সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ইসলামী আন্দোলনের মহাসমাবেশ

রাষ্ট্র সংস্কার, বিচার ব্যবস্থার উন্নয়ন ও নির্বাচন পদ্ধতির পরিবর্তনসহ ১৬ দফা ঘোষণা

রাষ্ট্রীয় সংস্কার, বিচার ব্যবস্থার উন্নয়ন, সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে (পিআর) নির্বাচন করাসহ ১৬ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে।

রাষ্ট্রীয় সংস্কার, বিচার ব্যবস্থার উন্নয়ন, সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে (পিআর) নির্বাচন করাসহ ১৬ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে। রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গতকাল আয়োজিত মহাসমাবেশে দলের মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান এ ঘোষণাপত্র পাঠ করেন।

সংস্কার, জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার ও পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের দাবিতে এবং দেশ ও ইসলামবিরোধী সব ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের প্রতিবাদে এ মহাসমাবেশের আয়োজন করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে হওয়া ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই উল্লেখ করে দলটির আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেন, আগামী নির্বাচনে সংসদের প্রস্তাবিত উভয় কক্ষে অবশ্যই পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হতে হবে। যত শতাংশ ভোট পাবে, সংসদে সেই আনুপাতিক হারে আসন থাকবে। এ পদ্ধতিতে রাষ্ট্র পরিচালনায় সবার মতের প্রতিফলন ঘটবে। কোনো দল জালেম হওয়ার সুযোগ পাবে না। এটা এখন জনগণের দাবি।

চরমোনাই পীর বলেন, ‘আমরা বারবার রক্ত দিয়েছি, কিন্তু সফলতা পাইনি। কারণ আমরা প্রতিবারই নেতা এবং নীতি বাছাই করতে ভুল করেছি। এবার ইসলামপন্থীদের ঐক্যের ব্যাপারে গণপ্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। সরকারকে বলব, সংস্কার, বিচার ও সুষ্ঠু নির্বাচনের যে অঙ্গীকার নিয়ে আপনারা দায়িত্ব নিয়েছেন, সে দায়িত্ব পালনে অবিচল থাকুন। কারো দ্বারা প্রভাবিত হয়ে লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হবেন না। নিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালন করুন। আমরা আপনাদের পাশে ছিলাম, আছি এবং থাকব।’

দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক চাঁদাবাজির ক্ষেত্রে অবস্থার এখনো পরিবর্তন হয়নি মন্তব্য করে মুফতি রেজাউল করীম বলেন, ‘একটি দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। কারো নাম ধরে সমালোচনা করতে চাই না। তবে পুরনো রাজনৈতিক অপসংস্কৃতি জিইয়ে রাখার চেষ্টা সহ্য করা হবে না। রাজনীতির নামে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিকে প্রতিহত করতে হবে। আমাদের প্রধান লক্ষ্য হবে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও গণমানুষের জীবনমান উন্নত করা।’

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের এ মহাসমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের পাশাপাশি ধর্মীয় সংগঠনের নেতাদেরও আমন্ত্রণ জানিয়েছিল ইসলামী আন্দোলন। বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক, বোধিজ্ঞান ভাবনা কেন্দ্রের সভাপতি দয়াল কুমার বড়ুয়া ও বাংলাদেশ খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নির্মল রোজারিও সমাবেশে অংশ নেন।

রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, নায়েবে আমির মুজিবুর রহমান ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান; আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু; গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর; জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম; নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মাওলানা মূসা বিন ইজহার; খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের; ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন রাজি; বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ; খেলাফত আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা ইউসুফ সাদিক হক্কানী ইসলামী আন্দোলনের মহাসমাবেশে যোগ দেন।

আরও