রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদন

আগস্টে সড়কে ঝরেছে ৪৮১ প্রাণ, দুর্ঘটনার বড় অংশ ঘটেছে সকালে

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোট নিহতদের মধ্যে ১৭৬ জন ছিলেন মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী, যা মোট প্রাণহানির ৩৬ দশমিক ৫৯ শতাংশ। ১৮৩টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় এসব প্রাণহানি হয়েছে। মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৩৫ দশমিক ৬৭ শতাংশ ছিল মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা

দেশে গত মাসে ৫১৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৮১ জন নিহত এবং ৬৬৪ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৬১ জন নারী ও ৫৮ জন শিশু। দুর্ঘটনার বড় অংশ ঘটেছে সকালে। এসময়ে সংঘটিত হয়েছে মোট দুর্ঘটনার ২৭ দশমিক ৮৭ শতাংশ।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের আগস্ট মাসের সড়ক দুর্ঘটনা পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। সংবাদমাধ্যম ও নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোট নিহতদের মধ্যে ১৭৬ জন ছিলেন মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী, যা মোট প্রাণহানির ৩৬ দশমিক ৫৯ শতাংশ। ১৮৩টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় এসব প্রাণহানি হয়েছে। মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৩৫ দশমিক ৬৭ শতাংশ ছিল মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা।

এছাড়া ১০২ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ২১ দশমিক ২০ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৬৭ জন বা ১৩ দশমিক ৯২ শতাংশ।

যেসব যানবাহনে বেশি প্রাণহানি

যানবাহনভিত্তিক নিহতের হিসাবে মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীর পর বাসের যাত্রীদের প্রাণহানি বেশি। আগস্টে বাসের ৩৭ যাত্রী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ।

ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ, ট্রাক্টর, লরি ও ড্রাম ট্রাকের আরোহী নিহত হয়েছেন ৫১ জন (১০ দশমিক ৬০ শতাংশ)। মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার ও জিপের আরোহী নিহত হয়েছেন ১১ জন (২ দশমিক ২৮ শতাংশ)।

থ্রি-হুইলার—অটোরিকশা, অটোভ্যান, ইজিবাইক, সিএনজি ও লেগুনার যাত্রী নিহত হয়েছেন ৭৮ জন, যা মোট নিহতের ১৬ দশমিক ২১ শতাংশ। নসিমন, ভটভটি ও মাহিন্দ্রের মতো স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী নিহত হয়েছেন ২১ জন (৪ দশমিক ৩৬ শতাংশ)। রিকশা ও বাইসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন ৫ জন (১ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ)।

আঞ্চলিক সড়কেই বেশি দুর্ঘটনা

দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২১৭টি ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে, যা মোট দুর্ঘটনার ৪২ দশমিক ৩০ শতাংশ। জাতীয় মহাসড়কে ঘটেছে ১৬৩টি (৩১ দশমিক ৭৭ শতাংশ), গ্রামীণ সড়কে ৬২টি (১২ দশমিক ০৮ শতাংশ) এবং শহরের সড়কে ৭১টি (১৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ) দুর্ঘটনা।

দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি যুক্ত ট্রাক-মালবাহী যান

আগস্টে দুর্ঘটনায় মোট ৭৪৯টি যানবাহন সম্পৃক্ত ছিল। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল মোটরসাইকেল—১৯৪টি। এরপর থ্রি-হুইলার ১১২টি, ট্রাক ১০৮টি এবং বাস ১০৩টি।

সম্পৃক্ত যানবাহনের ধরন অনুযায়ী ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ, ট্রাক্টর, ট্রলি, লরি, ড্রাম ট্রাক, তেলবাহী ট্রাক ও ১৪ চাকার লরির অংশ ২৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ। মোটরসাইকেলের অংশ ২৫ দশমিক ৯০ শতাংশ, থ্রি-হুইলারের ১৪ দশমিক ৯৫ শতাংশ এবং যাত্রীবাহী বাসের ১৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

এছাড়া মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, অ্যাম্বুলেন্স ও জিপ ৬ দশমিক ১৪ শতাংশ, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন ৪ দশমিক ৮০ শতাংশ, রিকশা ও বাইসাইকেল ১ দশমিক ৭৩ শতাংশ এবং অজ্ঞাত যানবাহন ৪ দশমিক ১৩ শতাংশ দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত ছিল।

সকালে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা

সময় বিশ্লেষণে দেখা যায়, আগস্টে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে সকালে— ২৭ দশমিক ৮৭ শতাংশ। রাতে দুর্ঘটনার হার ছিল ২০ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ। দুপুরে ১৮ দশমিক ৯০ শতাংশ, বিকেলে ১৫ দশমিক ২০ শতাংশ, সন্ধ্যায় ৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ এবং ভোরে ৮ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

ঢাকায় সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা

বিভাগভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। মোট দুর্ঘটনার ৩৩ দশমিক ৫২ শতাংশ এবং প্রাণহানির ২৯ দশমিক ৯৩ শতাংশএ বিভাগে ঘটেছে। ঢাকা বিভাগে ১৭২টি দুর্ঘটনায় ১৪৪ জন নিহত হয়েছেন।

রাজশাহী বিভাগে দুর্ঘটনা ঘটেছে ১৪ দশমিক ৮১ শতাংশ, প্রাণহানি ১৮ দশমিক ৫০ শতাংশ। চট্টগ্রাম বিভাগে দুর্ঘটনা ১৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ এবং প্রাণহানি ১৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ। খুলনা বিভাগে দুর্ঘটনা ৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ এবং প্রাণহানি ৮ দশমিক ৭৩ শতাংশ।

বরিশাল বিভাগে দুর্ঘটনা ২ দশমিক ৯২ শতাংশ ও প্রাণহানি ২ দশমিক ৯১ শতাংশ, সিলেটে দুর্ঘটনা ৫ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ ও প্রাণহানি ৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ, রংপুরে দুর্ঘটনা ১০ দশমিক ৫২ শতাংশ ও প্রাণহানি ১০ দশমিক ৮১ শতাংশ এবং ময়মনসিংহে দুর্ঘটনা ৫ দশমিক ৮৪ শতাংশ ও প্রাণহানি ৫ দশমিক ৮২ শতাংশ।

বরিশাল বিভাগে সবচেয়ে কম ১৫টি দুর্ঘটনায় ১৪ জন নিহত হয়েছেন। একক জেলা হিসেবে সবচেয়ে বেশি ৩৭ জন নিহত হয়েছেন বগুড়া জেলায়।

রাজধানী ঢাকায় আগস্টে ৪৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৩ জন নিহত ও ৫৪ জন আহত হয়েছেন।

নৌ ও রেল দুর্ঘটনাও ঘটেছে

সড়ক দুর্ঘটনার পাশাপাশি আগস্টে দেশে ৭টি নৌ-দুর্ঘটনায় ৬ জন নিহত ও ৯ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া ৩৪টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ২৭ জন নিহত এবং ২৩ জন আহত হয়েছেন।

আরও