ভারতের সঙ্গে মর্যাদা, পারস্পরিক সম্মান, বোঝাপড়া ও উভয় দেশের জনগণের কল্যাণের ভিত্তিতে সম্পর্ক আরো জোরদার করতে বাংলাদেশ আগ্রহী বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন।
চিফ হুইপ বলেন, ভারত আমাদের প্রতিবেশী দেশ। আমরা কোনো প্রতিবেশীকে উপেক্ষা করি না। বাংলাদেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে যার সঙ্গে যে পদ্ধতিতে সম্পর্ক তৈরি করা সম্ভব, আমরা তা করতে চাই।
ভারতে আশ্রয় নেয়া আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত ১৭ বছর যারা দেশে নিপীড়ন, নির্যাতন, গুম, খুন, লুটপাট ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের অনেকে ভারতে আশ্রয় নিয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ভারত কোনো ধরনের আশ্রয় বা প্রশ্রয় দেবে না বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
নুরুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের বিষয়টি দুই দেশের পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং উভয় প্রধানমন্ত্রীর সুবিধাজনক সময়ের ওপর নির্ভর করবে। কেউ যদি নির্দিষ্ট কোনো তারিখের মধ্যে সফর করার শর্ত দেয়, সেটি একটি স্বাধীন দেশের জন্য বিব্রতকর।
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের পানি সমস্যা বিশেষ করে ৫৪টি অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, ভাটির দেশ হিসেবে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে পানি সংকটের মুখোমুখি। তিস্তা নদীর পানি বণ্টনসহ অভিন্ন নদীগুলোর পানি ব্যবস্থাপনায় ভারতের সহযোগিতা প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ।
তিনি বলেন, আমরা চাই ভারত তার নিজস্ব অবস্থান থেকে বিষয়গুলো সমাধানে এগিয়ে আসুক। পানি মানুষের মৌলিক প্রয়োজন। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেই এ সমস্যার সমাধান হওয়া প্রয়োজন।
ভারতের সঙ্গে পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ গঠনের বিষয়ে চিফ হুইপ বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সংসদ সদস্যদের মধ্যে দলমত নির্বিশেষে যোগাযোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে ‘ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ’ গঠনে কোনো আপত্তি নেই।