ইতালিতে অভিনেত্রী বাঁধনের ওপর হামলা

সংসদে নিন্দা

বাঁধন বলেন, ‘আমার সঙ্গে যে ন্যক্কারজনক ঘটনাটি ঘটেছে, যারা এটি করেছেন তারা নিজেদের বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী বলে পরিচয় দিয়েছেন। আমার গায়ে হাত তোলা হয়েছে।

ইতালির ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে গিয়ে হামলা ও হেনস্তার শিকার হয়েছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। বাংলাদেশ সময় সোমবার গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ভিডিও বার্তায় অভিনেত্রী নিজেই এ হামলার বিষয়ে জানান। আওয়ামী লীগের কর্মীরা তাকে হেনস্তা ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছে বলে অভিযোগ করেন বাঁধন। এ ঘটনার প্রতিবাদে সংসদে নিন্দা জানানো হয়েছে।

ভিডিও বার্তায় অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন জানান, নিজ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঘুরতে গেলে তিনি শারীরিকভাবে হামলা ও কটূক্তির শিকার হন। এমনকি হামলাকারীরা নিজেদের রাজনৈতিক দলের পরিচয় দিয়ে তাকে বাজে মন্তব্য করেন। ভেনিস শহরের মেস্ত্রে এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

বাঁধন বলেন, ‘আমার সঙ্গে যে ন্যক্কারজনক ঘটনাটি ঘটেছে, যারা এটি করেছেন তারা নিজেদের বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী বলে পরিচয় দিয়েছেন। আমার গায়ে হাত তোলা হয়েছে। আমার ভাইয়ের স্ত্রীকেও ধাক্কা দেয়া হয়েছে। আপনাদের এ ধরনের অসংলগ্ন আচরণ থেকে বের হয়ে আসা উচিত।’

ওই ঘটনার পর ইতালিতে বাংলাদেশ দূতাবাস ও সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে সব প্রমাণ আছে এবং এরই মধ্যে বেশ কয়েকজনকে শনাক্ত করেছি। দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে আমি থানায় যাচ্ছি কেস ফাইল (মামলা) করতে। বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও আমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষ না করে দেশে ফিরব না। আমি কেস ফাইল না করে ভেনিস থেকে বাংলাদেশে ফিরছি না। এটার শেষ আমি দেখে ছাড়ব।’

অভিনেত্রী আরো বলেন, ‘আমাকে ভয় দেখিয়ে দমানো যাবে না। আমাকে ভেঙে ফেলা এত সহজ নয়। আমি কখনো মাথা নত করিনি, আর তা করতে ভুলেও গেছি। ইতালির স্থানীয় পুলিশ আমাকে অনেক সাহায্য করেছে এবং একটি নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দিয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে প্রচুর মানুষ আমাকে ফোন করছেন ও খবর নিচ্ছেন। আমি সবাইকে বলতে চাই, আমি ঠিক আছি।’

জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে বাঁধন বলেন, ‘আমি জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে বাংলাদেশের জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছিলাম। আমি মনে করি, এটি আমার জীবনে নেয়া অন্যতম সঠিক সিদ্ধান্ত। আমি একজন গর্বিত জুলাই যোদ্ধা। বিপদের দিনে দেশের মানুষ যেভাবে আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন, তার জন্য আমি সবার প্রতি কৃতজ্ঞ।’

এদিকে অভিনেত্রী বাঁধনকে হেনস্তা ও লাঞ্ছিতের ঘটনায় কাউকে ছাড় দেয়া হবে না বলে সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। এ ঘটনায় দেশটিতে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

হামলার ঘটনায় সরকারের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হবে কিনা—এ প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি আপনাকে এটা নিশ্চিত করছি, এ ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা ওই দেশে যা যা নেয়া, এটার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আমরা অবশ্যই এটা ছেড়ে দেব না, এটা কোনোভাবেই ছেড়ে দেয়া যাবে না।’

এ ঘটনার জেরে গতকাল সংসদে এনসিপির সংসদ সদস্য আখতার হোসেন ও বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য জহরত আদিব চৌধুরী সংসদে নিন্দা জানান এবং সরকারের এ বিষয়ে পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চান। আখতার হোসেন পয়েন্ট অব অর্ডারে জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তিনি যখন জাতিসংঘের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন, তখনো এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। তিনি জানতে চান, এ অবস্থায় এসব হামলাকারীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য সরকারের কোনো পরিকল্পনা, পদক্ষেপ আছে কিনা।

জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানান, এ বিষয়ে পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তারা এ ঘটনাটি খতিয়ে দেখবেন। অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় ইতালিতে বাংলাদেশ দূতাবাস কাজ করছে বলেও জাতীয় সংসদকে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি নিজেও বাঁধনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলে জানান। এ বিষয়ে তাকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেয়া হয়েছে। হুমায়ুন কবির বলেন, ‘একজন জুলাই যোদ্ধার ওপর হামলা মানে এ দেশের গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার ওপর হামলা।’

ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, ‘এ ঘটনা অত্যন্ত অমার্জনীয়, নিন্দনীয় অপরাধ, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ, নির্মমতার চরম বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।’

আরও