আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে বন্যা

দুই জেলায় ৫০০ হেক্টর জমির ফসল ও ঘের ক্ষতিগ্রস্ত

খাগড়াছড়িতে আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় ফসল ও সড়ক যোগাযোগ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে বোয়ালখালী খালের পানি বেড়ে যাওয়ায় স্রোতের তোড়ে ধসে গেছে শতাধিক কাঁচা মাটির ঘর।

বন্যায় সদর, দীঘিনালা ও পানছড়ি উপজেলায় প্রায় ২৭৮ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন খাগড়াছড়ি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাসির উদ্দিন চৌধুরী।

অন্যদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকার অন্তত ২৫০ হেক্টর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে বলে উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে বিস্তারিত—

খাগড়াছড়ি: দীঘিনালা উপজেলার জামতলী, মায়াফাপাড়া, সুধীর মেম্বারপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকার শতাধিক কাঁচা মাটির ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পুরোপুরি বিধ্বস্ত না হলেও অনেক ঘরবাড়ির দেয়াল ধসে গেছে। আকস্মিক এ বিপর্যয়ে হতবাক ক্ষতিগ্রস্তরা।

স্থানীয়রা জানান, পাহাড়ি ঢলে দীঘিনালায় ১২০ হেক্টর জমির আমন খেত, ১৭ হেক্টর আউশ ও ২০ হেক্টর গ্রীষ্মকালীন সবজিসহ মোট ১৬০ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। সদর, পানছড়ি ও দীঘিনালা উপজেলা মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ ২৭৮ হেক্টর জমির ফসল।

দীঘিনালার মধ্য বোয়ালখালী গ্রামের কৃষক সুবিমল চাকমা বলেন, ‘অধিকাংশ জমি পানিতে তলিয়ে গেছে, কিন্তু সরকারিভাবে কোনো সহযোগিতা পাই নাই। ধান্য জমি প্রায় ক্ষতিগ্রস্ত, পানিতে তলিয়ে গেছে। তো আমরা সরকারিভাবে তেমন কিছু পাই নাই।’

দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তানজিল পারভেজ বলেন, ‘‌আকস্মিক বন্যায় উপজেলার জামতলী, মায়াফাপাড়া ও বাঙালিপাড়া এলাকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একদম শেষ রাতের দিকে বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে পানি চলে এসেছে। এ বিষয়টিতে অনেকেই আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন। এলাকাটিতে অধিকাংশ মাটির ঘর ছিল। ফলে ঘরগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন খাগড়াছড়ি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাসির উদ্দিন চৌধুরী।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া: আখাউড়ার সীমান্তবর্তী এলাকার ১৫ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে ঘরবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, কৃষিজমি ও মাছের ঘেরসহ অন্তত ২৫০ হেক্টর কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেকে বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।

আখাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা জানান, হঠাৎ পানি বাড়ায় আখাউড়া দক্ষিণ ইউনিয়ন ও মোগড়া ইউনিয়নের কিছু জমি পানিতে তলিয়ে যায়। তিনি বলেন, ‘‌পানি বাড়লেও তা খুব দ্রুত নেমে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে ফসলের ক্ষতি হবে না।’

আখাউড়ার ইউএনও তাপসী রাবেয়া বলেন, ‘‌হাওড়া নদীর আশপাশ এলাকার পানি নেমে যাচ্ছে। তবে কালন্দী খাল এলাকার জমিতে পানি আগের মতোই রয়ে গেছে। বাড়িঘরে এখনো পানি ওঠেনি। আশ্রয় কেন্দ্র খোলার মতো অবস্থা এখনো হয়নি। এ বিষয়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি রয়েছে।’

আরও