এর প্রতিবাদে সীমান্ত এলাকায় অবস্থানরত দুই ভারতীয় নাগরিককে আটক করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে গতকাল বেলা ২টার দিকে এ ঘটনায় পতাকা বৈঠক করেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বিএসএফের কর্মকর্তারা। বৈঠক থেকে আটক তিনজনকেই নিজ নিজ দেশের সীমান্ত বাহিনীর হাতে তুলে দেয়া হয়।
এর আগে সকাল ৮টার দিকে উপজেলার ইছাখালী সীমান্ত পয়েন্টে বাংলাদেশী আব্দুল মান্নানকে ধরে নিয়ে যায় বিএসএফ। তিনি ইছাখালী মসজিদপাড়ার প্রয়াত নূর বক্সের ছেলে।
আটক করে আনা ভারতীয় দুই নাগরিক হলেন সে দেশের নদীয়া জেলার তেহট্টা থানার লালবাজার গ্রামের প্রয়াত মনমোহন দাসের ছেলে শচীন দাস (৬৫) ও একই এলাকার কুঞ্জ বিশ্বাসের ছেলে নারায়ণ বিশ্বাস (৩৫)।
আব্দুল মান্নানের নাতি ইব্রাহিম জানান, গতকাল সকাল ৮টার দিকে তাদের বাড়ির পাশে মরিচের জমিতে কীটনাশক দিতে যান তার দাদা। এ সময় ১২৪/৪-এস সীমান্ত পিলার এলাকার কাছ থেকে বিএসএফ সদস্যরা আব্দুল মান্নানকে ধরে নিয়ে যান।
আব্দুল মান্নানকে ধরে নিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে কিছুক্ষণ পর ১২৩/৩-এস সীমান্ত পিলার এলাকা থেকে ভারতের লালবাজার গ্রামের দুই নাগরিককে ধরে আনেন বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী গ্রামের লোকজন। পরে তাদের ইছাখালী বিজিবি ক্যাম্পে সোপর্দ করা হয়।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশী ওই কৃষক সীমান্তের নোম্যান্স ল্যান্ডসংলগ্ন কৃষিজমিতে কাজ করছিলেন। এ সময় বিএসএফ সদস্যরা তাকে আটক করে নিয়ে যান। পরে স্থানীয়রা সীমান্ত এলাকায় থাকা দুই ভারতীয় নাগরিককে আটক করে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করেন।
এ ঘটনায় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর যোগাযোগ হলে ইছাখালী সীমান্তের শূন্যরেখায় চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি) ও বিএসএফের মধ্যে ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সফল আলোচনা শেষে আটক বাংলাদেশী কৃষক আব্দুল মান্নানকে বিজিবির কাছে এবং আটক দুই ভারতীয় নাগরিককে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান জানান, জিরো লাইনের কাছে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসনে দ্রুত পতাকা বৈঠকের আয়োজন করা হয়। ফলপ্রসূ আলোচনার মাধ্যমে উভয় পক্ষকে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে নিজ নিজ বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।
ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ের এ পতাকা বৈঠক করেন ভারতের নবচন্দ্রপুর বিএসএফ ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার রাজিব কুমার এবং ইছাখালী বিজিবি ক্যাম্প কমান্ডার নায়েক সুবেদার আবু হানিফ।