মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে বিপিসির লোকসান ১৭ হাজার ৩৯ কোটি টাকা

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান এবং আমেরিকা-ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধের কারণে গত মার্চ থেকে ১১ জুন পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) মোট ১৭ হাজার ৩৯ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

তিনি জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে যতটা দাম বেড়েছে, সরকার জনস্বার্থে দেশে ততটা দাম বাড়ায়নি। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমে সহনীয় পর্যায়ে এলে সরকার দেশের বাজারেও জ্বালানি তেলের দাম কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করবে।

গতকাল জাতীয় সংসদে সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য (সাংসদ) মুহাম্মাদ আব্দুল খালেকের প্রশ্নের লিখিত প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানানো হয়। মন্ত্রী দেশের বাইরে থাকায় প্রশ্নের উত্তর টেবিলে উপস্থাপন করা হয়। সংসদ সদস্য মুহাম্মাদ আব্দুল খালেক জানতে চান, বর্তমানে দেশে মজুদকৃত জ্বালানির পরিমাণ কত এবং জ্বালানি তেলের দাম কমানোর কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা।

জবাবে ইকবাল হাসান মাহমুদ জানান, ১ জুনের তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের অবশিষ্ট উত্তোলনযোগ্য মজুদের পরিমাণ ৭ দশমিক ৬৩ ট্রিলিয়ন ঘনফুট। দেশে এ পর্যন্ত আবিষ্কৃত ২৯টি গ্যাস ক্ষেত্রের ২০২৪ সালে সর্বশেষ হালনাগাদকৃত গ্যাস মজুদের পরিমাণ ২৯ দশমিক ৭৪ ট্রিলিয়ন ঘনফুট এবং ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত উত্তোলিত গ্যাসের পরিমাণ ২২ দশমিক ১১ ট্রিলিয়ন ঘনফুট। এ সময় তিনি গত ১০ জুন পর্যন্ত জ্বালানি তেলের মজুদের তথ্যও তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ‘ডিজেল ৩ লাখ ৯৭ হাজার ১৯৯ টন, অকটেন ৪৪ হাজার ৮৩, পেট্রল ১৯ হাজার ১৬৪, ফার্নেস অয়েল ৭৬ হাজার ৭১২, জেট ফুয়েল ৪১ হাজার ৩২৯, কেরোসিন ১৩ হাজার ৯১৬ ও মেরিন ফুয়েল ১ হাজার ২৬ টন মিলিয়ে মোট ৫ লাখ ২৯ হাজার ৫৬ টন জ্বালানি তেল মজুদ রয়েছে।’

জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে ইরান এবং আমেরিকা-ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে গত মার্চ হতে আন্তর্জাতিক বাজারের জ্বালানি তেলের দাম অধিক বেড়ে যায়। গত মে মাস থেকে জ্বালানি তেলের মূল্য কিছুটা কমতে শুরু করে। তবে মূল্যহ্রাসের পরও দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় এখনো অনেক কম রয়েছে। স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ ফর্মুলা অনুযায়ী গত এপ্রিলের জন্য প্রতি লিটার ডিজেলের কস্টিং ১৫৫ দশমিক ৪৬ টাকা এবং প্রতি লিটার অকটেনের কস্টিং ১৪৮ দশমিক ৯৩ টাকা হলেও সরকার ১৯ এপ্রিল হতে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১০০-১১৫ টাকা, অকটেন লিটারপ্রতি ১২০-১৪০ টাকা, পেট্রল লিটারপ্রতি ১১৬ হতে ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ হতে ১৩০ টাকায় পুনর্নির্ধারণ করে।’

ইকবাল হাসান মাহমুদ যোগ করেন, ‘পরবর্তীতে মে মাসের জন্য প্রতি লিটার ডিজেলের কস্টিং ২৩৪ দশমিক ৭৯ টাকা এবং অকটেনের কস্টিং ১৬৫ দশমিক ৫৬ টাকা হলেও সরকার মে মাসে জ্বালানি তেলের মূল্য অপরিবর্তিত রেখেছে। জুনের জন্য প্রতি লিটার ডিজেলের কস্টিং ১৭৫ দশমিক ২২ টাকা এবং অকটেনের কস্টিং ১৬০ দশমিক ৭০ টাকা হলেও সরকার জনস্বার্থে জুনেও ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধি করেনি। তবে অকটেন, পেট্রল ও কেরোসিনের মূল্য লিটারপ্রতি ৫ টাকা বারিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ডিজেলের মূল্য আন্তর্জাতিক বাজারে ১৫২ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও সরকার দেশে ডিজেলের মূল্য মাত্র ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে এবং অকটেনের মূল্য আন্তর্জাতিক বাজারে ৮২ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও সরকার দেশে অকটেনের মূল্য মাত্র ২১ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য এখনো ব্রেক-ইভেনের ওপরে রয়েছে। ফলে ডিজেল, অকটেন, পেট্রল বিক্রয়ে বিপিসিকে এখনো দৈনিক প্রায় ৭৮ কোটি টাকা লোকসান দিতে হচ্ছে। গত মার্চ থেকে ১১ জুন পর্যন্ত আমদানীকৃত জ্বালানি তেলের এলসি পেমেন্ট অনুযায়ী বিপিসির প্রকৃত লোকসানের পরিমাণ প্রায় ১৭ হাজার ৩৯ দশমিক ৫৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে মার্চে ২ হাজার ২৪৮ দশমিক ৩৭ কোটি, এপ্রিলে ৭ হাজার ৮৬৬ দশমিক শূন্য ৩ কোটি, মে মাসে ২ হাজার ৬২৩ দশমিক ৩৪ কোটি এবং জুনের প্রথম ১১ দিনে ৪ হাজার ৩০১ দশমিক ৮২ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে।’

আরও