শুধু উচ্চপ্রযুক্তি নয়, প্রাকৃতিক আলো-বাতাসেই স্মার্ট আবাসনের প্রাণ বলে মনে করেন স্পেস জিরো লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) স্থপতি ফয়েজ উল্লাহ। তিনি বলেন, শুধু উচ্চপ্রযুক্তি, সৌরবিদ্যুৎ বা নানা ধরনের গ্যাজেট নয়; বরং স্মার্ট আবাসন মানেই একটি বাড়িতে প্রাকৃতিকভাবে আলো-বাতাস খেলা করবে। এর সঙ্গে সাশ্রয়ী জ্বালানি ও পানির ব্যবহার এবং হাঁটাচলার সুবিধা নিশ্চিত করাই স্মার্ট আবাসনের মূল বৈশিষ্ট্য। একই সঙ্গে আবাসন খাতকে স্মার্ট ও টেকসই করতে নতুন করে বিপুল সম্পদ সংগ্রহের চেয়ে বিদ্যমান নীতিমালার কার্যকর বাস্তবায়ন, অর্থায়ন ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ জরুরি।
বুধবার (৭ অক্টোবর) রাজধানীর বনানীতে হোটেল শেরাটনে বণিক বার্তা আয়োজিত ‘স্মার্ট সিটি কনক্লেভ ২০২৬’-এ ‘আবাসন, নির্মাণ ও টেকসই নগরায়ন’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনার ‘স্মার্ট-সবুজ আবাসন ও অর্থায়ন’-এর ওপর বিষয়ভিত্তিক আলোচনায় স্পেস জিরো লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এসব কথা বলেন।
গত পাঁচ-ছয় দশকে যুদ্ধবিধ্বস্ত জাপান এবং সিউল ও সিঙ্গাপুরের মতো শহরের দ্রুত উন্নয়নের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, এসব অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য অনুপ্রেরণা হতে পারে। তবে সীমিত সম্পদ ও দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে উন্নয়নের কৌশল নির্ধারণ করতে হবে।
বিশ্বব্যাংকের তথ্যের বরাত দিয়ে স্থপতি ফয়েজ উল্লাহ বলেন, দেশে প্রতিবছর প্রায় আড়াই লাখ থেকে তিন লাখ হাউজিং ব্যাকলগ যুক্ত হচ্ছে। ফলে বিদ্যমান আবাসন ঘাটতি পূরণ করাই এখন প্রথম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। আমাদের এ যে ব্যাকলগ, এটাকে কিভাবে মিটিগেট এবং স্মার্ট করা—সেটা তো পরের বিষয়; প্রথমত হচ্ছে আমাকে সাপ্লাই দিতে হবে, তারপরে সেটাকে স্মার্ট করতে হবে।
আবাসন খাতকে জ্বালানি সাশ্রয়ের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, দেশে উৎপাদিত মোট জ্বালানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আবাসিক খাত ব্যবহার করে। তাই এ খাতে দক্ষতা বাড়াতে পারলে বড় ধরনের জ্বালানি সাশ্রয় সম্ভব।
স্পেস জিরো লিমিটেডের এমডি বলেন, রেসিডেনশিয়াল সেক্টরকে যদি আমরা স্মার্ট করতে পারি, গ্রিন করতে পারি, তাহলে কিন্তু একটা বড় ধরনের সাশ্রয় আমরা এনার্জিতে করতে পারব।
অন্যদিকে, আবাসন খাতের অর্থায়ন ব্যবস্থার দুর্বলতাও টেকসই নগরায়ণের পথে বড় বাধা বলে উল্লেখ করেন তিনি। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে জিডিপির ২ শতাংশেরও কম (১ দশমিক ৮৯৮ শতাংশ) সমপরিমাণ মর্টগেজ ফাইন্যান্স হয়। চীনে এ হার ৩০ শতাংশ এবং মালয়েশিয়ায় ৫০ শতাংশের বেশি।
স্থপতি ফয়েজ উল্লাহ বলেন, আমাদের দেশে ফাইন্যান্সের সঙ্গে সিটি টেকসই বা স্মার্ট করার বিষয়টা এতটা রিলেট, কিন্তু আমরা কখনোই ওটার দিকে তাকাই না। তাহলে আমরা কিভাবে এখান থেকে উত্তরণ হব? আমাদেরকে ওই জায়গাটায় সিরিয়াসলি চিন্তা করতে হবে।
তিনি বলেন, কম জ্বালানি বিল ও পানির চাহিদা নিশ্চিত করা যায় এমন বাড়িই প্রকৃত অর্থে স্মার্ট আবাসন। এর পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ, এনার্জি অডিট এবং কম জীবনচক্র ব্যয়ের নির্মাণ উপকরণ ব্যবহারের উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে।
আবাসনের অবস্থানও টেকসই নগরায়ণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো ভবন পরিবেশবান্ধবভাবে নির্মিত হলেও সেটি যদি শহরের প্রয়োজনীয় সেবা ও কর্মস্থল থেকে দূরে হয় এবং বাসিন্দাদের দীর্ঘ পথ যাতায়াত করতে হয়, তাহলে পরিবহনজনিত কার্বন নিঃসরণ বাড়তে পারে। ট্রান্সপোর্টেশনের ও ইনফ্রাস্ট্রাকচারের সঙ্গেও হাউজিংয়ের একটা বড় সম্পর্ক আছে। যে আমার হাউসহোল্ড, আমার নেইবারহুড, তার সঙ্গে মোবিলিটি আমার কত কাছাকাছি সবকিছু আছে; আমি শহরে হাঁটতে পারছি কিনা, হেঁটে চলাচল করতে পারছি কিনা—এ সুবিধাটা তৈরি করা।