ফরিদপুরে সেচের পানিতে পাট জাগ বাড়বে উৎপাদন খরচ

ফরিদপুরে মৌসুমের শুরুতে প্রচণ্ড খরার কারণে পাট গজিয়েছে কম। বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় গাছও তেমন বাড়তে পারেনি।

ফরিদপুরে মৌসুমের শুরুতে প্রচণ্ড খরার কারণে পাট গজিয়েছে কম। বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় গাছও তেমন বাড়তে পারেনি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, এরই মধ্যে বিভিন্ন উপজেলায় ৪০ শতাংশ পাট কাটা শেষ হয়েছে। তবে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় জাগ দিতে পারছেন না কৃষক। বাধ্য হয়ে অনেকেই পুকুরে সেচ দিয়ে জাগ দিচ্ছেন। এতে উৎপাদন খরচ আরো বাড়বে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। আবার অনেকে জাগ দেয়ার ব্যবস্থা না থাকায় জমি থেকে পাট কাটতেও পারছেন না।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পাট উৎপাদনে বড় ভূমিকা রয়েছে ফরিদপুর জেলার। এখানকার মাটি ও আবহাওয়া উপযোগী হওয়ায় একদিকে যেমন ভালো ফলন হয়, তেমনি মানও ভালো হওয়ায় এখানকার পাটের চাহিদাও রয়েছে। তবে মৌসুমের শুরু থেকেই বৈরী আওহাওয়ার কারণে বিপাকে পড়তে হয়েছে চাষীদের।

বোয়ালমারী উপজেলার বেড়াদি, সাতৈর ও ঘোষপুর গ্রামের চাষীরা জানান, মৌসুমের শুরুতে তাপপ্রবাহের কারণে পাট গজিয়েছে কম। গাছও তেমন একটা বাড়তে পারেনি। এ অঞ্চলের চাষীরা বৃষ্টিনির্ভরশীল। সঠিক সময়ে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পাটের ফলনে বিপর্যয় দেখা দেয়। তবে কেউ কেউ একাধিক সেচ দেয়ায় বাড়তি খরচ হয়েছে। এছাড়া জ্বালানি তেল ও সার-কীটনাশকের দাম বাড়ায় পাটের উৎপাদন খরচও বাড়বে।

তারা আরো জানান, মৌসুমের শেষ ভাগে এসেও দেখা নেই বৃষ্টির। এখন পাট জাগ দিতে পারছেন না তারা। কেউ কেউ পুকুরে সেচ দিয়ে পানি জমিয়ে সেখানে পাট পচানোর চেষ্টা করছেন। আবার অনেকে দূরের জলাধারে নিয়ে পাট জাগ দেয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু এতে উৎপাদন খরচ আরো বেড়ে যাচ্ছে। আবার অনেকে বৃষ্টি আশায় জমি থেকে পাট কাটছেন না। একদিকে যেমন পরবর্তী ফসল আবাদ ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে পরিপক্ব হওয়ার পরও পাট না কাটায় ফলনও কমে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

নগরকান্দা ও সালথা উপজেলার কয়েকজন চাষী একই বিষয় তুলে ধরে দাবি করেন, এ বছর প্রতি মণ পাটের উৎপাদন খরচ স্থানভেদে ৩ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা ছাড়িয়ে যাবে। তাই প্রতি মণ পাট ৫-৬ হাজার টাকায় বিক্রি করতে না পারলে কৃষক পুষিয়ে নিতে পারবেন না।

পাটচাষী আব্দুল গফুর জানান, তিনি ৫০ শতাংশ জমিতে পাট চাষ করেছেন। এখনো কাটা শুরু করেননি। যারা পাট কাটা শুরু করেছেন, বিলে পানি না থাকায় নসিমনে করে কুমার নদে জাগ দিতে হচ্ছে।

স্থানীয় চাষীরা জানান, এক একর জমিতে পাটচাষে সধারণত ২৫-৩০ হাজার টাকা খরচ হয়। সেখানে উৎপাদন হয় ২০-২২ মণ। কিন্তু এ বছর এক একর জমিতে খরচ বেড়ে ৪০ হাজার টাকা ছাড়িয়ে গেছে। বৈরী আওহাওয়ার কারণে এক একর জমিতে ১২-১৫ মণ পাট উৎপাদন হবে।

পাটচাষী নজরুল ইসলাম বলেন, ‘খরার সময় পোকার আক্রমণেও পাটের ক্ষতি হয়েছে। শুরুতে বৃষ্টি নামলে পোকার হাত থেকেও ফসল রক্ষা করা যেত। আবার শ্রমিকের মজুরিও বেড়েছে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কাজ করলে ৬০০-৭০০ টাকা দিতে হয়। সঙ্গে খাবারও।’

স্থানীয় কয়েকজন চাষীর দাবি, জেলার আষাড়িয়া ও দাদুড়িয়াসহ কয়েকটি বিলে বন্যার পানি প্রবেশের খাল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এসব বিলে পানি আসতে পারছে না। এসব জলাশয়ে কৃষক পাট জাগ দেন।

ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এ বছর পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮৮ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে। তবে আবাদ হয়েছে ৮৬ হাজার ৫২৪ হেক্টরে। বাকি জমিতে ভুট্টা ও তিল চাষ হয়েছে।পাট উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার ৯০৫ টন।

ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রচণ্ড খরার কারণে পাটের ফলন অল্প কিছু জায়গায় ভালো হয়নি। আগাম সেচ দিয়ে যারা চাষ করেছেন তাদের ফলন ভালো হয়েছে। এখন পাটার কাটার মৌসুম চলছে। এরই মধ্যে ৪০ শতাংশ পাট কাটা শেষ হয়েছে। সম্পূর্ণ পাট কাটা শেষ না হওয়ায় ফলনের বিষয়টি নিশ্চিত করে এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে সর্বোপরি সময়মতো বৃষ্টি না হওয়ায় পাটচাষীদের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। অনেক এলাকায় পাট জাগ দেয়ার জন্য পানির সংকট রয়েছে। এ বছর ভালো দাম পেলে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন চাষীরা।’

আরও