কক্সবাজার সৈকত রক্ষায় হাইকোর্টের আদেশের প্রশংসায় জাতিসংঘের বিশেষ র‍্যাপোর্টার

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম লিংকডইনে দেয়া পোস্টে অ্যাস্ট্রিড ফুয়েন্তেস হাইকোর্টের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। তিনি লিখেছেন, ‘বাংলাদেশ থেকে চমৎকার খবর! দেশের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত রক্ষায় হাইকোর্ট বিভাগ একটি রাস্তা নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন।

কক্সবাজারের প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন সুগন্ধা-কলাতলী সৈকতের বালিয়াড়িতে সড়ক নির্মাণ কার্যক্রম বন্ধে ২ সেপ্টেম্বর আট সপ্তাহের নিষেধাজ্ঞা দেন হাইকোর্ট। এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে হোটেল সায়মন পর্যন্ত প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় ও ‘নো ডেভেলপমেন্ট জোনে’ কক্সবাজার পৌরসভার ১ দশমিক ৬ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) ওই রিটটি করেছিল।

বেলার রিট ও সড়ক নির্মাণ বন্ধে হাইকোর্টের দেয়া নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে এর গুরুত্ব তুলে ধরেছেন জাতিসংঘের পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও টেকসই পরিবেশের মানবাধিকারের বিষয়ক বিশেষ র‍্যাপোর্টার অ্যাস্ট্রিড ফুয়েন্তেস রিয়ানো, যিনি কলম্বিয়ান বংশোদ্ভূত মেক্সিকোর আইনের অধ্যাপক।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম লিংকডইনে দেয়া পোস্টে অ্যাস্ট্রিড ফুয়েন্তেস হাইকোর্টের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। তিনি লিখেছেন, ‘বাংলাদেশ থেকে চমৎকার খবর! দেশের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত রক্ষায় হাইকোর্ট বিভাগ একটি রাস্তা নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। হাইকোর্টের এ সিদ্ধান্তটি এসেছে মূলত ওই এলাকায় রাস্তা নির্মাণের সম্ভাব্য বিরূপ প্রভাবের ওপর ভিত্তি করে, যা একটি প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা এবং বিশ্বের দীর্ঘতম অবিচ্ছিন্ন প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকত হিসেবে পরিচিত।’

তিনি আরো লিখেছেন, ‘এ ধরনের অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ, সমন্বিত, স্বাধীন ও পর্যাপ্ত পরিবেশগত, সামাজিক এবং মানবাধিকারের ওপর প্রভাব নিরূপণ বা মূল্যায়ন করা আবশ্যক। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মূল্যায়ন করাও রাষ্ট্রের একটি দায়িত্ব।’

সমুদ্র ও মানবাধিকার এবং পরিবেশগত, সামাজিক ও মানবাধিকারের প্রভাব মূল্যায়ন নিয়ে তার প্রস্তুত করা প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব বিষয়ই ওই প্রতিবেদনে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

অ্যাস্ট্রিড ফুয়েন্তেস আরো লিখেছেন, ‘যারা মামলাটি আদালতে নিয়েছেন তাদেরও ধন্যবাদ, কারণ পরিবেশগত ন্যায়বিচারের অধিকার সুস্থ পরিবেশের অধিকারেরই একটি অপরিহার্য অংশ।’

আরও