ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী রেখে যেতে হলে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। বাংলাদেশে সার্কুলার ইকোনমি, রিসাইক্লিং, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি এবং সম্পদের দক্ষ ব্যবহারে আমরা বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছি। টেকসই উন্নয়ন আমাদের দর্শনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রকৃতি, পরিবেশ ও মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেই কেবল শিল্প খাতের প্রকৃত অগ্রগতি সম্ভব। তাই নতুন শিল্প স্থাপনের পরিকল্পনা থেকে শুরু করে উৎপাদনের প্রতিটি পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার জলবায়ু ও মানুষের জীবনযাত্রাকে বিবেচনায় নেয়া হয়।
আমাদের একটি কাগজ কারখানা উদ্বোধন হয় ২০০৭ সালের দিকে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পরিত্যক্ত কাগজ ও কার্টন সংগ্রহ করে পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে এ শিল্পে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। আমরা বেশ কয়েকজন ঠিকাদার নিয়োগ করেছি, যারা বিভিন্ন এলাকা থেকে কাগজ সংগ্রহ করেন। আগে এ ধরনের সংগ্রহ কার্যক্রম মূলত ঢাকাকেন্দ্রিক ছিল। এখন খুলনা, বগুড়া, বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে কাগজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। সেগুলো কারখানায় এনে পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করে কার্টন ও অন্যান্য শিল্পে ব্যবহারযোগ্য করা হয়।
এ উৎপাদন প্রক্রিয়ায় যে বর্জ্য তৈরি হয়, তার একটি অংশও জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। অর্থাৎ বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করে আমরা একদিকে অর্থনৈতিক সুবিধা পাচ্ছি, অন্যদিকে পরিবেশের জন্যও কাজ করছি।
প্লাস্টিক বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের ক্ষেত্রেও মেঘনা গ্রুপ কাজ করছে। বাজার থেকে ক্ষুদ্র সংগ্রহকারীদের মাধ্যমে প্লাস্টিক বোতল ও অন্যান্য প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়। সেগুলোর কিছু আমরা নিজেরা ব্যবহার করি, আর কিছু ক্ষেত্রে অন্য কারখানাকে সহায়তা করি। আমরা ইউরোপে বড় আকারের জাম্বো ব্যাগ রফতানি করি। কয়েক বছর ধরে ক্রেতারা এসব ব্যাগে পুনর্ব্যবহৃত উপাদান ব্যবহারের বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে প্রতি টনে ২০ ডলারের বেশি প্রণোদনার কথাও বলা হয়েছে। আমাদের কিছু পণ্যে পুনর্ব্যবহৃত উপাদান ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে বলতে পারি, সিমেন্টসহ বিভিন্ন পণ্যের জন্য ব্যবহৃত পুরনো ব্যাগ সংগ্রহ করে পরিষ্কার করা হয়। সেখান থেকে প্লাস্টিকের দানা তৈরি করে নতুন ব্যাগ উৎপাদন হয়। ইউরোপে রফতানির ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট অংশ পুনর্ব্যবহৃত উপাদান দিয়ে তৈরি করতে হয়। ২০ শতাংশের পরিবর্তে ৩০ শতাংশ ব্যবহার করতে পারলে আরো বেশি প্রণোদনা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। আমরা সেই সুযোগ কাজে লাগানোর চেষ্টা করছি।
আন্তর্জাতিক অর্থায়নে আমাদের একটি রাইস মিল রয়েছে, যার উৎপাদনক্ষমতা প্রায় এক হাজার টন। সেখানে ধানের তুষ থেকে তেল আহরণ করা হয়। তেল আহরণের পর অবশিষ্ট অংশ পোলট্রি খাদ্যসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়। আগে ধানের তুষের একটি বড় অংশ অব্যবহৃত থাকত। এখন বিশেষ করে বড় ও স্বয়ংক্রিয় রাইস মিলগুলোয় তুষের ব্যবহার বাড়ছে। ফলে বর্জ্য হিসেবে একে পরিবেশে ফেলে দেয়া কমানো সম্ভব হচ্ছে।