নিয়ে আজকে বিশদ আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে আগামী দিনে সুন্দরভাবে এ জেলাকে আমরা যেন সমন্বিত রাখতে পারি।’

সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্ল্যাহ, চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-৭ আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীসহ সিভিল প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

চট্টগ্রামের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির সঙ্গে অবৈধ অস্ত্র, মাদক, পাহাড় কাটা ও অবৈধ বালি উত্তোলনের বিষয়গুলোও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে জানিয়ে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ‘এ মুহূর্তে কিছু কঠিন কঠিন পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে। জনস্বার্থে, জনগণের প্রয়োজনে আরো বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, মাদক নির্মূল, পাহাড় কাটাসংক্রান্ত, বালি উত্তোলনসহ আরো কিছু বিশেষ কাজ রয়েছে, অনেক সময় আমরা লক্ষ করেছি, এগুলোর কারণে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি হয়। সেই দিকেও আমরা বিশদ আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, পদক্ষেপ গ্রহণ করছি।’

চট্টগ্রামের গুরুত্ব তুলে ধরে এ্যানি বলেন, ‘সব আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম নগরী সুন্দরভাবে পরিচালিত হবে। যেহেতু এ জেলা ঐতিহ্যবাহী একটা ব্যবসায়িক অঞ্চল, বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক সিটি।’

আগামী দিনে চট্টগ্রামের উন্নয়নেও বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আজকে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা আগামী দিনে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় চট্টগ্রামকে গুরুত্ব দিয়ে যেসব উন্নয়নকাজ সমন্বয় করা দরকার, সেই দিকেও বিশেষভাবে নজর দেব—এ প্রত্যাশাও ব্যক্ত করছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা খুব দায়িত্বশীলতার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সব পরিস্থিতিকে মোকাবেলা করে দেশের আইন-শৃঙ্খলার উন্নয়ন এবং বিশেষ করে এ চট্টগ্রাম নগরী ও জেলার আইন-শৃঙ্খলার উন্নয়নের স্বার্থে আমরা কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। এ এলাকার মানুষ সেখান থেকে তার ফলাফল পাবেন।’

এর আগে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।

আরও