উদ্বোধনের আগেই রাবির ১০ তলা হলে ফাটল

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি শেরেবাংলা ফজলুল হক হল ও মন্নুজান হলকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে। এর প্রেক্ষিতে শেরেবাংলা হলের কিছু শিক্ষার্থীকে নতুন নির্মিত ১০ তলা আবাসিক ভবনে স্থানান্তর করা হয়। তবে সেখানে গিয়ে ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখতে পাওয়ার কথা জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) নির্মাণাধীন ১০ তলা আবাসিক হল ভবনে উদ্বোধনের আগেই বিভিন্ন দেয়াল ও পিলারে ফাটল দেখা দিয়েছে। কিছু স্থানে মেরামতের পরও পুনরায় পলেস্তারা খসে পড়ে। এতে ভবনটিতে অস্থায়ীভাবে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি শেরেবাংলা ফজলুল হক হল ও মন্নুজান হলকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে। এর প্রেক্ষিতে শেরেবাংলা হলের কিছু শিক্ষার্থীকে নতুন নির্মিত ১০ তলা আবাসিক ভবনে স্থানান্তর করা হয়। তবে সেখানে গিয়ে ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখতে পাওয়ার কথা জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এ ১০ তলা আবাসিক হল এবং ১৫৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ২০ তলা একাডেমিক ভবনের নির্মাণকাজ করছে রূপপুরের ‘বালিশ-কাণ্ডে’ আলোচিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মজিদ সন্স কনস্ট্রাকশন লিমিটেড।

২০১৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ হলটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরে ২০২২ সালের ২ জানুয়ারি ভবনটির নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়। একাধিকবার সময়সীমা বাড়ানোর পরও ভবনটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়নি।

হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ও হল সংসদের সহবিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক শাহরিয়ার হাসান বলেন, শেরেবাংলা হলে ফাটল দেখা দেয়ায় আমাদের নতুন হলে স্থানান্তর করা হয়েছে। কিন্তু এখানেও বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা যাচ্ছে। বিষয়টি নির্মাণকাজে অনিয়মের ইঙ্গিত হতে পারে। দ্রুত তদন্ত প্রয়োজন।

অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. মিনহাজুল আলম বলেন, ফাটলগুলো তাপমাত্রাজনিত কারণেও হতে পারে। সংশ্লিষ্ট স্থান পরীক্ষা করে দেখা হবে। এগুলো মেরামতযোগ্য এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের পরিচালক এস এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো ঝুঁকির তথ্য পাওয়া যায়নি। বিম ও দেয়ালের সংযোগস্থল বা প্লাস্টারজনিত কারণে এ ধরনের ফাটল দেখা দিতে পারে। এরইমধ্যে প্রকৌশলীদের একটি দল সরেজমিনে পরিদর্শন করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, সম্প্রতি ভূমিকম্পের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সব আবাসিক হলের ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হবে। বিশেষজ্ঞদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। নির্মাণকাজে কোনো ধরনের গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে তদন্ত কমিটি গঠন করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সে সময় হলটির উদ্বোধন প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, নির্ধারিত সময়সীমা এরইমধ্যে অতিক্রম করেছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত শিক্ষার্থীদের আবাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। তবে কাজ দ্রুত শেষ করার নামে কোনো ধরনের গাফিলতি গ্রহণ করা হবে না।

আরও