অধ্যাদেশ থেকে আইনের অধীনে এল পেট্রোবাংলা

বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন নিয়ে ১৯৮৫ সালের অধ্যাদেশ রহিত করেছে সরকার। নতুন করে এ অধ্যাদেশ আইনে পরিণত করতে নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল মন্ত্রিসভার বৈঠকে অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করতে নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়।

বাংলাদেশ তেল, গ্যাস খনিজ সম্পদ করপোরেশন নিয়ে ১৯৮৫ সালের অধ্যাদেশ রহিত করেছে সরকার। নতুন করে অধ্যাদেশ আইনে পরিণত করতে নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল মন্ত্রিসভার বৈঠকে অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করতে নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়।

ফলে এখন থেকে অধ্যাদেশের পরিবর্তে আইনের আওতায় চলবে পেট্রোবাংলা। করপোরেশনকে বর্তমানের মতো পেট্রোবাংলা নামে অভিহিত করা হবে।

খসড়ার নীতিমালা থেকে জানা যায়, রাষ্ট্রীয় সংস্থাটির অনুমোদিত মূলধন হবে হাজার কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ২০০ কোটি টাকা, যা প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারই সরবরাহ করবে।

২০১১ সালে সুপ্রিম কোর্টের এক রায়ে ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ থেকে ১৯৮৬ সালের ১১ নভেম্বর পর্যন্ত সামরিক সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলোর কার্যকারিতা লোপ পায়। ফলে সব অধ্যাদেশকে ধীরে ধীরে আইনে পরিণত করার পদক্ষেপ নেয় সরকার। এরই অংশ হিসেবে এত দিন অধ্যাদেশে চলে আসা পেট্রোবাংলাকে আইনের অধীনে নিয়ে এল সরকার।

খসড়া আইন অনুযায়ী উপধারা () যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, উপধারা () অনুমোদিত বা পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ পরিবর্তন এবং উৎস নির্ধারণ করতে পারবে সরকার। উপধারা () () যাহা কিছুই থাকুক না কেন, করপোরেশন তার সব বা যেকোনো কার্যসম্পাদনের উদ্দেশ্যে, সরকারের অনুমোদনক্রমে, দেশী বা বিদেশী ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা অন্য কোনো উৎস থেকে ঋণ বা অনুদান নিয়ে পৃথকভাবে মূলধন বাড়াতে পারবে।

খসড়া অনুযায়ী একজন অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে সরকার করপোরেশনের চেয়ারম্যান নিয়োগ করবে। বর্তমান অধ্যাদেশ অনুযায়ীও অতিরিক্ত সচিব চেয়ারম্যান পদে আছেন। তিনিই করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী। চেয়ারম্যান অন্য কোনো করপোরেশন, কোম্পানি বা ব্যবসায় কোনো পরিচালক পদে থাকলে তা পরিত্যাগ করতে হবে।

প্রসঙ্গত, ১৯৮৫ সালের ১১ এপ্রিল জারীকৃত এক অধ্যাদেশের মাধ্যমে বিওজিসি বিএমইডিসিকে একীভূত করে বাংলাদেশ তৈল, গ্যাস খনিজসম্পদ করপোরেশন (বিওজিএমসি) গঠন করা হয়। এরপর ওই অধ্যাদেশের আংশিক সংশোধনক্রমে ১৯৮৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি জারীকৃত ১১ নং আইনের মাধ্যমে এই করপোরেশনকে পেট্রোবাংলা নামে সংক্ষিপ্ত নামকরণ করা হয় এবং তৈল, গ্যাস খনিজ অনুসন্ধান উন্নয়নের উদ্দেশ্যে গঠিত কোম্পানিগুলোর শেয়ার ধারণের ক্ষমতা অর্পণ করা হয়।

মন্ত্রিসভার বৈঠক থেকে আরো জানা যায়, গত জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত মন্ত্রিসভা বৈঠকে একটি নীতি বা কর্মকৌশল এবং একটি চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) অনুমোদিত হয়েছে। সময়ে সংসদে আইন পাস হয়েছে ছয়টি।

আরও