লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের সংঘাতপূর্ণ এলাকায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার শ্রীপতিপুর গ্রামের শুভ দাসের (২৮) মরদেহ নিজ বাড়িতে পৌঁছেছে। নিহতের দীর্ঘ ৩ মাস ২৫ দিন পর গতকাল সকালে তার মরদেহ নিজ গ্রাম শ্রীপতিপুরে পৌঁছলে স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
শুভ দাস শ্রীপতিপুর গ্রামের ভ্যানচালক সুরঞ্জন দাসের মেজ ছেলে। জানা গেছে, পরিবারের দুই শতক বসতভিটা বিক্রি করে আড়াই বছর আগে লেবাননে যান তিনি। চার ভাই-বোনের মধ্যে শুভকে নিয়েই সবচেয়ে বেশি স্বপ্ন ছিল পরিবারের।
গত ১১ মে লেবাননের জেবদিন এলাকায় ইসরায়েল ড্রোন হামলা চালালে এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান কলারোয়ার শুভ দাস, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার শফিকুল ইসলাম ও আশাশুনি উপজেলার নাহিদুল ইসলাম নাহিদ। এদের মধ্যে শফিকুল ইসলাম ও নাহিদুল ইসলাম নাহিদের মরদেহ গত ২৭ জুন দেশে আনা সম্ভব হলেও প্রশাসনিক জটিলতায় শুভ দাসের মরদেহ আনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। অবশেষে দীর্ঘ ৩ মাস ২৫ দিন পর তার মরদেহ নিজ গ্রামে পৌঁছল।
শুভ দাসের স্বজনরা জানান, আড়াই বছর আগে পরিবারের অভাব-অনটন দূর করতে জমি ও গবাদিপশু বিক্রি করে শুভ দাসকে লেবাননে পাঠায় তার পরিবার। বাবার ভ্যান চালানো উপার্জন আর মায়ের ধান চাতালের হাড়ভাঙা খাটুনি থেকে মুক্তি দেয়াই ছিল শুভর একমাত্র লক্ষ্য। কিন্তু ভাগ্য বদলের সে স্বপ্ন তছনছ করে দেয় ইসরায়েলের ড্রোন হামলা।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক মন্ত্রণালয়ের খুলনা বিভাগীয় অফিসের কাউন্সিলর মইন উদ্দীন জানান, সরকারের পক্ষ থেকে ৮৫ হাজার টাকার চেক গত শনিবার রাতেই দেয়া হয়েছে। চলতি মাসে আরো ৩ লাখ ও কয়েক মাস পর জীবন বীমার আরো ১০ লাখ টাকা অনুদান পাবেন।
কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুল ইসলাম জানান, শুভ দাসের পরিবারকে প্রাথমিক পর্যায়ে মরদেহ বহনের জন্য ৩৫ হাজার টাকা ও যুদ্ধে মারা যাওয়ার কারণে ৫০ হাজার টাকা সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া হয়েছে। আগামীতে বীমার অর্থসহ অন্যান্য অনুদানও পাবে তার পরিবার। বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে শুভ দাসের মরদেহ দাহ করার জন্য স্থানীয় শ্মশানে নেয়া হয়। সেখানেই তার শেষকার্য সম্পন্ন হয়।