নিজস্ব তহবিল থেকে চিকিৎসা খরচ জোগানো সাধারণ মানুষের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তাই এটি কমিয়ে আনার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ‘রিফর্ম পাথওয়েজ ফর হেলথ সেক্টর’ শীর্ষক নীতিনির্ধারণী সংলাপ অনুষ্ঠানের বক্তারা। তারা বলেছেন, স্বাস্থ্যসেবাকে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে অগ্রাধিকারমূলক খাত হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
গতকাল ঢাকার ব্র্যাক সেন্টার মিলনায়তনে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। ‘ইউএইচসি ডে ২০২৪’ উপলক্ষে ইউএইচসি (ইউনিভার্সাল হেলথ কাভারেজ) ফোরাম ও ব্র্যাক যৌথভাবে এ সংলাপের আয়োজন করে। স্বাস্থ্য খাতে প্রয়োজনীয় সংস্কারের পদক্ষেপ নির্ধারণ ও মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতার আলোকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ চিহ্নিত করার উদ্দেশ্যে এ সংলাপের আয়োজন করা হয়।
এছাড়া প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে অবশ্যই স্বাস্থ্য খাত সংস্কারের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা ও সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যবীমা চালু করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তারা। পাশাপাশি মাধ্যমিক ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. সাইদুর রহমান এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব ডা. মো. সারোয়ার বারী অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। ইউএইচসি ফোরামের আহ্বায়ক ও ব্র্যাকের চেয়ারপারসন ড. হোসেন জিল্লুর রহমান স্বাগত বক্তব্য দেন এবং সমাপনী অধিবেশনে আলোচনার সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব হেলথ ইকোনমিকসের অধ্যাপক ও স্বাস্থ্য সংস্কার জোটের আহ্বায়ক ড. সৈয়দ এ হামিদ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ডা. আবুল কালাম আজাদ, স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. লিয়াকত আলী, ডা. নায়লা জেড খান এবং ব্র্যাকের স্বাস্থ্য কর্মসূচি ও মানবিক সংকট ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির ঊর্ধ্বতন পরিচালক ড. মো. আকরামুল ইসলাম প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
মো. সাইদুর রহমান বলেন, ‘স্বাস্থ্য খাতে এনজিও ও বেসরকারি সংস্থার মূল্যবান অবদানগুলোর স্বীকৃতি দিতে হবে এবং তাদের প্রচেষ্টাকে সহায়তা করতে হবে, যাতে আমরা সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারি। একে অন্যকে দোষারোপ না করে সমন্বিত পদক্ষেপে মনোনিবেশ করা জরুরি।’
ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ‘স্বাস্থ্যসেবাকে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে অগ্রাধিকারমূলক খাত হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে সেবা গ্রহণে প্রবেশাধিকার, সেবাপ্রদানের গুণগত মান, সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ এবং রোগ প্রতিরোধমূলক প্রচার ও প্রসার। রোগীকেন্দ্রিক মানসম্মত সেবাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং একই সঙ্গে স্বাস্থ্য খাতে অর্থায়ন, মানবসম্পদ ও সামগ্রিকভাবে স্বাস্থ্য খাতকে শক্তিশালী করতে হবে। আমাদের এ চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করতে হবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাত সংস্কারের রূপরেখাটি চিহ্নিত করতে হবে এবং সে রূপরেখা বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জগুলো অতিক্রম করতে হবে।’
অধ্যাপক ড. সৈয়দ এ. হামিদ বলেন, ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য বীমা নিশ্চিত করতে হলে সরকারকে ভর্তুকি ছাড়াও প্রিমিয়াম সংগ্রহের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। একই সঙ্গে সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার সংস্কার ও অর্থ বরাদ্দের নিয়মে পরিবর্তন আনতে হবে।’
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘বাংলাদেশে অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা ও স্বাস্থ্যসেবায় বৈষম্যের কারণে ভোগান্তি রয়েছে। এটি সমাধানের জন্য সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবাকে (ইউএইচসি) অগ্রাধিকার দিতে হবে।’
স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ডা. লিয়াকত আলী বলেন, ‘মানুষ স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছ থেকে একটি পরিষ্কার পথনির্দেশনা আশা করছে, যেখানে লিঙ্গ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সমতা নিশ্চিত হবে। সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় বাজেট বাড়াতে হবে।’