১৫ ও ১৬ অক্টোবর এলপিজি বিক্রি বন্ধের ঘোষণা পরিবেশকদের

দেশের বাজারে এলপিজির তীব্র সংকট ও নির্ধারিত দামের চেয়ে সিলিন্ডারপ্রতি ৫০০-৭০০ টাকা বাড়তি দাম নেয়ার কথা জানিয়েছেন ভোক্তারা। এ দামেও এলপিজি বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। অপারেটররা দাবি করেছেন, তারা বাজারে বিইআরসি নির্ধারিত দামে এলপিজি ছাড়লেও ডিস্ট্রিবিউটর, ডিলার ও খুচরা পর্যায়ে পণ্যটির দাম বেশি রাখা হচ্ছে।

হয়রানি বন্ধসহ বেশ কয়েকটি দাবিতে আগামী বৃহস্পতি ও শুক্রবার সারা দেশে সব তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন পরিবেশকরা। দাবি মানা না হলে পরবর্তী সময়ে আরো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তাদের সংগঠন ‘এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড’। গতকাল রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন সংগঠনটির নেতারা।

সংগঠনের সভাপতি মো. সেলিম খান বলেন, ‘সমিতির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী টানা দুইদিন সারা দেশে এলপি গ্যাসের দোকান বন্ধ থাকবে।’

এলপি গ্যাস সমিতির দাবির মধ্যে রয়েছে পরিবেশকদের কমিশন বাড়ানো, কোনো কোম্পানি ইচ্ছা মতো মাসে একাধিকবার দাম বাড়াতে পারবে না, বাড়াতে হলে বিইআরসির মাধ্যমে বাড়াতে হবে; দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা কোম্পানির সিলিন্ডারে গ্যাস ভরার ব্যবস্থা করা ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অযৌক্তিক জরিমানা আরোপ বন্ধ করা।

সমিতির সভাপতি সেলিম খান অভিযোগ করেন, সিলিন্ডার পরিবহনের গাড়িতে নিরাপত্তাবেষ্টনী থাকা বাধ্যতামূলক। এর পরও পুলিশ প্রায়ই এ কারণে ব্যবসায়ীদের নামে মামলা দেয় ও হয়রানি করে। সরকারি সংস্থাগুলোর কাছে বারবার আবেদন করেও এর কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। এছাড়া জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের জরিমানারও সমালোচনা করেন তিনি। উদাহরণ হিসেবে তিনি জানান, খুলনা-বাগেরহাটে মাত্র ৪০টি অতিরিক্ত সিলিন্ডার মজুদ রাখার অভিযোগে এক পরিবেশককে বড় অংকের জরিমানা করা হয়। তার মালপত্রও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

এর আগে ৪ অক্টোবর দেশের বাজারে এলপিজির দাম বাড়ায় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা করা হয়। যদিও বাজারে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে ৫০০-৬০০ টাকা বাড়তি দিতে হচ্ছে ক্রেতাদের। এলপিজি পরিবেশকরা বলছেন, তাদের কমিশন না বাড়ালে নির্ধারিত দামে তারা বিক্রি করতে পারবেন না। তাই প্রতি সিলিন্ডারে কমিশন ৫০ থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকা করতে ৮ অক্টোবর বিইআরসিতে চিঠি দিয়েছে তারা।

দেশের বাজারে এলপিজির তীব্র সংকট ও নির্ধারিত দামের চেয়ে সিলিন্ডারপ্রতি ৫০০-৭০০ টাকা বাড়তি দাম নেয়ার কথা জানিয়েছেন ভোক্তারা। এ দামেও এলপিজি বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। অপারেটররা দাবি করেছেন, তারা বাজারে বিইআরসি নির্ধারিত দামে এলপিজি ছাড়লেও ডিস্ট্রিবিউটর, ডিলার ও খুচরা পর্যায়ে পণ্যটির দাম বেশি রাখা হচ্ছে।

দেশের বাজারে এলপি গ্যাসের আমদানি কম হয়েছে—সরকারি তথ্য-উপাত্তে এমনটি দেখা যাচ্ছে না। গত মাসেও ১ লাখ ৫৬ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছে। তবে গ্যাস সংকট বেড়ে যাওয়া এবং শিল্পে চাহিদা বাড়তি হওয়ায় আমদানি করা এলপিজির ১৭ শতাংশ চলে যাচ্ছে শিল্পে। যাতে আবাসিকে এলপিজির হিস্যা কিছুটা কমে যাচ্ছে।

আরও