অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার (ওইসিডি) নতুন এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩-২৭ সালের মধ্যে বৈশ্বিক বহুপক্ষীয় উন্নয়ন অর্থায়ন ২৩-৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।
গতকাল সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) ও অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (ওইসিডি) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘ওইসিডি বহুপক্ষীয় উন্নয়ন অর্থায়ন ২০২৬ প্রতিবেদন (এমডিএফআর): দক্ষিণ এশিয়ার দৃষ্টিভঙ্গি’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল সেমিনারে এমডিএফআর ২০২৬ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
সেমিনারে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ‘প্রতিবেদনটিকে শুধু কমে আসা সহায়তার সতর্কবার্তা হিসেবে দেখলে হবে না বরং এটিকে “আগামী কয়েক দশকে উন্নয়ন কীভাবে অর্থায়িত হবে, তা পুনর্বিবেচনার আহ্বান” হিসেবে দেখতে হবে। এখানে দেখতে হবে ভূ-অর্থনীতি ও ভূরাজনীতি। আমাদের উন্নয়নযাত্রার সঙ্গে এটি গুরুত্বপূর্ণ।’
সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুনের উপস্থাপনায় সেমিনারে এমডিএফআর ২০২৬-এর ফলাফল উপস্থাপন করেন ওইসিডির এমডিএফআর ২০২৬-এর সহলেখক লিওনার্দো আলতিয়েরি। তিনি বলেন, ‘বহুপক্ষীয় উন্নয়ন অর্থায়ন ব্যবস্থা সম্পদ সংকোচনের মধ্য দিয়ে “একটি ভিন্ন পর্যায়ে” প্রবেশ করছে। ২০২৪ সালে মূল ও নির্দিষ্ট খাতভিত্তিক উভয় ধরনের অবদান কমেছে। ফলে এক বছরেই প্রায় ১৫ শতাংশ অর্থায়ন কমে গেছে।’
ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘বহুপক্ষীয় উন্নয়ন অর্থায়ন এখন একটি নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি। কয়েক দশক ধরে বহুপক্ষীয় উন্নয়ন অর্থায়ন ব্যবস্থার পরিধি বিস্তৃত হয়েছে, অর্থায়নের পরিমাণ বেড়েছে এবং এর পেছনে রাজনৈতিক সমর্থনও শক্তিশালী হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে এ বহুপক্ষীয় উন্নয়ন অর্থায়ন ব্যবস্থা আর্থিক, রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক—তিন ধরনের চাপের মধ্যে রয়েছে।’
আরেক সহলেখক মারিয়াস গেরাঁ বলেন, ‘২০২৪ সালে বহুপক্ষীয় অর্থায়নের বহিঃপ্রবাহ প্রায় ৩০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছলেও এর আড়ালে “চাপের প্রাথমিক লক্ষণ” রয়েছে।’
সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট পলিসি ইনস্টিটিউটের (এসডিপিআই) নির্বাহী পরিচালক আবিদ কাইয়ুম সুলেরি, সাউদার্ন ভয়েসের গবেষণা ও উদ্ভাবন বিভাগের প্রধান প্রত্যুষ শর্মা, সাউথ এশিয়া ওয়াচ অন ট্রেড, ইকোনমিকস অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের (সাওটি) নির্বাহী পরিচালক পরাস খারেল।