জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গতকাল সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। প্রধানমন্ত্রী এ সফরে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নতুন ভিশন ও অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো তুলে ধরবেন বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠক হবে কিনা জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কে যাওয়ার প্রাথমিক উদ্দেশ্য হলো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেয়া। সাইডলাইনে কিছু বৈঠক তো হবেই, এগুলো প্রায় একদম শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত হয়। উনি যখন যাবেন, যাদের সঙ্গেই দেখা বা বৈঠক হবে, আপনাদের জানানো হবে। এটা কোনো গোপন কিছু হবে না, আপনাদের জানানো হবে।’
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে দেশ ছেড়ে যাবেন। তিনি সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন এবং বাংলাদেশের নতুন ভিশন ও অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরবেন। সফরকালে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে একাধিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সাইডলাইন মিটিং অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ভিশন তুলে ধরার পাশাপাশি দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে আলোচনা হবে।’
বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক রিসেট (নতুনভাবে শুরু করা) চায় উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, ‘এ সম্পর্ক অতীতের ১৫ বছরের সম্পর্ক থেকে বের হয়ে নতুন দিকে যাবে। তাই ভারতে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় সফর হওয়া উচিত। বহুপক্ষীয় সফর নয়।’
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠক হবে কিনা সে বিষয়ে এক সাংবাদিক জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আপনার প্রশ্নটি সঠিক হয়নি। ভারত নিয়ে মুগ্ধতা (ফেসিনেশন) থেকে বের হয়ে আসুন। ভারত কেবল আরেকটি প্রতিবেশী দেশ, যার সঙ্গে আমরা ভালো দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক চাই। সকালের নাশতা, দুপুরের খাবার, রাতের খাবার—সবসময় খালি ভারতের কথাই ভাবলে চলবে না। নিজের দেশের কথা ভাবুন। যার সঙ্গে যখন দ্বিপক্ষীয় বা বহুপক্ষীয় কথা বলা দরকার, আমরা অবশ্যই তা বলব। কিন্তু সাইডলাইনে সবার সঙ্গে তো আর দেখা করা সম্ভব নয়। তবে আমাদের অনেক নিমন্ত্রণ থাকবে এবং অনেক দেশের সঙ্গে আলোচনা হবে।’
আগামী জানুয়ারিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াবিষয়ক আঞ্চলিক পরিচালক পদে নির্বাচন রয়েছে। সম্প্রতি এ পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন সায়মা ওয়াজেদ হোসেন। সেখানে বাংলাদেশ নতুন কোনো প্রার্থী দেবে কিনা সে প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ওই পদে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের নিয়োগটিই ছিল অত্যন্ত দুঃখজনক ও বিতর্কিত। এমন একটি উচ্চ পর্যায়ের পদের জন্য তার প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা বা দক্ষতা কিছুই ছিল না। একটি স্বৈরাচারী সরকার স্বজনপ্রীতি করে তাকে সেই পদে বসিয়েছিল। আপনারা জানেন, ওই পুরো পরিবারের দুর্নীতি ও জালিয়াতির খবর এখন একটির পর একটি সামনে আসছে। সুতরাং তার নিয়োগ নিয়ে তদন্ত হওয়া মোটেও বিস্ময়কর নয়।’
আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর নিয়োগ প্রক্রিয়া আরো স্বচ্ছ ও কঠোর করা উচিত বলে অভিমত দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘যারা এমন দুর্নীতি ও বিতর্কের সঙ্গে জড়িত, তাদের এসব সংস্থায় রাখা উচিত নয়। কারণ এতে বিশ্বমঞ্চে সংস্থাগুলোর সম্মান নষ্ট হয়। এসব সংস্থায় এমন যোগ্য ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের আনা উচিত, যারা সঠিকভাবে নেতৃত্ব দিতে পারেন।’
ভবিষ্যতে সঠিক যোগ্যতাসম্পন্ন কোনো প্রার্থীকে সমর্থন করবেন উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘যেমন মালদ্বীপের প্রার্থীর কথা ভাবা যেতে পারে, যার ভালো ট্র্যাক রেকর্ড ও যোগ্যতা রয়েছে। আশা করি, অদূরভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানটি দক্ষ নেতৃত্বের হাতেই পরিচালিত হবে।’