দৌলতদিয়া ঘাটের র‍্যাম ও অ্যাপ্রোচ উঁচু

ফেরিতে যানবাহন ওঠানামায় বেড়েছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি

কয়েক বছরের অব্যাহত ভাঙনের কারণে এখনো বন্ধ দৌলতদিয়ার সাতটি ফেরিঘাটের মধ্যে চারটি।

কয়েক বছরের অব্যাহত ভাঙনের কারণে এখনো বন্ধ দৌলতদিয়ার সাতটি ফেরিঘাটের মধ্যে চারটি। বাকি তিনটি ঘাট দিয়ে চলছে যানবাহন পারাপার। আবার পদ্মায় পানি কমার ফলে সচল থাকা ঘাটের অ্যাপ্রোচ ও র‍্যাম উঁচু হওয়ায় যানবাহন উঠতে-নামতে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। এছাড়া মাঝ পদ্মায় একখণ্ড চর জেগে ওঠায় ফেরিগুলোকে চলতে হচ্ছে একমুখী পথে। যে কারণে ভোগান্তি নিয়েই চলছে যানবাহন পারাপার। ঘাট কর্তৃপক্ষ বলছে, পদ্মার পানি বাড়লে লাঘব হবে ভোগান্তি। 

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, দেশের অন্যতম প্রধান দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ার নৌরুটের দৌলতদিয়া অংশে সাতটি ফেরিঘাটের মধ্যে চারটি বন্ধ। বাকি ৩, ৪ ও ৭ নম্বর ঘাট দিয়ে চলছে পারাপার। অন্যদিকে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়ায় চারটি ঘাটই রয়েছে সচল। এছাড়া পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর থেকে ওই নৌ-রুটের ফেরিগুলো দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌ-রুটে নিয়ে আসায় ফেরি সংকট কমেছে। 

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাট ঘুরে দেখা যায়, পদ্মায় পানি কমার ফলে সচল থাকা তিনটি ঘাটের র‍্যাম ও অ্যাপ্রোচ সড়ক উঁচু হয়ে যাওয়ায় ট্রাক-বাসসহ যাত্রীবাহী যানগুলোকে ঝুঁকি নিয়ে ফেরিতে ওঠানামা করতে হচ্ছে। এতে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা, নষ্ট হচ্ছে গাড়ির যন্ত্রাংশ।

যশোর থেকে আসা ঢাকাগামী পণ্যবাহী ট্রাকের চালক লিটন মিয়া বলেন, ‘সামান্য বৃষ্টি হলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ফেরিতে ওঠানামা করতে হয়, ঘাট এলাকায় তৈরি হয় লম্বা সিরিয়াল। আসছে ঈদের আগে ঘাট মেরামত না করা হলে আরো ভোগান্তি হবে।’

কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা পণ্যবাহী ট্রাকের চালক টুটুল শেখ বলেন, ‘গত সপ্তাহে ঢাকা থেকে আসার পথে ৭ নম্বর ঘাটে নামার পর মূল সড়কে উঠতে গিয়ে ট্রাকের এক্সেল ভেঙে যায়। সাড়ে ৪ হাজার টাকা র‍্যামের ভাড়া দিয়ে ট্রাকটিকে টেনে তুলি। এরপর এক্সেলের কাজ করানোর পর ফরিদপুর পৌঁছাই। আবার ঢাকায় যাচ্ছি। ঘাটটি এখন যানবাহন চালকদের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা দেখার মতো কেউ নেই।’

ফরিদপুর থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী প্রাইভেটকার চালক পারভেজ বলেন, ‘‌সামান্য বৃষ্টি হলে তো কথাই নেই। চাকা স্লিপ করে গাড়ি পদ্মার দিকে চলে যায়। সে সময় যাত্রী দিয়ে ধাক্কা দিয়ে এ্যাপ্রোচ সড়ক থেকে মূল সড়কে আসতে হয়। কয়েকদিন পরে ঈদ। এখনই ঘাটের সমস্যা সমাধান করা প্রয়োজন। না হলে ঈদযাত্রায় ভোগাবে নৌ-রুটটি।’

ফেরি কেরামত আলীর মাস্টার (চালক) মো. বিল্লাল মিয়া বলেন, ‘পদ্মার ঠিক মাঝখানে দ্বীপের মতো জেগে উঠেছে একটি চর। যে কারণে দুই পাশে দুটি চ্যানেল তৈরি করা হয়েছে। যেগুলো একমুখী। এ চ্যানেলে একসঙ্গে দুটি ফেরি ক্রসিং করতে সমস্যা হচ্ছে। আবার রাতের বেলায় ফেরিগুলো চালাতে হচ্ছে সাবধানতার সঙ্গে।’

বিআইডব্লিউটিএ দৌলতদিয়া ঘাটের দায়িত্বে থাকা সহকারী প্রকৌশলী শাহ-আলম বলেন, ‘প্রতি বছরই মার্চের শেষে কিছু দিন পানি কমার কারণে সমস্যা হয়। তবে ১৫ দিন পর পানি বাড়লে ঘাট স্বাভাবিক হবে। আশা করছি ঈদের আগে পানি বেড়ে হাই ওয়াটারে গেলে আর দুর্ভোগ থাকবে না।’

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয়ের সহকারী ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মো. আলীম দাইয়ান জানান, এটি একটি প্রাকৃতিক সমস্যা। শুষ্ক মৌসুমে পদ্মায় পানির স্তর নেমে যাওয়ার কারণে এ সমস্যা সৃষ্টি হয়। তবে ফেরি থেকে নেমে এসে কোনো যানবাহন যদি অ্যাপ্রোচ সড়কে আটকা পড়ে, দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের রেকার দিয়ে সেটিকে উদ্ধার করা হয় এবং ফেরিতে যানবাহন ওঠানামা স্বাভাবিক রাখা হয়। বর্তমানে এ নৌ-রুটে পর্যাপ্ত ফেরি রয়েছে।

আরও