খুলনার বাস্তুহারা এলাকার মুক্তিযোদ্ধা কলোনিতে উচ্ছেদ অভিযানের সময় পুলিশের সঙ্গে বাসিন্দাদের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে পুলিশ সদস্য, স্থানীয় বাসিন্দা ও সাংবাদিকসহ অন্তত ৩৫ জন আহত হয়েছেন। রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের দাবি, পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করলে তারা উচ্ছেদ করতে দেবেন না। তারা জানান, শনিবার রাতে এলাকায় মাইকিং করে পরদিন সকালের মধ্যে বাসা ছেড়ে দেয়ার নির্দেশ দেয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ। সেই ধারাবাহিকতায় রোববার সকাল ৮টার দিকে এলাকায় এক্সকাভেটর, বুলডোজার প্রবেশ করে। বন্ধ হয়ে যায় বিদ্যুৎ সরবরাহ। এরপর সেখানে যান পুলিশ সদস্যরা।
এ সময় স্থানীয় মসজিদের মাইক থেকে বাসিন্দাদের রাস্তায় নেমে আসার আহ্বান জানানো হয়। এরপরই লোকজন জড়ো হয়ে পুলিশের সামনে ব্যারিকেড তৈরি করে। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। একপর্যায়ে অভিযানে যাওয়া এক্সকাভেটরের চালককে অবরুদ্ধ করে ফেলেন স্থানীয়রা। পুলিশ তখন টিয়ার শেল ছোড়ে।
জবাবে এলাকাবাসী ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং রাস্তার ওপর টায়ার, গাছের গুঁড়ি ফেলে আগুন জ্বালিয়ে প্রতিরোধ তৈরি করে। উপায় না পেয়ে পিছু হটে পুলিশ। এ সময় এক্সকাভেটর ভাঙচুর করে জনতা। এ ঘটনায় পুলিশ সদস্য, স্থানীয় বাসিন্দা ও সাংবাদিকসহ অন্তত ৩৫ জন আহত হয়েছেন।
খালিশপুর থানার ওসি মীর আতাহার আলী জানান, সকালে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। ঘটনাস্থলে পুলিশ, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের যুগ্ম সচিবসহ অন্য কর্মকর্তারা ছিলেন। আমরা সতর্ক করলেও বাসিন্দারা সরেননি।
তিনি আরো বলেন, আমরা একটু এগোতে গেলে ইটপাটকেল ছোড়া শুরু হয়। এ সময় তিনিসহ পুলিশের ১৪ জন আহত হন। এর মধ্যে তিনজন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। অভিযান স্থগিত করে ফিরে আসছি। এখন পরিস্থিতি শান্ত আছে।
গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাস্তুহারা নামে পরিচিত ওই এলাকা মূলত ‘বয়রা আবাসিক এলাকা’। সেখানে প্রায় ৩০ একর জায়গা রয়েছে। এর মধ্যে সি ব্লকে তাদের ৫৫টির মতো প্লট আছে, যেগুলো ১৯৮৭ সালে স্থায়ী বরাদ্দ দেয়া হয়। এর মধ্যে ৪২টি প্লট বেদখল হয়ে হয়ে যাওয়ায় ৩৮ বছর ধরে তারা প্রকৃত মালিকদের সেগুলো বুঝিয়ে দিতে পারেনি। বিভিন্ন সময় পাঁচ দফায় উচ্ছেদ করতে গেলেও রাজনৈতিকসহ নানা কারণে দখলদারদের সরানো যায়নি।
গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী জিয়াউর রহমান বলেন, বয়রা আবাসিক এলাকার সি ব্লকের ৪২টি প্লট দখলদারের দখলে। আগে অনেকবার চেষ্টা করেও দখলদার উচ্ছেদ করে প্লট বুঝিয়ে দেয়া যায়নি। আজ সকালে উচ্ছেদ অভিযানে গেলে বাধার সম্মুখীন হই।
তিনি আরো বলেন, উচ্ছেদ অভিযানের সময় আমাদের কয়েকজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আপাতত উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত করা হয়েছে।