ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি আগ্রাসনের জেরে প্রায় আট মাস ধরে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে কড়াকড়ি রয়েছে। এতে অন্যান্য দেশের মতো প্রণালিটি দিয়ে বাংলাদেশেরও বাণিজ্য সীমিত হয়ে পড়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে সার আমদানি সংকটে পড়ে। তবে আরব আমিরাত থেকে ইউরিয়া আমদানিতে সংকট কিছুটা কমেছে। দেশটির কোম্পানি ফার্টিগ্লোব তাদের জাহাজে হরমুজ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে ইউরিয়া পৌঁছে দিচ্ছে। এরই মধ্যে একটি জাহাজ বাগেরহাটের মোংলা বন্দরে ইউরিয়া খালাস শেষ করেছে। আরেকটি জাহাজ হরমুজ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশের পথে রয়েছে। যেটি ২৪ অক্টোবর মোংলায় পৌঁছার কথা। ইউরিয়া আমদানি কার্যক্রমে নিযুক্ত বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
বিসিআইসি সূত্রে জানা গেছে, চলতি ক্যালেন্ডার বর্ষে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে জি টু জিতে (সরকার থেকে সরকার) ৩ লাখ ৬০ হাজার টন ইউরিয়ার চুক্তি রয়েছে বাংলাদেশের। এর মধ্যে ১ লাখ ৬০ হাজার টন নিশ্চিত কিনবে বাংলাদেশ। বাকিটা ঐচ্ছিক চুক্তির আওতায় রয়েছে। যেটি দুর্যোগ বা সংকট মুহূর্তে প্রয়োজন হলে কিনবে।
সংস্থাটির একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আরব আমিরাতের চুক্তির আওতায় এ পর্যন্ত দুটি জাহাজে দুই লট ইউরিয়া দেশে এসেছে। আরো দুটি চলতি মাসেই বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা দেবে। এর মধ্যে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ফার্টিগ্লোবের একটি জাহাজ ৪৪ হাজার টন ইউরিয়া মোংলা বন্দরে পণ্য খালাস শেষ করেছে। আরেকটি ৪৫ হাজার ৯০০ টন ইউরিয়া নিয়ে ২৪ অক্টোবর নাগাদ মোংলা বন্দরে পৌঁছবে বলে আশা করা যাচ্ছে। এরপর তারা হরমুজ পাড়ি দিয়ে পৌঁছে দিতে পারলে আরো দুই লট ইউরিয়া একইভাবে আনা হবে। দেশের জাহাজের তুলনায় তাদের জাহাজে কিছুটা ব্যয় বেশি হচ্ছে, তবে জাতীয় স্বার্থে এভাবেই আনা হচ্ছে।
সৌদি আরব থেকেও ইউরিয়া আমদানি করে বিসিআইসি। চলতি অর্থবছরে সৌদি আরব থেকে জি টু জি চুক্তিতে ৫ লাখ ২০ হাজার টন ইউরিয়া আমদানির চুক্তি রয়েছে। এর মধ্যে ৩ লাখ ২০ হাজার টন নিশ্চিত কেনার ও দুই লাখ টন ঐচ্ছিক চুক্তির আওতায় রয়েছে।
সংস্থাটির সূত্রে জানা গেছে, হরমুজ ঘিরে উত্তেজনার পর বাংলাদেশে ইউরিয়া সরবরাহকারী সৌদির স্যাবিক এগ্রো নিউট্রিয়েন্টস এ পর্যন্ত দুইবার বন্দর বদল করেছে। আগে আল-জুবাইল বন্দর থেকে সরবরাহ করা হতো। যেটি হরমুজ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে সার সরবরাহ করত। তবে হরমুজ সংকটে সেটি পরে ইয়ানবু বন্দরে নেয়া হয়। বর্তমানে আরেক দফা পরিবর্তন করে নিওম বন্দর দিয়ে ইউরিয়া আমদানি কার্যক্রম চলমান আছে। যেটি লোহিত সাগর হয়ে বাংলাদেশ আসবে।
বিসিআইসির পরিচালক (বাণিজ্যিক, উৎপাদন ও গবেষণা) মো. মনিরুজ্জামান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ইউরিয়া নিয়ে সংকটের কিছু নেই। আরব আমিরাতের ফার্টিগ্লোব হরমুজ পার করে ইউরিয়া পৌঁছে দিচ্ছে। সৌদি আরবের সঙ্গেও যোগাযোগ হচ্ছে নিয়মিত। হুথিদের হামলায় সার আমদানিতে প্রভাব পড়বে বলে মনে হয় না। চলতি সপ্তাহে দুটি জাহাজ সৌদি আরব থেকে ইউরিয়া নিয়ে দেশে পৌঁছার কথা রয়েছে। আরো দুটি লোডিং হচ্ছে। সেপ্টেম্বরে দুটি জাহাজ এসেছে। সেজন্য ইউরিয়া আমদানি নিয়ে এখন কোনো ঝুঁকি দেখছি না। ভবিষ্যত কী হবে জানি না। সরবরাহকারীদের সঙ্গে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে। তারা ইতিবাচক।’