ফলে দক্ষিণাঞ্চলের বৃহত্তম মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র বরিশাল নগরীর পোর্ট রোডের জিয়া মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে দেখা দিয়েছে চরম স্থবিরতা। মোকামগুলোয় মাছের সরবরাহ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় জমছে না বাজার, নেই আগের মতো কোলাহল ও ব্যস্ততা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বরিশালের হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার মেঘনা, আড়িয়ল খাঁ, কালাবদর, ইলিশা, তেঁতুলিয়া ও কীর্তনখোলা নদীতে দিন-রাত জাল ফেলেও অনেক জেলে খালি হাতে ফিরছেন। সদর উপজেলার চন্দ্রমোহন এলাকার জেলে আল আমিন জানান, ধারদেনা করে ট্রলারের তেল ও রসদ নিয়ে নদীতে গেলেও মাছ না পাওয়ায় তারা চরম বিপাকে পড়েছেন। আড়তদার ইয়াছিন আরাফাত ফোরকান বলেন, ‘নদীতে ইলিশ ধরা না পড়ায় আড়তে মাছ আসছে না। ব্যবসা স্থবির হয়ে পড়ায় অনেকেই দেনার বোঝা নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন।’
পোর্ট রোড ইলিশ মোকামের লিয়া আড়তের স্বত্বাধিকারী নাসির উদ্দিন জানান, ভরা মৌসুমে যেখানে দৈনিক দুইশ থেকে তিনশ মণ ইলিশ পাওয়ার কথা, সেখানে গতকাল মোকামে এসেছে মাত্র ৫০-৬০ মণ। সরবরাহ সংকটে দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। মোকামে এক কেজি সাইজের ইলিশ প্রতি কেজি ২ হাজার ৬৫০ থেকে ৩ হাজার টাকা, ৭০০-৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৫০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা আর ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১ হাজার ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে নদ-নদীতে ইলিশের স্বল্প উপস্থিতির কারণ হিসেবে মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, চলতি মৌসুমে নিষেধাজ্ঞা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন হওয়ায় ইলিশের পোনা নিরাপদে সাগরে ফিরে গেছে। বর্তমানে মাছগুলো বড় হয়ে আবার নদীতে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে।
সংকটের মাঝেও আশার আলো দেখাচ্ছে অভয়াশ্রমে বেড়ে ওঠা জাটকা। ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের উপপ্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন জানান, এবার মৎস্য অধিদপ্তরের কঠোর নজরদারির কারণে ‘পাই জাল’ দিয়ে ছোট জাটকা নিধন প্রতিরোধ করা গেছে। ফলে গত বছরের তুলনায় প্রায় ৯০ শতাংশ জাটকা ৫-৬ ইঞ্চি আকারে নিরাপদে সাগরে চলে গেছে। মৌসুমের শেষ দিকে অর্থাৎ সেপ্টেম্বর-অক্টোবর নাগাদ এর সুফল পাওয়া যেতে পারে।
মৌসুম শুরু হলেও ইলিশের খরা প্রসঙ্গে বরিশালের মৎস্য কর্মকর্তা ড. হাদিউজ্জামান বলেন, ‘জুন থেকে ইলিশের মৌসুম শুরু হলেও ভরা মৌসুম জুলাইয়ে। বৃষ্টি হলেই সাগর থেকে নদীতে ইলিশ আসবে। জাটকা রক্ষায় নদীতে ৩০ জুন পর্যন্ত এবং সাগরে ১১ জুন পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা চলমান রয়েছে। তবে ইলিশ ধরায় এখন বাধা নেই।’
এবারের ইলিশের পরিস্থিতি নিয়ে গবেষকরা বলছেন, সাগর থেকে ৪০০-৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ নদীতে আসবে ডিম ছাড়তে। আর নদীতে এলেই সেগুলো ধরা পড়ছে। যে জাটকাগুলো সাগরে পৌঁছাতে পেরেছে, সেগুলো বড় হওয়ার সুযোগ দেয়া দরকার।