ঘূর্ণিঝড় অশনির প্রভাব

লক্ষ্মীপুরে বৃষ্টির পানিতে সয়াবিন খেতে পচন

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘অশনি’র প্রভাবে টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতে লক্ষ্মীপুরে সয়াবিন খেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জলাবদ্ধতা সৃষ্টির ফলে বেশির ভাগ সয়াবিন গাছ পানিতে পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এতে সয়াবিন চাষীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘অশনি’র প্রভাবে টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতে লক্ষ্মীপুরে সয়াবিন খেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জলাবদ্ধতা সৃষ্টির ফলে বেশির ভাগ সয়াবিন গাছ পানিতে পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এতে সয়াবিন চাষীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। পানির নিচ থেকে সয়াবিন তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। ক্ষতির বিষয় স্বীকার করেছেন জেলা কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, এখনো ৭০ শতাংশ সয়াবিন মাঠে রয়েছে। বৃষ্টির কারণে এসব সয়াবিন মাঠেই নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জানা যায়, উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুর সয়াবিন ভালো উৎপাদন হয়। দেশের ৮৫ শতাংশ সয়াবিন উৎপাদন হয় লক্ষ্মীপুর জেলায়। কয়েক বছর ধরে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এ অঞ্চলের সয়াবিন চাষীরা। 

সরেজমিন সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের পশ্চিম চরমনসা গ্রাম ও কমলনগর উপজেলার কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ মাঠে সয়াবিন খেত তলিয়ে আছে পানির নিচে। এতে করে সয়াবিন গাছে পচন ধরেছে। কৃষক শ্রমিক নিয়ে হাঁটু সমান পানি থেকে গাছ পাকা সয়াবিন সংগ্রহ করে খেতের পাশেই উঁচু স্থানে স্তূপ করে রাখছেন। আবার কেউ পাকা সড়কের ওপর সারি করে রেখে দিচ্ছেন সয়াবিন।

চরভূতা গ্রামের সয়াবিন চাষী মো. সিরাজ জানান, চলতি বছরে দেড় একর জমিতে সয়াবিনের আবাদ করেছেন। এতে তার প্রায় ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। সয়াবিনের ভালো ফলনও হয়েছে। তবে কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির কারণে খেতেই সব সয়াবিন পচে গেছে। এতে লোকসানে পড়তে হবে তাকে। আক্ষেপ করে কৃষক সিরাজ আরো বলেন, ছোটবেলা থেকে চাষাবাদের সঙ্গে জড়িত। সরকার সবসময় কৃষকদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেয়। কিন্তু তিনি কখনো সরকারের সহয়তা পাননি।

পানির নিচ থেকে সয়াবিন গাছ তুলছিলেন চাষী মো. শামিম হোসেন। জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বছর ৩০-৩৫ হাজার টাকা খরচ করে ১ কানি (১২০ শতক) জমিতে সয়াবিনের আবাদ করেন। খেতের ৮০-৯০ ভাগ সয়াবিন পাকা। টানা বৃষ্টি ও শ্রমিক সংকটের কারণে সয়াবিন ঘরে তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন। বেশির ভাগ শ্রমিক এ সময় ইটভাটায় কাজ করেন। বৃষ্টি না হলে সয়াবিনে লাভবান হতেন।

ভবানীগঞ্জ ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হারুনুর রশিদ হারুন বলেন, রাজনীতির পাশাপাশি তিনি চাষাবাদও করেন। এ বছর ১ কানি জমিতে ৩০ হাজার টাকা খরচ করে সয়াবিন আবাদ করেন। ঘূর্ণিঝড় অশনির কারণে ফসলের মাঠে পানি জমে গেছে। এতে করে সয়াবিন গাছগুলোয় পচন ধরেছে। এবার প্রতিটি সয়াবিন গাছে থোকায় থোকায় ফলন এসেছে। টানা বৃষ্টি না হলে লাভবান হতেন।

লক্ষ্মীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর লক্ষ্মীপুর পাঁচটি উপজেলায় ৩৮ হাজার হেক্টর জমিতে সয়াবিনের আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায় ২ হাজার ৩০০ হেক্টর, রায়পুরে ৫ হাজার ৮৮৫ হেক্টর, রামগঞ্জে ৫০ হেক্টর, রামগতিতে ১৬ হাজার ৫৬৫ হেক্টর ও কমলনগর উপজেলায় ১২ হাজার ২০০ হেক্টর।

লক্ষ্মীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপপরিচালক ড. মো. জাকির হোসেন জানান, এখনো কৃষকদের ৭০ ভাগ সয়াবিন মাঠে রয়েছে। ৩০ ভাগ সয়াবিন মাঠ থেকে তোলা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় অশনির প্রভাবে টানা বৃষ্টির কারণে সয়াবিন চাষীদের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা নিরূপণ করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রণোদনার আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে কৃষকদের দ্রুত মাঠ থেকে সয়াবিন ঘরে তোলার পরামর্শ দেন তিনি।

আরও