যুদ্ধাপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আবুল কালাম আজাদের আত্মসমর্পণ

আজ সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে তিনি আত্মসমর্পণ করেন আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকার।

বাচ্চু রাজাকারের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের রায়ে মুক্তিযুদ্ধকালে ১৪ জনকে হত্যা, তিন নারীকে ধর্ষণ, নয়জনকে অপহরণ, ১০ জনকে আটক রাখা, পাঁচ বাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং ১৫টি বাড়ির মালামাল লুণ্ঠনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে প্রথম মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত পলাতক আসামি ফরিদপুরের আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকার আত্মসমর্পণের আবেদন করেছেন।

আজ বুধবার সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে তিনি আত্মসমর্পণ করেন।

২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আবুল কালাম আজাদকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেন। তবে বিচার চলাকালে এবং রায় ঘোষণার পর দীর্ঘদিন তিনি পলাতক ছিলেন।

এদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান অনুপস্থিত থাকায় আত্মসমর্পণের আবেদনের শুনানি হয়নি। গত বছরের অক্টোবরে দেশে ফিরে সাজা স্থগিত চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আবেদন করেছিলেন তিনি। এরপর তার সাজা এক বছরের জন্য স্থগিত করে সরকার।

আগামী ২২ অক্টোবর তার সাজা স্থগিতের মেয়াদ শেষ হবে। এরই মধ্যে তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণের আবেদন করলেন।

ফরিদপুরের রাজাকার হিসেবে খ্যাত মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকারের বিরুদ্ধে একাত্তরে ফরিদপুর অঞ্চলে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বিচার শুরু হয় ২০১১ সালে। এরপরই তিনি ভারত হয়ে পাকিস্তানে পালিয়ে যান। তার অনুপস্থিতিতেই ২০১৩ সালে ২১ জানুয়ারি যুদ্ধাপরাধ মামলার প্রথম রায়ে তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

বাচ্চু রাজাকার নামে পরিচিত এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা আটটি অভিযোগের মধ্যে সাতটিই সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়া হয়।

বাচ্চু রাজাকারের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের রায়ে মুক্তিযুদ্ধকালে ১৪ জনকে হত্যা, তিন নারীকে ধর্ষণ, নয়জনকে অপহরণ, ১০ জনকে আটক রাখা, পাঁচ বাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং ১৫টি বাড়ির মালামাল লুণ্ঠনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

আরও