আসন্ন ঈদুল-ফিতর সামনে রেখে নৌপথে যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন ভ্রমণ নিশ্চিতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে সরকার। এর অংশ হিসেবে নৌপথ এবং লঞ্চ টার্মিনালে নৌবাহিনীসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নিয়মিত ও বিশেষ টহলের পাশাপাশি প্রতিটি লঞ্চে অন্তত চারজন করে আনসার মোতায়েন করা হবে।
বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে সভায় এ সব তথ্য জানান নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন।
সভার সিদ্ধান্ত অনুসারে, ১৫ রমজান বা আগামী ১৬ মার্চ থেকে ঈদের পরের দুই দিন পর্যন্ত প্রতিটি লঞ্চে চারজন করে আনসার সদস্য মোতায়েন করা হবে। এ বিষয়ে সরকার-নির্ধারিত শুল্ক ভাতা লঞ্চ মালিকদের বহন করতে হবে। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জ, গজারিয়া-মুন্সিগঞ্জ, চাঁদপুর এবং বরিশাল-ভোলা নৌপথ এবং দেশের অন্য নৌপথগুলোতে ডাকাতি, চাঁদাবাজি এবং শ্রমিক ও যাত্রীদের হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রতিরোধে নৌবাহিনী, পুলিশ, র্যাব, নৌ পুলিশ এবং কোস্টগার্ড নিয়মিত টহল দেবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
উপদেষ্টা জানান, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যেই অনুমোদিত মূল্যের চেয়ে বেশি ভাড়া নেওয়া এবং লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী বহনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ঢাকার সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল হকারমুক্ত রাখতে ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি আনসার ও কমিউনিটি পুলিশ থাকবে। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য সদরঘাট টার্মিনালে যাওয়ার রাস্তাটি যানজট এবং হকারদের হাত থেকে মুক্ত রাখার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
তিনি আরো জানান, ঢাকা নদী বন্দরের (সদরঘাট) ওয়াচ টাওয়ার থেকে সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের রাতে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ এবং দিনের বেলায় স্পিডবোট যাত্রীদের লাইফ জ্যাকেট পরা নিশ্চিত করা এবং ১৫ রমজান থেকে ঈদ পরবর্তী পাঁচ দিন অভ্যন্তরীণ নৌপথে বাল্কহেড (বালু বহনকারী জাহাজ) চলাচল ও বালুমহাল থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ রাখার মতো ব্যবস্থাও নেয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ঈদের আগের দিন এবং ঈদ-পরবর্তী তিনদিন প্রয়োজনীয় ও পচনশীল পণ্য বহনকারী ট্রাক ব্যতীত সাধারণ ট্রাক এবং কাভার্ড ভ্যানের জন্য ফেরি পারাপার বন্ধ থাকবে। যানজট নিরসনের জন্য সাতটি ফেরি ঘাটে মোট ৪৬টি ফেরি চলাচলের জন্য চালু রাখা হবে এবং সকল নদী বন্দরে যথাযথ যাত্রী সেবা নিশ্চিত করা হবে।
বিআইডব্লিউটিএ’র নিয়ন্ত্রণ কক্ষ এবং হটলাইন চালুর পাশাপাশি জলপথে যেকোনো দুর্ঘটনা ঘটলে উদ্ধার অভিযান পরিচালনার জন্য উদ্ধারকারী জাহাজ প্রস্তুত রাখা হবে। ভাসমান নৌ ফায়ার স্টেশনে ফায়ার সার্ভিস এবং সিভিল ডিফেন্স প্রস্তুত রাখা হবে। এছাড়াও, লঞ্চে যাত্রীদের ওঠার সময় বিক্রেতা বা হকারদের কার্যক্রম এবং নদীর মাঝখান থেকে যাত্রী ওঠানো সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।