সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, দেশের কোথাও সারের কোনো ঘাটতি বা কমতি নেই। যারা সারের ডিলার আছেন তাদের কেউ কেউ হয়তো সঠিকভাবে বণ্টন করেন না, একটু অমিল করেন, তখনই সমস্যা হয়। সারের জন্য কাউকে অতিরিক্ত টাকা-পয়সা দেবেন না। সরকার নির্ধারিত যে দাম আছে, সেই দামই দেবেন।
আজ শুক্রবার সকাল ১১টায় দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার রতনপুর স্কুল মাঠে উপজেলা বিএনপি ও সব সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে এবং খানপুর ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, কেউ কেউ বলে বেড়ায়, সার পাওয়া যায় না, সার পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু আমি আসার সময় যত ধানক্ষেত দেখলাম এত সুন্দর সবুজ, সবুজ অর্থ হলো সার ঠিকমত দেয়া আছে। যেখান থেকেই দেখেন, সার পাওয়া যাচ্ছে। কোনো কোনো জায়গায় হয়তো সারের দাম একটু বেশি নেয়ার চেষ্টা করেছে। কৃষকরা যাতে সবাই সঠিকভাবে সার পান, সেজন্য সরকার বর্তমানে যারা সারের ডিলার আছে, পাশাপাশি প্রতিটি ইউনিয়নে নতুন করে সারের ডিলার আবার নিয়োগ করার উদ্যোগ নিয়েছে। এই ডিলাররা আরো দুজন করে তাদের বিক্রয় প্রতিনিধি নিয়োগ করবে। অর্থাৎ একটা ইউনিয়নে দুজন আছে, একজন নতুন মিলিয়ে হবে তিনজন, আর তাদের ছয়জন বিক্রয় প্রতিনিধি থাকবে। তারা আপনাদের কাছে সার বিক্রি করবেন।
তিনি আরো বলেন, এখন থেকে কে কতটুকু সার তুলছে, কোন ইউনিয়নে কতটুকু সার দেয়া হচ্ছে, এগুলো যাতে আপনারা পড়তে পারেন, দেখতে পারেন, সে অনুযায়ী বিভিন্ন জায়গায় এ তথ্যগুলো টাঙিয়ে দেয়া হবে। কৃষক যাতে বুঝতে পারেন কে সার তুলছে, কে সার তোলেনি। এছাড়া ইউনিয়ন পর্যায়ে সহকারী কৃষি কর্মকর্তা যারা আছে, তাদেরও আমরা পরিবর্তন করছি, যাতে ওনারা আপনাদের কাছে আরো সঠিকভাবে তথ্য উপস্থাপন করতে পারেন। যাতে সার বিতরণে কোনো সমস্যা না হয়, সার নিয়ে কেউ সরকার কে বা আপনাদেরকে বেকায়দায় ফেলতে না পারে, সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।
তিনি বলেন, সরকারের বয়স এখনো ৭ মাস পূর্ণ হয়নি, কয়েকদিন পর হবে। কিন্তু এ ৭ মাসের মধ্যেই সরকার কৃষকের যে ১০ হাজার টাকা কৃষি ঋণ ছিল প্রথম মিটিংয়েই তা সুদসহ মাফ করা হয়েছে। আমরা বলেছি, আমাদের মা-বোনদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচি চালু করা হবে। আমরা প্রথম তিন মাস পাইলটিং করেছি। এখন এ সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে সারা দেশে আপনাদের সবার পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এরপরে অক্টোবরের মধ্যবর্তী সময় থেকে আপনাদের সমস্ত পরিবারই যাদের পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট পরিবার উনারা ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। কেউ ফ্যামিলি কার্ডের আওতার বাইরে থাকবে না। যারা বড়লোক, যারা মধ্যবিত্ত, উচ্চবিত্ত- তারা এ সুবিধা পাবে না। কিন্তু যারা গরীব, দুস্থ, নিম্নবিত্ত, হত-দরিদ্র যারা রয়েছেন, তারা পাবেন।
তিনি বলেন, এ বছর আপনারা যেমন সারের জন্য দৌড়াদৌড়ি করেছেন, আগামী বছর থেকে কৃষক কার্ড পাওয়ার পর আপনার যে সার প্রয়োজন, যে বীজ প্রয়োজন, যে বালাইনাশক ঔষধ প্রয়োজন, আপনার যে কৃষি লোনের প্রয়োজন- এগুলোর জন্য দৌড়াদৌড়ি করতে হবে না। কারো রেফারেন্স লাগবে না। আপনার যে কৃষক কার্ড, সেটাই আপনাকে দেবে। এই যে আমাদের মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং খতিবরা আছেন, অথবা মন্দিরের পুরোহিত আছেন, অথবা গির্জার-চার্চের যাজক আছেন- উনাদেরকেও যাতে সামাজিকভাবে সম্মানিত করা যায়, সেই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী চার বছরের মধ্যে দেশের প্রত্যেকটা মসজিদ, মন্দির, গির্জায় যারা কর্মরত রয়েছেন, তাদেরকে আর্থিক প্রণোদনা বা সহায়তা প্রদান করা হবে।
তিনি আরো বলেন, আগামী বছর থেকে দেশের প্রতিটি প্রাইমারি স্কুলের বাচ্চাদের দুপুরের খাবার সরবরাহ করা হবে। অর্থাৎ আমরা চাই, আমাদের ছেলে-মেয়েরা যারা স্কুলে যাবে, তারা পড়াশোনার পাশাপাশি দুপুরের যে খাবারটা সেটা স্কুল থেকে সরবরাহ করা হবে। আজকে মেয়েদের যেমন স্কুলে পড়া, তাদের ভর্তি, বেতন, বই বলেন এগুলো বিনা পয়সায় টুয়েলভ ক্লাস পর্যন্ত, আর যারা ভালো পড়াশোনা করে তাদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিনা পয়সায় পড়াশোনার ব্যবস্থা করা হবে। বাচ্চাদের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাবে বা আটকে যাবে- এটা যাতে না হয়, সেটা বর্তমান সরকার নিশ্চিত করতে চায়। যারা অর্থের জন্য চিকিৎসা করাতে পারছেন না, আপনাদের চিকিৎসার ব্যাপারে বর্তমান সরকার খুবই আন্তরিক। কোনো মানুষ অর্থের অভাবে বিনা চিকিৎসায় কষ্ট পাবে সেটি যাতে না হয়, আমাদের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা কোনো অবস্থাতেই বিনা চিকিৎসায় কেউ কষ্ট পাবে, এটা হতে দিতে চাই না।
খানপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তোবারক আলী মন্ডলের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জুয়েলের সঞ্চালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মামুন, সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর এলাহী চৌধুরী রুবেলসহ অনেকে।