ময়মনসিংহ থেকে সব রুটে বাস ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে। সোমবার (১৩ অক্টোবর) সকাল থেকে সব রুটে বাস চলবে। যাত্রী ও শ্রমিকদের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রোববার (১২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মুফিদুল আলম জানান, আগামীকাল সকাল থেকে ময়মনসিংহ থেকে সব রুটে স্বাভাবিকভাবে বাস চলাচল করবে।
জানা গেছে, রোববার রাতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, মোটর মালিক সমিতি, মোটরযান কর্মচারী শ্রমিক ইউনিয়ন, জাতীয় নাগরিক পার্টি ও অন্য সংগঠনের নেতাদের উপস্থিতিতে এক সভায় ঐকমত্যের ভিত্তিতে সমঝোতা হয়। উভয়পক্ষের দাবিগুলো নিয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (সার্বিক) আহ্বায়ক করে ৬ সদস্যের একটি কমিটি গঠিত হয়। এ কমিটি দাবিগুলো পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে।
এদিকে ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণার পর রাত সাড়ে ১০টায় নগরীর দিগারকান্দা বাইপাস মোড় হয়ে ঢাকার দিকে যাত্রীবাহী বাস চলাচল করতে দেখা গেছে।
শুক্রবার ঢাকায় যাওয়ার সময় নগরীর মাসকান্দা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে পরিবহন শ্রমিকদের হাতে নাজেহাল হন হন জুলাইযোদ্ধা আবু রায়হান। তার অভিযোগ, ইউনাইটেড পরিবহনে ওঠার সময় মারধরসহ হেনস্তার শিকার হন তিনি। এ ঘটনার পর এনসিপির স্থানীয় নেতারা মাসকান্দা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে বিক্ষোভ প্রদর্শনসহ প্রতিবাদ জানান। শনিবার সকালে এনসিপি নেতারা ইউনাইটেড পরিবহন বন্ধের দাবিতে মাসকান্দা বাস টার্মিনালে অবস্থান নেন। এ সময় তারা ইউনাইটেড পরিবহনের দূরপাল্লার সব বন্ধের দাবি জানান। এ সময় পুলিশ অরুন নামে এক শ্রমিককে আটক করে।
এদিকে শ্রমিক আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবহন শ্রমিকরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। এ সময় ঢাকাগামী সব রুটের বাস চলাচল বন্ধ করে দেন শ্রমিকরা। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা দুই পক্ষের অবরোধের পর আমিনুল হক শামীমের মালিকানায় চলা ইউনাইটেড পরিবহনের ১৬টি বাস চলাচল বন্ধের আশ্বাসে বিকাল ৫টায় অবরোধ তুলে নেয় এনসিপি ও জুলাইযোদ্ধারা। তবে গতকাল সকাল থেকে মালিক ও শ্রমিক ইউনিয়ন ঢাকা-ময়মনসিংহ রোডসহ বিভাগের সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়।
গতকাল নগরীর পাটগুদাম বাসস্ট্যান্ড থেকে লোকাল কিছু বাস চলাচল শুরু করলেও বাইপাস মোড় ও ত্রিশাল বাসস্ট্যান্ডে শ্রমিকরা যাত্রীদের নামিয়ে বাস খালি করে ফেরত পাঠায়। এতে যাত্রীদের দুর্ভোগ আরো বাড়তে থাকে। বাস চলাচল না করায় বাড়তি ভাড়া দিয়ে ট্রাক, মাইক্রেবাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশায় গন্তেব্যে যাচ্ছেন যাত্রীরা। তবে ২০ টাকার ভাড়া ৬০ টাকা, ৫০ টাকার ভাড়া ২৫০ টাকা নেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের।